1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ১১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি লাভকারি হামীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টস কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে থমকে আছে সারাদেশ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা ভক্তদের কাঁদিয়ে ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছেন দি মারিয়া কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ পুলিশও মামলা করলো কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বৈঠক সংসদে আইন পাস না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে রাষ্ট্রপতির জেলায় এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মো. আ. আহাদ

জন্মদিনকে কর্মদিন হিসেবে স্মরণীয় করে রাখুন

  • সময় রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৩
  • ৪৩২ বার দেখা হয়েছে

 পরম করুণাময়ের কাছে কৃতজ্ঞতা। আজকে আমাদের জন্যে একটি আনন্দের দিন। শুধু আজকে কেন, এই মার্চ মাসটিই আমাদের জন্যে আনন্দের মাস। এই মাসে ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই মাসে স্বাধীনতার জন্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করি এবং আমাদের স্বাধীনতা দিবসও এই মাসে। আর আজকের দিনটি আনন্দের কেন? কারণ আজকের এই দিনে ১৯২০ সালে জাতির পিতা জন্মগ্রহণ করেন। এই শুভক্ষণে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

অনন্ত প্রশান্তি কামনা করছি তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের জন্যে। আমরা প্রত্যেকে আমাদের পৃথিবীতে আসার জন্যে যে দুজন মানুষের কাছে ঋণী, তারা হলেন আমাদের মা এবং বাবা। আজকের বিশেষ মেডিটেশনে আমরা আমাদের মা-বাবাকে অনুভব করার চেষ্টা করেছি/ করব হৃদয়ের গভীর থেকে। আসলে আমাদের জীবনে মা-বাবা কত বড় ভূমিকা রাখেন, তা হয়তো অনেক সময় তারা কাছে থাকতে বা বেঁচে থাকতে আমরা বুঝি না, বুঝি তাদের ছায়া যখন মাথার ওপর থেকে সরে যায় তখন।

এক মা তার শিশুপুত্রকে যখন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলেন, তখন শুনলেন যে তার শিশুটি কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে। মা শিশুটিকে এসব কিছু না বলে পরদিন থেকেই তার সাথে কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলা খেলতে শুরু করলেন। শুধু মাঠে না, ঘরের মধ্যেও প্রতিদিন কানামাছি খেলা চালাতে লাগলেন। ঘরে যখন শিশুটি খেলে, মা খেলার একপর্যায়ে বলতে থাকেন যে রুমের ফ্যানটা ছেড়ে দাও। বাথরুমের দরজা লাগিয়ে দাও। এক গ্লাস পানি এনে দাও। ছেলেটি প্রথম প্রথম হোঁচট খেলেও ধীরে ধীরে বেশ পারদর্শী হয়ে উঠল চোখ বাঁধা অবস্থাতেও ঘরের জিনিসপত্র আনা-নেয়ার কাজে। শুধু তা-ই নয়, চোখ বাঁধা অবস্থাতেই লেখালেখি করা, বই বের করা, টাকা চেনা-এসব ট্রেনিংও মা তাকে দিয়েছেন। বছর চারেকের মধ্যে ছেলেটি প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়ল। তাতে কী? তার কোনো কাজ থেমে থাকে নি। সে ততদিনে চোখ বাঁধা অবস্থাতেই প্রায় সব কাজ শিখে নিয়েছে। এখন কিশোর ছেলেটি বোঝে যে, কেন তার মা প্রতিদিন তার সাথে কানামাছি খেলতেন।

আমাদের সবার মা হয়তো আমাদের সাথে কানামাছি খেলেন নি, কিন্তু অন্য কোনো না কোনোভাবে আমাদের জীবন, অস্তিত্ব জুড়ে আছে তাদের অবদান। সেইসব মা ও বাবার প্রতি রইল সালাম, শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও অভিনন্দন। সেইসাথে অভিনন্দন জানাতে চাই কোয়ান্টাম পরিবারের সেইসব সদস্যদেরকে আজ যাদের জন্মদিন। কেউ কি আছেন? মেহেরবানি করে যদি দাঁড়াতেন … এই মাসে কার কার জন্মদিন ছিল? …. অনেক ধন্যবাদ।

সবাইকে শুভ জন্মদিন। শুভ জন্মদিনে নিশ্চয়ই কোনো একটি ভালো কাজ আমরা করেছি, যেটি আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছিল। সেটিকে মনে রাখতে চাই। এই আনন্দ বার বার পেতে শুধু জন্মদিনে নয়, প্রতিটি কর্মদিনে এমন কিছু কাজ করতে চাই, যে কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের উপলব্ধির পুনর্জন্ম যেন হয়-সে প্রার্থনাই আমরা করছি।

তবে শুধু কাজ করলেই হবে না, কাজের হিসাবও রাখতে হবে। মহান আল্লাহতায়ালার কাছেও আমাদের প্রতিটি কাজের হিসাব রাখা হচ্ছে। যদি আমরা নিজেরা নিজেদের কাজের হিসাব রাখি, তাহলে শেষ বিচারে হিসাব মেলানো অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর গত ৮ মার্চ ঢাকার কাকরাইলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ওয়ার্কশপে শ্রদ্ধেয় গুরুজী তাদেরকে বলেছেন প্রতিদিন নিজেদের ডায়েরিতে সারাদিনে করা একটি ভালো কাজের বিবরণ লিখে রাখতে।

আসলে এই অভ্যাস শুধু শিক্ষার্থী কেন, যে-কোনো বয়সী, যে কাউকে ভালো কাজের চিন্তার মধ্যে যেমন রাখবে, তেমনি বাস্তবে প্রতিদিনের চেয়ে তার পরদিন আরো ভালো কাজ করতে প্রেরণা যোগাবে। আমরা যে-কেউই এটি করতে পারি, শুরু হতে পারে আজকে থেকেই।

জন্মদিনকে কর্মদিন হিসেবে উদযাপন করে স্মরণীয় করে রাখার ধারণাটি আমাদের এখানে প্রচলিত হওয়া শুরু করেছে মাত্র। কেন শুরু করেছে সে প্রসঙ্গে আসছি একটু পরে। তার আগে দেখি যে, পৃথিবীর আর কোথাও কি এরকমটি হচ্ছে? আমরা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ স্যারকে ধন্যবাদ দেই যে, তিনি একবার মুক্ত আলোচনায় এসে বিষয়টি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলছিলেন যে, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির চর্চা আছে।

রাশিয়াতে পড়ার সময় দেখেছি, লেনিনের জন্মদিন তারা পালন করত রাস্তাঘাট-পার্ক পরিষ্কার করে। নেতার জন্মদিন পালনের কী অভিনব পদ্ধতি! গ্রীষ্মের ছুটিতে রাশিয়ান শিক্ষার্থীরা চলে যেত সাইবেরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে রেললাইন তৈরি করে তারপর যেতে হতো। শিক্ষার্থীরা ওখানে শহর নির্মাণ করে ফিরে আসত। এর মধ্য দিয়ে ওদের হৃদয়ে দেশপ্রেম প্রোথিত হতো-আমি আমার দেশের একটা শহর তৈরিতে অবদান রেখেছি! দেশ জাতি সমাজের প্রতি ভালবাসা গড়ে উঠবে এমন কর্মসূচি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও আসুক আমরা এটাই এখন প্রার্থনা করি।’

আমরা একটা সময় প্রার্থনা করতাম যেন মেডিটেশন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হয়ে যায়। পরম করুণাময় গত বছরের শেষ দিক থেকে এ বছরের শুরুতেই আমাদের জন্যে একের পর এক সুসংবাদ পাঠাচ্ছেন। গত ১ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি ১২৮টি স্কুলে ক্রমান্বয়ে মেডিটেশন শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মাঠে কিংবা ক্লাসরুমে মেডিটেশন করছে কত দরদ দিয়ে, আমরা সে ছবি অনেকেই দেখেছি।

ঠিক একইভাবে আমরা প্রার্থনা করছি, ভাবছি যেন কর্মের মাধ্যমে জন্মদিন উদযাপনের অভিনব ধারণা, ইনশাআল্লাহ একটা সময় সেটিও সার্বজনীন হয়ে যায়। শুধু জাতীয় ব্যক্তিত্বদের জন্মদিনে নয়, সাধারণ মানুষ তার জন্মদিনে দলে-বলে করসেবা (সঙ্ঘবদ্ধভাবে ভালো কাজ) করবেন। আসলে কেন আমরা জন্মদিনকে এভাবে উদযাপন করতে চাচ্ছি। এ প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার করার আগে আমাদেরকে ফিরে তাকাতে হবে জন্মদিন উদযাপনের প্রচলিত রীতিগুলোর দিকে। এভাবে উদযাপন করতে গিয়ে ভুক্তভোগীদের অনুভূতি চলুন আমরা তাদের ভাষ্যে শুনি।

প্রথমজন একজন অভিভাবক। তিনি বলছিলেন যে, কিছুদিন আগে আমাদের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। এতে সবার কাছ থেকে জন্মদিনের গিফট পাবে এটিই ছিল তার প্রত্যাশা। কিন্তু যখন জানল, ফাউন্ডেশনের অনেকের মতো এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের কাছ থেকে আমরা কোনো গিফট নেব না, তখনই সে রেগে গেল। বলল, গিফটও নেবো, কেকও কাটব। তবে গিফটগুলো পরে গরিবদের দিয়ে দেব।

দ্বিতীয়জন একজন ভদ্রমহিলা। তিনি বলছিলেন যে, তখন তার বিয়ের পর স্বামীর সাথে একদিন গেলেন তার চাচার বাসায়। গিয়ে শুনলেন, কিছুদিন পরই নাকি ঐ চাচার দুই ছেলে-মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হবে। তার স্বামী যেন অনেকটা জোর করেই দাওয়াত নিলেন। কারণ তাদের হাবভাবে সেই আপার মনে হয়েছে, তারা বোধ হয় তাদের দাওয়াত করতে চাচ্ছেন না। যা-ই হোক, অনুষ্ঠানে গেলেন কোনো উপহার না নিয়েই। কারণ তখন তার স্বামীর তেমন কোনো উপার্জন ছিল না। আর তাছাড়া তিনি ভেবেছেন, যেহেতু আপনজন তাই উপহার না দিলেও চলবে।

কিন্তু পরে একদিন তাদের বাসায় গিয়ে দেখেন চাচীর মুখ ভার। ওনার চার বছর বয়সী ছেলেটি বলেই ফেলল, ‘ভাইয়া তো আমার জন্মদিনে কিছু না দিয়েই খেয়ে গেছে।’ কিছুদিন আগে সেই আপা তাদের বিবাহবার্ষিকীতে দাওয়াত করলেন। কোনো উপলক্ষের কথা বললেন না, যাতে তারা কোনো উপহার না আনেন। দুটো কারণে এটা তাদেরকে ভীষণ তৃপ্তি দিয়েছে। প্রথমত, তারা দীর্ঘদিনের মানসিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, উপহারের আশা না করে অতিথিকে আপ্যায়ন করার মধ্যে যে নিখাদ আনন্দ আছে সেটাকে অনুভব করেছেন।

আসলে গিফট না নেয়া যেমন সহজ, না দেয়াও তেমনি সহজ। নির্ভর করছে আপনি কতটা দৃঢ়তার সাথে এটাকে গ্রহণ করছেন। যারা বুঝতে পারছি, কাজটা সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে পরিত্যাজ্য, নিন্দনীয় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষতিকর, তারা কেন সাহস নিয়ে দাঁড়াব না? সাহস নিয়ে দাঁড়ান-আপনি জয়ী হবেন।

এক বাবা বলছিলেন, তার মেয়ে বান্ধবীর জন্মদিনে যাবে, বিকেলে এসেই চিৎকার—‘বাবা, কী নিয়ে যাবো? কিছুই তো বুঝতে পারছি না, কী নিয়ে যাবো’? সে জন্মদিনে আনন্দ করবে কী, তার পেরেশানি বা টেনশন হচ্ছে যে, কী নিয়ে যাবে, কী কিনবে। এটা শুধু একজন বাবার কথা নয়, সব বাবা এবং সব ছেলে-মেয়ের ব্যাপার একইরকম।

আসলে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে উপহার আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুব কমই দেই। আমরা দেই বাধ্য হয়ে। আমরা যারাই বিয়ে বা জন্মদিনে গিফট দেই, আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমার ছেলের বা মেয়ের বিয়েতে এরকম আসবে। যাকে গিফট দেয়া হয় তিনি আবার লিস্ট করে রাখেন যে, অমুক এই দিয়েছিল।

অন্তত সেই মানের বা তার চেয়ে বেশি হলেও তাকে দিতে হবে। এই দেয়াটা হচ্ছে লোক দেখানো, এই দেয়াটা হচ্ছে প্রতিযোগিতা, যা স্রষ্টার কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়। কোরআনের শিক্ষা অনুসারে যে দান দাতার কষ্টের কারণ হয় সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পরিত্যাজ্য। নীতিগতভাবেই আমরা এখন থেকে এই ধরনের গিফট দেয়া বা নেয়া বর্জন করতে পারি। বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, আকিকা, সুন্নতে খতনা ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিফট দেয়াকে আমরা সামাজিক ব্যাধি মনে করি। কারণ এটি সামাজিক সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা অনভিপ্রেত চাপ সৃষ্টি করে। বাধা হিসেবে কাজ করে।

আমরা যারা কোয়ান্টামে এসেছি নিঃসন্দেহে আমরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে সাহসী মানুষ। আমরা প্রচলিত স্রোতের বিপক্ষে বলেই আমরা একত্রিত হয়েছি। প্রচলিত স্রোত যা বলছে কোনোটার মধ্যেই আমরা নেই এবং আমাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ১৯৯৩ সালে আমরা যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, তখন আমাদের সবাই পাগল বলেছিল। আমরা তখন বলেছিলাম যে, মেডিটেশন হচ্ছে বিজ্ঞান, আমাদের চারপাশের যে চাপ, আধুনিক যুগযন্ত্রণার চাপ-এ থেকে মেডিটেশনই মুক্তি দিতে পারে। তার ১০ বছর পর ২০০৩ সালে টাইম ম্যাগাজিন প্রচ্ছদ নিবন্ধ করল-সায়েন্স অফ মেডিটেশন। আজকে কাউকে বলে দিতে হয় না যে, মেডিটেশন কী।

আমরা একসময় সফট ড্রিংকস খেতাম। যেদিন বৈজ্ঞানিক তথ্য জানলাম যে, না, এটা ঠিক নয়, সেদিন থেকে নিজে খাওয়া বন্ধ করে দিলাম এবং অন্যদেরকেও সতর্ক করলাম না খাওয়ার ব্যাপারে। ২০ বছর আগে শিক্ষিত মানুষ এ ব্যাপারে অসচেতন ছিলেন। এখন সচেতন শিক্ষিত মানুষকে বলে দিতে হয় না যে, কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর।

আমরা বলেছিলাম, জাঙ্ক ফুড খাবেন না, বাচ্চাদের খাওয়াবেন না। কারো বিপক্ষে নয়, আমরা সত্য কথা বলেছিলাম। আজকে সবাই জাঙ্ক ফুডের বিরুদ্ধে বলছে। আমরা যখন স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করলাম-সবাই বলেছে, এটা পারবেন না, এটা খুব কঠিন কাজ। আমরা বলেছি, এটা মানুষের উপকারের জন্যে, নেক নিয়তে; কোনো প্রচারের জন্যে নয়। আমরা অবশ্যই পারব। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় এবং সঙ্ঘবদ্ধ ডোনারপুল এখন আমাদের। কারণ আমাদের নিয়ত ছিল মানুষের উপকার করা।

মানুষ যখন বিশ্বাস করতে শুরু করে, বিশ্বাসই তখন তাকে চালিত করে। তাই সামাজিক অনুষ্ঠানে নিঃসংকোচে যাবেন, তৃপ্তি সহকারে খাবেন, প্রাণভরে দোয়া করে খুশি মনে ফিরে আসবেন। বলবেন, আমি কোয়ান্টাম, আমি এই ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়েছি, আমি সুস্থ। দেখবেন, সবাই আপনাকে অনুসরণ করছে। আরো কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট অনুষ্ঠানে থাকলে তাদের নিয়ে দোয়া করুন। সবাই খেয়াল করবে যে, এরা কারা।

আমরা যদি সাহস করে দাঁড়াই, যারা কোয়ান্টামের বাইরে আছে তারা শোনার সাথে সাথে বলবে যে, আমরাও তাহলে কোয়ান্টাম হয়ে যাই। তাহলে আর গিফট লাগবে না। কারণ এটা তাদের জন্যে এত প্রয়োজনীয় যে, প্রতিটি মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে যদি গিফট ছাড়া সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে পারে। কাজেই আমরা যে পদক্ষেপ নিচ্ছি তা মানুষের কল্যাণে। দেখা যাবে, শীঘ্রই সামাজিক গিফটের বিপক্ষে জোয়ার শুরু হবে।

এখন হয়তো বলবেন যে, তাহলে আমরা এখন কীভাবে জন্মদিন, মৃত্যুদিন, বিবাহবার্ষিকী পালন করব? খুব সহজ। মা-বাবা কিংবা আপনজনের মৃত্যুদিন পালন করার সবচেয়ে ভালো পথ হলো-তাদের জন্যে দোয়া করা এবং যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকে তাহলে প্রত্যেক মৃত্যুদিনে তাদের নামে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একটি করে টিউবওয়েল স্থাপন করা। এটা তার জন্যে সদকায়ে-জারিয়া হিসেবে কাজ করবে। এ টিউবওয়েল থেকে দীর্ঘদিন শত শত মানুষ উপকৃত হবে। যে কারণে আমাদের বুজুর্গরা যেখানেই যেতেন, আগে দিঘি খনন করতেন।

আর বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে আপনার সামর্থ্য অনুসারে উপহার দিন এবং তাকে নিয়ে সময় কাটান। অপ্রয়োজনীয় খরচ যত কম করেন তত ভালো। আত্মীয়-বন্ধুদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পারেন। কিন্তু আসল কাজ হচ্ছে স্ত্রী বা স্বামীর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেয়া।

আর যদি জন্মদিন পালন করার কথা বলেন, তাহলে তো আমরা শুরুতেই বললাম যে একটি ভালো কাজ করে জন্মদিন উদযাপন করুন। শারীরিকভাবে যদি সমর্থ হন তাহলে রক্তদান করে আপনি আপনার জন্মদিন পালন করুন। যাদের রক্ত দেয়ার বয়স হয়েছে, সময় হয়েছে, তারা কোয়ান্টাম ল্যাবে এসে রক্তদান করে উদযাপন করুন।

স্বনামধন্য ভারতীয় জীববৈচিত্র্য গবেষক, বাঁশ ও অর্কিড বিশেষজ্ঞ এবং ভারতের আসামে অবস্থিত নর্থ ইস্ট বায়োডাইভারসিটি কনজার্ভেশন এন্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ড. রহমত আলী লস্কর এক মুক্ত আলোচনায় আমিন্ত্রত হয়ে বলছিলেন যে, প্রত্যেক জন্মদিনে অন্তত ১০টি না হোক পাঁচটি, তা-ও না পারলে ন্যূনতম একটি হলেও গাছ লাগান। তাহলে আপনি হয়তো একসময় থাকবেন না, কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোগ করতে থাকবে এই ভালো কাজের ফল।

আসলে কোনটা ভালো কাজ তা যদি বুঝতে চাই তাহলে শুধু মনে রাখতে হবে যে, কাজটি স্রষ্টার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নিজের ও অন্যের কল্যাণে করা হচ্ছে কিনা। কারণ প্রতিটি কল্যাণকর চিন্তা কথা আচরণ ও কাজ সৎকর্ম। মানুষের দুর্দশা লাঘবে চেষ্টারত থাকাকে নবীজী (স) এতেকাফের চেয়েও বেশি সওয়াবের বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ সৎকর্ম মানুষকে দুর্দশার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে, জীবনকে সার্থক করে।

নবীজীর (স)-এর সহীহ হাদীস অনুসারে মা-বাবার আন্তরিক খেদমত, পরিবারের ভরণপোষণ, স্ত্রী/স্বামী-সন্তানের সাথে সুন্দর ব্যবহার, আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীদের সাহায্য-সহযোগিতা, এতিম-মিসকিন, বিধবা ও অসহায়ের লালনপালন, রোগীর সেবা ও তার জন্যে দোয়া করা সৎকর্ম। অর্থনৈতিক বা সামাজিক পরিবেশের শিকার অসহায় মানুষকে পরিবেশের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা, অত্যাচারিতকে সাহায্য করা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ কাজ, প্রকাশ্যে বা গোপনে অর্থ দান, তৃষিতকে পানি পান করানো, পথ থেকে পথিকের জন্যে ক্ষতিকর প্রতিটি বস্তু অপসারণ, পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গাছ লাগানো ও অধীনস্থদের সাথে মানবিক আচরণ করা সৎকর্ম।

জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে অর্থ বা শ্রম দিয়ে কাউকে অক্ষরজ্ঞান দান করা, অবিদ্যা নাশে সত্যিকারের জ্ঞানে আলোকিত করা, সমস্যা সমাধানে সৎ পরামর্শ দেয়া, হাসিমুখে সুন্দর কথা বলা, আগে সালাম দেয়া অসংখ্য সৎকর্মের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাই দেরি কেন? বেছে নিন না আপনার জন্মদিনে উপরের যে-কোনো একটি, দুটি, তিনটি সৎকর্ম। শিশুসন্তানের জন্মদিনে তাকে সালামে আগে দেয়ার প্রতিযোগিতা করতে বলুন না! কিংবা ঘরের কোনো কাজে তাকে শরিক করুন। কিশোর, তরুণ যারা তাদের যদি ফাউন্ডেশনে এসে করসেবা করার সুযোগ থাকে, আসুন না! ধরুন যাদের জন্মদিন চলে গেছে কিংবা সামনে জন্মদিন আসবে, তারাও চাইলে আজ-কাল-পরশু যে-কোনো ভালো কাজ করে হয় বকেয়া আদায় করলেন বা অগ্রিম করে রাখলেন। সামনে যখন জন্মদিন আসবে সেদিনও আবার করবেন। তাহলে তা বোনাস হয়ে যাবে।

আর এখন তো ফাউন্ডেশনে করসেবার মৌসুম চলছে। যাকাত, এতিমান, মাটির ব্যাংকে রমজানে বিশেষ নিয়তে অতিরিক্ত দানের জন্যে বলুন মানুষকে। সাদাকায়নে অংশগ্রহণের জন্যে চারপাশের ৪০ ঘরে আহ্বান জানান। ধরুন, আপনার প্রতিবেশী যাদের বাসায় কখনোই যান নি, তাদের বাসায় গিয়ে যদি পরিচয় দিয়ে বলেন যে, আজ আমার জন্মদিন। আমি ঠিক করেছি একটি ভালো কাজ করে দিনটি মনে রাখব-এটা শুনে কেউ কি আর দরজায় দাঁড় করিয়ে রাখবেন। তারপর টুকটাক আলাপের একপর্যায়ে তাকে সৃষ্টির সেবা ব্রোশিউর দিলেন, যাকাত নিয়ে ভিডিও দেখালেন।

মেডিটেশন ম্যাগাজিন, শুদ্ধাচার বই দেখাতে পারেন। টোটাল ফিটনেস ব্রোশিউর বা বঙ্গাসন বুলেটিনও দিতে পারেন। সাদাকায়নে দোয়ার জন্যে নাম দিতে উৎসাহিত করতে পারেন। বলুন যে, কার হাত ওঠানোর উসিলায় যে দোয়া কবুল হবে তা তো আমরা জানি না, তাই যৌথ দোয়াতে নাম দেই আমরা। তারপরে সাদাকায়নের জন্যে বললেন। এরপরে টোটাল ফিটনেস ক্লাবের ঠিকানার স্লিপ দিলেন।

পরম করুণাময় সৎনিয়তে এটুকু করেছি কিনা তা দেখবেন। তারপরের বরকত তো তাঁর এখতিয়ারে। বলা পর্যন্ত, যাওয়া পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। এটি যেন আমরা পালন করতে পারি। অনেকের অনেক ব্যস্ততা আছে। পেশায়, বাসায় নানা কাজ। এসবের ফাঁকে ফাঁকে যেন আমরা ভালো কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি।

শুধু জন্মদিন উপলক্ষে নয়, প্রতিটি কর্মদিনকে নতুন নতুন ভালো কাজের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় যেন করে রাখতে পারি-পরম করুণাময়ের কাছে এই প্রার্থনা করছি। তাহলে কী হবে জানেন? আপনার জন্মদিন আপনাকে পালন করতে হবে না, অন্যরা পালন করবেন। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এত মনোযোগ দিয়ে আলোচনা শোনার জন্যে। সবাই আমরা সবার জন্যে দোয়া করব যেন ভালো কাজ করতে করতে ভালো মানুষের দেশ আমরা গড়তে পারি।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »