1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ইফতার বিতরণ করলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ আরএমজি প্রফেশনালস্ এর উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ- গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গ্রীষ্মকাল আসছে : তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ান, সুনামি সতর্কতা ঈদের আগে সব সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি এবি পার্টির সালমান খান এবার কি বচ্চন পরিবার নিয়ে মুখ খুলতে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া? আমার ও দেশের ওপর অনেক বালা মুসিবত : ইউনূস লম্বা ঈদের ছুটিতে কতজন ঢাকা ছাড়তে চান, কতজন পারবেন?

বুলিং : মুক্তচিন্তার প্ল্যাটফর্মে ‘অসুস্থদের’ আগ্রাসন

  • সময় শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪
  • ৪২ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে অনুভূতিতে আঘাত দেয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কী করলে অনুভূতিতে আঘাত হবে তা আইনে স্পষ্ট করে বলা নেই। এ কারণে অনেকে ‘আঘাত’ পেলেও বিচার পান না, আবার কেউ কেউ সেই আইন দিয়েই অন্যকে হয়রানি করেন।
বাংলাদেশে অনুভূতিতে আঘাত দেয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কী করলে অনুভূতিতে আঘাত হবে তা আইনে স্পষ্ট করে বলা নেই
এ বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন নটরডেম কলেজের ছাত্র আদনান আহমেদ তামিম। সম্প্রতি একটি দৈনিক পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “ঘুমানো, নামাজ, খাওয়া ছাড়া বাকি পুরো সময়ই লেখাপড়া করেছি।” তার এই বক্তব্য নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ শুরু করেছেন তুমুল ট্রল। তাদের এই ট্রল রীতিমতো সাইবার বুলিংয়ের পর্যায়ে চলে যায়। তামিমকে নিয়ে হাসাহাসি, আপত্তিকর মন্তব্য, কথিত উপদেশসহ কোনো কিছুই বাকি থাকেনি।
তামিম সাবজেক্ট হিসেবে সিএসই নিয়েছেন। এখন তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে আছেন। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, “আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করেছেন তাদের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। এটা নিয়ে আমি ভাবতেও চাই না। আমার লক্ষ্য পুরণে যা দরকার আমি তা-ই করেছি। এটাই আমার সফলতা।”
এটা তার ওপর কোনো মানসিক চাপ তৈরি করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমার এটা নিয়ে ভাবার সময় নাই।”
তার কথা, “তবে সার্বিকভাবে একেকজনের লাইফস্টাইল একেক রকম। চিন্তাও আলাদা। প্রত্যেকেরই নিজস্বতা আছে। সেটাকে সম্মান করা উচিত। আর ধর্ম পালন সবার করা উচিত বলে আমি মনে করি।”
তার পরিবারের সদস্যরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ট্রল করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না।
শুধু তামিম নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজস্ব চিন্তা বা লাইফ স্টাইল প্রকাশ করে অনেকেই ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন।
এর আগে শিশু শিল্পী লুবাবাকেও রীতিমতো মানসিক নির্যাতন করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এক পর্যায়ে তার পরিবার তাকে অভিনয় থেকে দূরে রাখারও সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-র গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)-র প্রধান যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদের সহায়তা নিতে হয়েছে। তারপরও যে তাকে নিয়ে ট্রল পুরোপুরি থেমেছে, তা বলা যাবে না
একইভাবে অব্যাহত ট্রলের শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী নুশরাত ফারিয়া তার কিছু ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনিও কথা বলতে রাজি হননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া তামিম প্রসঙ্গে বলেন, “সে রীতিমতো সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। তার ওপর সাইবার হামলা করা হয়েছে। একটি গ্রুপ তাকে ‘বাতিল মাল’ হিসেবে ফেলে দিতে চেয়েছে। এখানে সে যদি খাওয়া আর ঘুমানোর কথা বলতো তাহলে হয়তো ওই গ্রুপটি কিছু বলতো না। নামাজ পড়ার কথা বলায় তারা তার বিরুদ্ধে লেগেছে। আরেকটি গ্রুপ মনে করেছে তার মননশীলতার অভাব আছে। আসলে এখানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
তার কথা, “এখানেই সমস্যা। আমরা অন্যকে সম্মান জানিয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে অথবা ভিন্নমত প্রকাশ করতে শিখিনি। এটাও একটা মৌলবাদ, যে নিজের চিন্তাকেই ঠিক মনে করে অন্যের চিন্তাকে হেয় করা, অপমান করা। এটা আজকাল তথাকথিক শিক্ষিত লোকরাও করছেন।”
ইউনিসেফ সাইবার বুলিংয়ের সংজ্ঞায় বলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে হয়রানি করার নামই সাইবার বুলিং। এটি সামাজিক মিডিয়া, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল ফোনে ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে যাদেরকে টার্গেট করা হয় তাদেরকে ভয় দেখানো, রাগিয়ে দেওয়া, লজ্জা দেয়া বা বিব্রত করার জন্য বার বার এরূপ আচরণ করা হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়- সামাজিক মাধ্যমে কারো সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়া বা বিব্রতকর অথবা অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা।
মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষতিকর মেসেজ দেয়া বা হুমকি দেওয়া, অন্যের ছদ্মবেশ ধারণ করে তার পক্ষে আর একজনকে মেসেজ পাঠানো। ইউনিসেফ আরো বলছে, মুখোমুখি বুলিং এবং সাইবার বুলিং প্রায়শই পাশাপাশি ঘটতে পারে। তবে, সাইবার বুলিং একটি ডিজিটাল পদচিহ্ন রেখে যায়। এই ডিজিটাল পদচিহ্ন এমন একটি রেকর্ড, যা কার্যকর প্রমাণ হিসাবে কাজ করতে পারে এবং অপব্যবহার বন্ধে সহায়তা করতে প্রমাণ সরবরাহ করতে পারে।
ডিএমপির সাইবার ক্রাইম তদন্ত বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, কারুর মতের বা চিন্তার সঙ্গে মিল না হলে, অথবা রুচির সাথে না মিললে এই ট্রল বা বুলিংয়ের ঘটনা ঘটে। অনেকে আবার ফান করতে করতে এটা করেন। কেউ আবার বিকৃত রুচির কারণে এটা করেন। এটা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করেন। আবার কেউ ইনবক্সে, ফোনে, কমেন্ট বক্সে করেন। কেউ আবার সরাসরি পোস্ট দেন।”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া তামিম প্রসঙ্গে বলেন, “সে রীতিমতো সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। তার ওপর সাইবার হামলা করা হয়েছে। একটি গ্রুপ তাকে ‘বাতিল মাল’ হিসেবে ফেলে দিতে চেয়েছে। এখানে সে যদি খাওয়া আর ঘুমানোর কথা বলতো তাহলে হয়তো ওই গ্রুপটি কিছু বলতো না। নামাজ পড়ার কথা বলায় তারা তার বিরুদ্ধে লেগেছে। আরেকটি গ্রুপ মনে করেছে তার মননশীলতার অভাব আছে। আসলে এখানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
তার কথা, “এখানেই সমস্যা। আমরা অন্যকে সম্মান জানিয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে অথবা ভিন্নমত প্রকাশ করতে শিখিনি। এটাও একটা মৌলবাদ, যে নিজের চিন্তাকেই ঠিক মনে করে অন্যের চিন্তাকে হেয় করা, অপমান করা। এটা আজকাল তথাকথিক শিক্ষিত লোকরাও করছেন।”
