করোনা বাস্তবতায় কোরবানি

আসলে আমরা কেন কোরবানি দিচ্ছি, কীভাবে কোরবানি দিচ্ছি – এই সচেতনতাটা জরুরি।

যখন আমরা অন্তর থেকে অনুভব করব যে আমরা স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্যে, তাঁর নৈকট্য লাভের জন্যে আমাদের জীবনোপকরণের একটি অংশ কোরবানি দিচ্ছি, তখন আমরা কোরবানির মূলে ঢুকতে পারব এবং লাভ করব স্রষ্টার দয়া ও নৈকট্য।

ধরুন, প্রতিবারের মতো এবারো কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী আপনি আপনার জীবনোপকরণের একটি অংশ কোরবানির জন্যে নিয়ত করলেন। তা দিয়ে একটা বড় গরু কিনলেন। ঈদের দিন জবাই করলেন। অন্নহীন ১০টি পরিবারকে আপনি সেখান থেকে ২ কেজি করে মাংস বিলি করলেন।

কাজটা অবশ্যই ভালো হবে। কিন্তু করোনার এই সময়ে সেই পরিবারগুলো ২ কেজি মাংস কতদিন খেয়ে বাঁচতে পারবে?

লকডাউনে কর্মহীন থাকা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর ঘরে হয়তো চাল-ডালও নেই। যদি চাল-ডাল-তেল কোনোমতে জোগাড় করা যায়ও, ২ কেজি মাংসে তারা কতদিন ক্ষুধা নিবারণ করবে?

আপনি বলতে পারেন যে তারা আরেক জায়গায় বিক্রি করবে। কিন্তু এই ২ কেজি মাংস বিক্রি করে কত টাকাই বা সে পাবে!

২ কেজির বদলে আপনি ৩ কেজি, ৫ কেজি মাংসই না হয় দিলেন। কিন্তু এতে কি অন্নহীনদের মুখে আপনি অন্ন তুলে দিতে পারলেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *