1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
দীর্ঘজীবনের রহস্য জানুন, দীর্ঘদিন বাঁচুন বিদেশে পড়তে যাওয়ার মোড়কে আত্মপ্রতারিত হওয়ার গোমড় ফাঁস! Tiger 3 BO Prediction: শাহরুখকে টেক্কা, প্রথমদিনই ১০০ কোটি ছোঁবে সলমনের ‘টাইগার ৩’! দিওয়ালিতে মহাধামাকা জয়-পরাজয়ের রহস্য সমস্যার সমাধান করবেন কীভাবে? যে-কোনো কাজ ভালোভাবে করবেন কীভাবে? টাইগার 3 রিলিজের আগে, YRF স্পাই ইউনিভার্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করবে এক থা টাইগার, টাইগার জিন্দাহ্যায়, পাঠান এবং ওয়ার বড় পর্দায় ফিরে আসছে! বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে *হালাল জীবিকার উপর সন্তুষ্ট থাকা।*  “হুসনুল খুলুক”সুন্দর চরিত্র এবং চরিত্রবান হওয়ার উপায়  

পৃথিবীজুড়ে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই’— চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও লেখক ডা. হুমায়ূন কবির

  • সময় মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৫২০ বার দেখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে আমার এক মৃত্যুপথযাত্রী রোগী স্বেচ্ছায় লাইফ সাপোর্টে যেতে চাইলেন, যদিও আগেই তার পক্ষ থেকে বলা ছিল—কখনো যেন তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া না হয়। শেষমুহূর্তে তার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ হলো, ছেলের সাথে তার দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি চাচ্ছিলেন ছেলেটা তাকে হাসপাতালে দেখতে আসা পর্যন্ত তিনি যেন বেঁচে থাকতে পারেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন চার্চের একজন যাজক। অবশ্য কয়েকদিন পরই তিনি কিছুটা সেরে ওঠেন এবং তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এরপর হঠাৎ একদিন হাসপাতাল থেকে ফোন এলো আমার বাসায়। সেদিন আমি সস্ত্রীক এক জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছিলাম। ফোনে জানতে পারলাম, আমার সেই রোগী মৃত্যুশয্যায় এবং তিনি আমাকে তার পাশে চান। স্ত্রীকে বললাম, ‘আজ আমার আর কোথাও যাওয়া হবে না! আমাকে আমার এক রোগীর কাছে যেতে হবে।’

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হাসপাতালে গিয়ে যখন তার পাশে বসলাম, তিনি আমাকে ফিসফিস করে তার শেষ ইচ্ছাটা জানালেন—‘আমি তোমার হাতটা ধরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই!’

আরেকটি অভিজ্ঞতার কথা বলব। টেনেসির জেলিকোতে আমেরিকান এক নার্স আমার কাছে এসে বললেন, তুমি যে বাংলাদেশি এটা জেনে আমার খুব ভালো লেগেছে। কিছুটা বিস্মিত হয়ে এর কারণ জানতে চাইলাম। তিনি জানালেন, বাংলাদেশের দুটো শিশু তার খরচে পড়ালেখা করছে, বড় হচ্ছে!

ঘটনাটি আমাকে খুব নাড়া দিল—কত দূরের দেশ আমেরিকা থেকে তিনি অর্থ পাঠাচ্ছেন বাংলাদেশের দুটো শিশুকে সুন্দর ভবিষ্যৎ দেয়ার জন্যে! এই যে মানবিক স্পর্শ, এটা সব দেশে সবখানে একইরকম।

এমন অনেক অভিজ্ঞতায় আমি জেনেছি, পৃথিবীজুড়ে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে আর আমেরিকায় বসবাসরত দুজন মানুষের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে বলে আমার মনে হয় না। পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, মানুষ হিসেবে আমরা প্রত্যেকে একই।

৭ জানুয়ারি ২০২৩ শনিবার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত বছরের প্রথম মুক্ত আলোচনায় (১১২ তম পর্ব) এ কথাগুলো বলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, ঘুম বিশেষজ্ঞ, লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিস্থ জেলিকো কমিউনিটি হসপিটালের ডিপার্টমেন্ট অব কার্ডিও-পালমোনারি সার্ভিসেস এন্ড আইসিইউ-র ডিরেক্টর এবং অ্যাপালেচিয়ান স্লিপ ডিসঅর্ডারস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ডা. হুমায়ূন কবির।

আলাপচারিতার আঙ্গিকে সাজানো এ পর্বে সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সূচনার পথিকৃৎ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ।

ডা. হুমায়ূন কবির বলেন, প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষই জন্মমুহূর্ত থেকে অন্যের সাহায্য নিয়ে বেড়ে ওঠে। তাই বলা যায়, জন্মের পর থেকেই আমরা পরাধীন এবং অন্যের কাছে ঋণী। আবার বার্ধক্যেও আমাদেরকে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। মধ্যবয়সে যদিও কিছুটা স্বাধীন, কিন্তু এসময় আমরা আসলে অধিকারের কেনাবেচা করি অর্থাৎ লেনদেন করার চেষ্টা করি। অন্যদের ঋণশোধ করার এই চেষ্টাই জীবন।

তিনি আরো বলেন, আমার প্রথম প্রকাশিত বই তীর্থযাত্রী তিনজন তার্কিক লেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি—জীবনের বড় প্রশ্নগুলো সামনে রাখাই যথেষ্ট। উত্তর ধরিয়ে দিতে নেই। যদি আপনাকে ম্যাপ দিয়ে দেয়া হয়, আপনার পথচলা সহজ হবে কিন্তু আরো যে-সব অনিশ্চয়তা থাকতে পারে, সেটা সম্পর্কে আপনার জানা হবে না। তাই গন্তব্যটা বড় কথা নয়, বরং গন্তব্যের পথে হাঁটাই বড় কথা।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শেষে ডা. হুমায়ূন কবিরের তীর্থযাত্রী তিনজন তার্কিকপারস্য পরবাসেআমার রোগী বন্ধুরাবানর ও মানুষের গল্প এবং ঘুম নিয়ে কিছু কথা—এ পাঁচটি বই বিশেষ মূল্যছাড়ে সংগ্রহ করার সুযোগ পান উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি বইগুলোতে লেখকের অটোগ্রাফ সংগ্রহেরও সুযোগ পান তারা।

মুক্ত আলোচনার এ পর্বটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঢাকাসহ সারাদেশে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ৫০টি সেন্টার-শাখা-সেলে। এসব ভেন্যু থেকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে এবারই প্রথম মুক্ত আলোচনার কোনো পর্ব সরাসরি দেখা ও শোনার সুযোগ পান কোয়ান্টাম পরিবারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য।

প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

হুমায়ূন কবির :

১৯৫৬ সালের ১৬ নভেম্বর কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার চরনাল গ্রামে তার জন্ম। বাবার চাকরিসূত্রে তার শৈশব-কৈশোর কাটে সিলেটের একাধিক মফস্বল শহরে। বাংলাদেশের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজে। এরপর বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশ বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অতঃপর চাকরিসূত্রে পাড়ি জমান ইরানে। দুবছর ওখানে অবস্থান করার পর উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাকাজে দীর্ঘকাল কাটান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, শিকাগো, সানফ্রান্সিসকো ও বোস্টন এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। ইনটার্নাল মেডিসিন, পালমোনারি মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ও স্লিপ মেডিসিন চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ চারটি শাখায় ‘আমেরিকান বোর্ড সার্টিফাইড’ হওয়ার বিরল সাফল্য অর্জন করেন ডা. হুমায়ূন কবির।

চিকিৎসক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন টেনেসি অঙ্গরাজ্যের অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার পাদদেশের নৈসর্গিক শহর জেলিকোর স্থানীয় হাসপাতালের কার্ডিও-পালমোনারি ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর হিসেবে। বর্তমানে তিনি জেলিকো কমিউনিটি হসপিটালের ডিপার্টমেন্ট অব কার্ডিও-পালমোনারি সার্ভিসেস এন্ড আইসিইউ-র ডিরেক্টর এবং টেনোভাইস্ট টেনেসি সিস্টেমের দুটো হাসপাতালের আইসিইউ-র ডিরেক্টর। এ-ছাড়াও তিনি আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস, আমেরিকান কলেজ অব চেস্ট ফিজিশিয়ানস, সোসাইটি অব ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন, আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব ওবেসিটি মেডিসিনের একজন সম্মানিত ফেলো।

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে প্রায় দুদশক তিনি সেবা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের প্রান্তিক শহর জেলিকো-র বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জেলিকো শহরের যে এলাকায় তার চিকিৎসাকেন্দ্র, সেখানকার বাসিন্দাদের প্রস্তাব ও অনুমোদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন সে অ্যাভিনিউর একটি শাখাকে সরকারিভাবে ‘কবির লেন’ নামে নামাঙ্কিত করে, যা বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের জন্যে যুগপৎ গৌরব ও সম্মানের।

চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. হুমায়ূন কবির একজন স্বনামধন্য নিদ্রা বিশেষজ্ঞ। টেনেসির জেলিকো শহরে তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ‘অ্যাপালাচিয়ান স্লিপ ডিসঅর্ডারস সেন্টার’, যেখানে ঘুম নিয়ে নানা সমস্যাক্রান্ত মানুষ তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা পেয়ে থাকেন। এ-ছাড়াও তিনি অ্যাপালাচিয়ান হেলথ সার্ভিসেস নামের বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান এবং কবির ক্লিনিক ফর স্পেশালিটি মেডিসিন নামের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্ণধার।

পেশাগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সিকি শতাব্দীকাল ধরে বসবাস করলেও নিজের দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি মমতা ও কর্তব্যবশত তিনি বছরে দুবার বাংলাদেশে আসেন। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেন। ব্যবস্থা করেন জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্যে শিক্ষাবৃত্তির। ঢাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ঘুম চিকিৎসাকেন্দ্র’।

একজন বাঙালি হয়ে বিদেশের মাটিতে সাফেল্যের সাথে জীবনযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদেশে আমি যত বাঙালি দেখি কোনোভাবেই তাদের অলস বা কম পরিশ্রমী বলা যায় না। জীবন থেকে নেতিবাচকতা যদি বাদ দিতে পারি, তাহলে আমি মনে করি, আমরা যেখানেই থাকি না কেন সাফল্যের জন্যে আমাদের কোনো বাধা নেই।’

কর্মব্যস্ত চিকিৎসক জীবনের পাশাপাশি ডা. হুমায়ূন কবিরের আরেকটি পরিচয় তিনি সমকালের একজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মী। একাধারে তিন কবি, লেখক এবং আন্তর্জাতিক বাংলাভাষী সাহিত্যপত্রিকা ঘুংঘুর-এর উদ্যোক্তা ও সম্পাদক। পেশাগত কারণে লেখালেখিতে দীর্ঘ ৩০ বছরের বিরতি শেষে ২০১৩-তে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই তীর্থযাত্রী তিনজন তার্কিক। মননশীল দর্শন ঘরানার এই অসামান্য বইটি বাংলাদেশ এবং একইসাথে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয় এবং দুই বাংলাতেই সমান পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। পরের বছরই প্রকাশিত হয় ঘুম নিয়ে সহজ বাংলায় রচিত ঘুম নিয়ে কিছু কথা এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তার উপন্যাস এক জীবনের কথা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে বিপ্লবোত্তর ইরানে কাটানো দুই বছরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা তার আলোচিত উপন্যাস পারস্য পরবাসে। তার লেখা মোট গ্রন্থের সংখ্যা ১০টি। নিজের ছোটগল্প স্বপ্নচোর-এ তিনি লিখেছেন—‘…… মানুষ মাত্রই স্বপ্নভুক। স্বপ্নের জন্যেই বেঁচে থাকে মানুষ। স্বপ্নহীন জীবন মানেই এক ধরনের মৃত জীবনযাপন।’

জীবন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুরাগী ডা. হুমায়ূন কবির চিকিৎসক হিসেবে প্রকৃতই কতটা মানবিক, ডাক্তার-রোগীর পোশাকি সম্পর্কের দেয়াল পেরিয়ে রোগীদের প্রতি কতটা সদয় ও সমমর্মী, সেই পরিচয় মেলে নিজের রোগীদের নিয়ে তার অনুভূতি-সংকলন আমার রোগী বন্ধুরা গ্রন্থে।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »