ইতিহাসে ডিসেম্বর ৮ বাঙালি বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ চিন্মোহন সেহানবীশ জন্মগ্রহণ করেন ।

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩৪২তম (অধিবর্ষে ৩৪৩তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৬০৯ : ইউরোপের দ্বিতীয় পাবলিক লাইব্রেরি চালু হয়।
১৭৯৪ : হেরাল্ড অব রুটল্যান্ডের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
১৯৭২ : বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ঘানা।

জন্ম

১৯০০ : উদয়শঙ্কর, ভারতের খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী, নৃত্যপরিকল্পক ও অভিনেতা।
১৯১৩ : চিন্মোহন সেহানবীশ, বাঙালি বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ।

মৃত্যু

১৯০৩ : খ্যাতনামা ব্রিটিশ চিন্তাবিদ ও দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার।
১৯৮৬ : বাংলাদেশি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।

চিন্মোহন সেহানবীশ

চিন্মোহন সেহানবীশ ছিলেন একজন বাঙালি বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ। তিনি প্রগতি লেখক সংঘ ও ভারতীয় গণনাট্য সংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবিকা উমা সেহানবীশ তার স্ত্রী।

জন্মগ্রহণ করেন বাবার কর্মক্ষেত্র লাহোরে। তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের রংপুর। বাবা ছিলেন অধ্যাপক বিনয়মোহন সেহানবীশ।

রানীগঞ্জের স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বৃত্তিসহ ম্যাট্রিক পাস করেন। সেন্ট জেভিয়ার’স কলেজ, কলকাতা থেকে বিএসসি ও ১৯৩৫ সালে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। পঞ্চাশের দশকে স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের সাথে যুক্ত ছিলেন।

সেহানবীশ কৈশোরে গান্ধীবাদের আদর্শে প্রাণিত ছিলেন। ছাত্রজীবনে সেন্ট পল কলেজ হোস্টেলে থাকার সময় প্রফেসর একরয়েড ও পিসতুতো দাদা, সিপি আই নেতা অজয় ঘোষ এর প্রভাবে মার্কসবাদী দর্শনে আকৃষ্ট হন। ১৯৪১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।

এম এ পাশ করে হিন্দুস্থান কর্পোরেশনে চাকরি নেন ও নিজে বুকম্যান প্রকাশন সংস্থা স্থাপন করে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে এই সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং হাউসের সাথে মিলিত হয়ে যায়।

বিশ্বশান্তি আন্দোলন ও ভারত-সোভিয়েত ইউনিয়ন মৈত্রী আন্দোলনে, ফ্যাসিবিরোধী লেখক শিল্পী সংঘের কাজে তার ভূমিকা ছিল। প্রগতি লেখক সংঘের প্রধান সংগঠক ও ভারতীয় গননাট্য সংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

ত্রিশ-চল্লিশের দশক থেকে অগ্রণী, পরিচয়, নতুন সাহিত্য, আন্তর্জাতিক ইত্যাদি পত্রিকায় প্রগতিমূলক রচনা লিখেছেন। রবীন্দ্রসাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে তিনি আগ্রহী ছিলেন। রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র মেলা কমিটির সম্পাদক হন।

এই কমিটিতে ছিলেন গোপাল হালদার ও মৈত্রেয়ী দেবী। অর্থনীতির ছাত্র হলেও তার গবেষণার বিষয় ছিল ইতিহাস। স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিপ্লবীদের নিয়ে অজানা তথ্য তিনি গ্রন্থভুক্ত করে গেছেন। মহাজাতি সদনে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে স্থায়ী প্রদর্শনী গড়ে তোলার উদ্যোক্তা ও প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি। তার তত্ত্বাবধানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মুক্তির সন্ধানে ভারত বইটি প্রকাশিত হয়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস রচনায় ড. গঙ্গাধর অধিকারীকে তিনি সাহায্য করেন।

রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- সোভিয়েট বিজ্ঞান, ৪৬ নং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রসঙ্গে, Tagore and the World, দুই শতাব্দীর বিপ্লব, রুশ বিপ্লব ও প্রবাসী ভারতীয় বিপ্লবী, রবীন্দ্রনাথের আন্তর্জাতিক চিন্তা, রবীন্দ্রনাথ ও বিপ্লবী সমাজ ইত্যাদি।

চিন্মোহন সেহানবীশ বিদ্যাসাগর পুরস্কার ও সোভিয়েত ল্যান্ড নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ১৯৮৭ সালের ১৯ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র : সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *