ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যারাই বিদেশ গিয়েছেন, তারা কেন এখন কপাল চাপড়ান?
এবং আমাদের দেশের অনেক মা-বাবা তখন কী করেছেন? যাদের অর্থবিত্ত ছিল ছেলেমেয়েকে নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন। কেন? ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে।
এবং যারা গিয়েছেন ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তারা এখন শুধু কপাল চাপড়ান। কারণ তাদের ছেলেমেয়েরা কেউ তাদের খোঁজ রাখে না, এমন মানুষ হয়েছে তারা। কেন?
কারণ আপনি এরকম সমাজে আপনার ছেলেমেয়েকে নিয়ে গেছেন যেই সমাজের শিক্ষাই হচ্ছে ছেলেমেয়েকে কিছু বলা যাবে না। নাইনটি নাইন মা-বাবাকে ধরে নিয়ে যাবে। অথবা ছেলেমেয়েকে আলাদা করবে। এবং ১৮ বছর হলে যে সমাজ ছেলেমেয়েকে ঘর থেকে বের করে দেয় অধিকাংশ, সেই সমাজে আপনি নিয়ে যাচ্ছেন ছেলেমেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যে।
ছেলে-মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে পাড়ি জমানো অনেক বাঙালি পরিবারেরই স্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্নের পিছনে যে বেদনা লুকিয়ে থাকে, তা সময়ের সাথে সাথে প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক অভিভাবক আজ কপাল চাপড়ান, কারণ:
১. সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা
বিদেশে বসবাসকারী সন্তানেরা পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে বাঙালি সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যায়। অনেক সময় তারা নিজেদের শেকড়কে ভুলে যায়, যা অভিভাবকদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. দূরত্বের যন্ত্রণা
সন্তান বিদেশে থাকলে শারীরিক ও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। অসুস্থতা, বার্ধক্য বা পরিবারের জরুরি মুহূর্তে সন্তান পাশে থাকে না—এটি অনেক বাবা-মায়ের হৃদয়ে অব্যক্ত কষ্ট রাখে।
৩. আর্থিক সাফল্য মানসিক সুখ
অনেক সন্তান বিদেশে উচ্চ আয় করেন, কিন্তু পারিবারিক বন্ধন ও আবেগিক সান্ত্বনা থেকে বঞ্চিত হন। অভিভাবকরা বুঝতে পারেন যে টাকার বিনিময়ে তারা সন্তানের স্নেহ ও সময় হারিয়েছেন।
৪. প্রত্যাশা vs বাস্তবতা
অনেক বাবা-মা আশা করেন যে সন্তান বিদেশে গিয়ে পরিবারকে নিয়ে যাবে বা নিয়মিত দেখাশোনা করবে। কিন্তু বাস্তবে সন্তানের নিজের জীবন, ক্যারিয়ার চাপ বা অন্য প্রতিবন্ধকতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না।
৫. বৃদ্ধাবস্থার একাকীত্ব
সন্তান বিদেশে থাকলে বাবা-মা একাকী বৃদ্ধাবস্থা কাটান, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। অনেকেই বলেন, *”সবাই শুধু সন্তানের সাফল্যের গল্প শোনে, কিন্তু আমাদের নির্জনতার কথা কেউ বোঝে না।”*
কী করা যেতে পারে?
– সন্তানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সম্পর্কের যত্ন নেওয়া।
– পারিবারিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব বোঝানো।
– নিজেদের স্বাধীন ও সক্রিয় জীবনযাপন করা, যাতে সন্তানের উপর অতিনির্ভরশীল না হতে হয়।
বিদেশে সন্তানের সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের, কিন্তু এর পাশাপাশি শেকড়ের টান ও মানবিক সম্পর্কের মূল্যকে উপেক্ষা করলে জীবনের শেষ বয়সে খাঁটি সুখ দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই আজ আফসোস করেন”সন্তানকে দূরে পাঠিয়ে কি ঠিক করলাম?”
বাংলাদেশের এখন সমস্যা একটাই- শিক্ষিত বেকারত্ব!
এবং সেখান থেকে আমরা আজকে কোথায়? আমরা হচ্ছি সুখী মানুষের তালিকায় বাহরাইন টাহরাইনের চেয়েও এগিয়ে। সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে সুখী মানুষের তালিকায়, দুঃখ কম।
এবং যা আছে সেই দুঃখের কারণটা কী? মিজারির কারণটা কী? কারণ একটাই বাংলাদেশের জন্যে সেটা হচ্ছে বেকারত্ব এবং সেটাও শিক্ষিত। অর্থাৎ শিক্ষার কী অবস্থা যে শিক্ষা মানুষকে বেকার করে দেয়। অশিক্ষিত কিন্তু কোনো বেকার নাই কিন্তু শিক্ষিত বেকার রয়েছে।
[শিক্ষক ওয়ার্কশপ, ২৬ মে, ২০২৩ গুগল থেকে নেয়া]