ইউনিসেফ সাইবার বুলিংয়ের সংজ্ঞায় বলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে হয়রানি করার নামই সাইবার বুলিং। এটি সামাজিক মিডিয়া, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল ফোনে ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে যাদেরকে টার্গেট করা হয় তাদেরকে ভয় দেখানো, রাগিয়ে দেওয়া, লজ্জা দেয়া বা বিব্রত করার জন্য বার বার এরূপ আচরণ করা হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়- সামাজিক মাধ্যমে কারো সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়া বা বিব্রতকর অথবা অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা।
মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষতিকর মেসেজ দেয়া বা হুমকি দেওয়া, অন্যের ছদ্মবেশ ধারণ করে তার পক্ষে আর একজনকে মেসেজ পাঠানো। ইউনিসেফ আরো বলছে, মুখোমুখি বুলিং এবং সাইবার বুলিং প্রায়শই পাশাপাশি ঘটতে পারে। তবে, সাইবার বুলিং একটি ডিজিটাল পদচিহ্ন রেখে যায়। এই ডিজিটাল পদচিহ্ন এমন একটি রেকর্ড, যা কার্যকর প্রমাণ হিসাবে কাজ করতে পারে এবং অপব্যবহার বন্ধে সহায়তা করতে প্রমাণ সরবরাহ করতে পারে।
ডিএমপির সাইবার ক্রাইম তদন্ত বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, কারুর মতের বা চিন্তার সঙ্গে মিল না হলে, অথবা রুচির সাথে না মিললে এই ট্রল বা বুলিংয়ের ঘটনা ঘটে। অনেকে আবার ফান করতে করতে এটা করেন। কেউ আবার বিকৃত রুচির কারণে এটা করেন। এটা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করেন। আবার কেউ ইনবক্সে, ফোনে, কমেন্ট বক্সে করেন। কেউ আবার সরাসরি পোস্ট দেন।”
তার কথা, “এই স্বাধীন মত প্রকাশের নামে আবার যখন অন্যকে হেয় করা হয়, অপমান করা হয়, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয় সেটা কিন্তু বুলিং। এখানেই অনুভূতিতে আঘাতের প্রশ্ন আসে।”
মনজিল মোরসেদ বলেন, ” এখানে বাকস্বাধীতার প্রশ্ন আছে। দুর্নীতিবাজকে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না, আইনটি কিন্তু সেজন্য নয়। আইনটি হলো, কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যাকে অপমান, অপদস্থ না করা হয় তার জন্য। কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে উল্টো। যাদের ক্ষমতা আছে, তারা এটাকে তাদের অপরাধ ঢাকতে এবং সেটা যারা প্রকাশ করে, তাদের শাস্তি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে যারা সাইবার বুলিং করে, তাদের সুবিধা হয়।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিতরাও কারো ব্যাপারে মন্তব্য করতে পারেন। এটার সুযোগ নিচ্ছে কেউ কেউ। তারা তাদের মতের বিরুদ্ধে, চিন্তার বিরুদ্ধে কিছু হলেই সেখানে গিয়ে যা খুশি তাই বলছেন, অপমান করছেন। শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি আর থাকছে না। ফলে মুক্ত চিন্তার পরিবর্তে এই প্ল্যাটফর্মকে তারা মুক্ত চিন্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।”
নিজেকে জাহির করা বা কোনোভাবে প্রকাশ করার প্রবণতাও এখানে কাজ করে। বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা, লেখা একটা যোগ্যতার বিষয়। এটা যারা করেন, তারা তাদের কাজের মধ্য দিয়েই করেন। কিন্তু ওই শ্রেণির মানুষ সেটা না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃত পোস্ট বা মন্তব্য করে নিজেকে জাহির করে। বাস্তব জগতে কিন্তু তাদের গ্রহণযোগ্য অবস্থান নেই। এই মন্তব্য মনজিল মোরসেদের।
“আর শিক্ষার অভাব বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারের শিক্ষা বা নেটিকেট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটা যাদের মধ্যে নেই, তারা বুলিং বা ট্রল করেন। এটা পাড়ার কিছু ছেলে যেমন দল বেঁধে উত্যক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাই। আর একই মানসিকতার লোক একজনকে দেখে আরেকজন উৎসাহিত হয়। তারা দলবদ্ধ হয়।,” বলেন তানসেন রোজ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জেমস আহমেদ

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »