তরুণ প্রজন্ম কীভাবে আগ্রাসনের শিকার!

তরুণ প্রজন্ম বিভিন্নভাবে আগ্রাসনের শিকার হতে পারে, যা তাদের মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে:

শারীরিক আগ্রাসন> শারীরিক সহিংসতা ও নির্যাতন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তি, রাস্তাঘাট বা গণপরিবহনে শারীরিক হয়রানি,মানসিক ও ভাষাগত আগ্রাসন, অবমূল্যায়ন ও অপমানজনক ভাষা, গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন, সামাজিক মাধ্যমে সাইবার বুলিং,· নেতিবাচক তুলনা ও প্রতিনিয়ত সমালোচনা

যৌন আগ্রাসন> যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক যোগাযোগ, যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য ও ইঙ্গিত, পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে বিকৃত যৌন শিক্ষা,প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রাসন, শিক্ষাব্যবস্থায় চাপ ও প্রতিযোগিতার কঠোর পরিবেশ

কর্মক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে বৈষম্য>সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে বাধা, রাজনৈতিক হিংসা ও সংঘর্ষে ব্যবহার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, রক্ষণশীল সামাজিক মানের চাপ, ব্যক্তিস্বাধীনতায় অনধিকার প্রবেশ, পেশা ও জীবনপদ্ধতি বাছাইয়ে বাধা, প্রচলিত শ্রেণিবিভেদ ও বর্ণবৈষম্য।

ডিজিটাল আগ্রাসন> অনলাইন ট্রোলিং ও হেয়প্রচার, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও অপপ্রচার, ডিজিটাল পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা, ভুয়া খবর ও ম্যানিপুলেশনের শিকার।

এই যে মন গোছানো, মাইন্ডসেট, এই মন গোছানোর ব্যাপারটা হচ্ছে খুব ইম্পর্টেন্ট।

মাইন্ডসেটের প্রথম বাধা নেতিবাচকতা, হতাশা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা

লক্ষ্যস্থির এবং সেই অনুযায়ী মনটাকে কী করতে হবে? গোছাতে হবে। দেটস ভেরি ইম্পর্টেন্ট। মাইন্ডটাকে সেট করতে হবে সেই লক্ষ্যে।

এবং টোটাল ফিটনেসের জন্যে যে মন গোছানো, এর সবচেয়ে বড় উপকরণ হচ্ছে বিশ্বাস আশা এবং ইতিবাচকতা। প্রধান বাধা হচ্ছে- নেতিবাচকতা, হতাশা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা।

আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে সৃষ্টি হয় হতাশা

শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবা। নিজেরটা ভাবা। এই যে আত্মকেন্দ্রিকতা এটা হচ্ছে প্রধান বাধা।

বলা যেতে পারে যে, আত্মকেন্দ্রিকতা হচ্ছে নেতিবাচকতা এবং হতাশা সৃষ্টি করে। যে ক্ষুদ্র স্বার্থ চিন্তা, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থকেন্দ্রিকতা এটা হচ্ছে প্রধান বাধা।

হতাশা কখন আসে?

আর স্বার্থকেন্দ্রিক বা নেতিবাচক আত্মকেন্দ্রিক হতাশা কখন আসে? এটার মাধ্যম হচ্ছে মাদকাসক্তি। মাদকের প্রকাশটা কীসে? আসক্তি। মাদক ক্ষতি করে কোথায়? আসক্তি। এবং এই আসক্তিটা ডিজিটাল হতে পারে। তামাক হতে পারে। পানীয় হতে পারে। খাবার হতে পারে।

এবং আমরা তরুণদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে, এখনকার যে জেনারেশন, যাদের বয়স ধরুন ১৫-২৫। এই জেনারেশনের সাথে কথাবার্তা, চোখের ভাষা লেনদেন করতে গিয়ে। কারণ প্রত্যেকেরই চোখ কথা বলে এবং চোখ কিন্তু কখনো কী করে না? মিথ্যা বলে না। আর চোখ মিথ্যা বলে এরকম মানুষ পাওয়া খুব ডিফিকাল্ট।

তো আসলে তাদের যে নিঃসঙ্গতা, যে হতাশা, নেতিবাচকতা অনেকের চোখে মুখে দেখেছি।

তরুণ প্রজন্ম এখন ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের শিকার

এবং তাদের একটা বড় অংশকে কী করা হচ্ছে? আসলে তারা ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। একটা আগ্রাসন হচ্ছে ডিজিটাল, আরেকটা আগ্রাসন হচ্ছে তামাক। ধোঁয়ার আগ্রাসন। এই দুটো আগ্রাসন এবং তৃতীয় আগ্রাসন হচ্ছে পানীয়ের আগ্রাসন। যেটা দিয়ে তারা আমাদের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং শুধু তা না আমাদের এই সোনার দেশকে ছাইদানি বানানোর চিন্তা করছে তারা।

ছাইদানি বোঝেন? ছাইদানি বানানোর চিন্তা করছে তারা। কারণ এই তামাক এখন একটা, ব্যবসা না। এটা হচ্ছে আগ্রাসন।

১. ডিজিটাল আগ্রাসন : ছোট্ট পর্দার কাছে অধিকাংশের চোখ জিম্মি

এখন আমরা যে আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি একটা হচ্ছে ডিজিটাল যে আমাদের চোখ এটাকে জিম্মি বানিয়ে ফেলা হয়েছে একটা ছোট্ট পর্দার কাছে। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ এখন সারাক্ষণ কাটায় ডিজিটাল মিডিয়াতে স্মার্টফোনে। তার আগে তো তবুও ল্যাপটপে কাটাত। এখন ল্যাপটপ না এখন মোবাইল। এবং এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া আছে, নাটক আছে বা সিনেমা আছে, এই আছে, সেই আছে। অনেককিছু আছে। সবকিছু মিলিয়ে তার জীবনটা এখন।

২. তামাক শুধু ব্যবসা নয়, এটা এখন ডিজিটাল আগ্রাসন

আর হচ্ছে সিগারেট এই যে সিগারেট, সিগারেটের যে ক্ষতি এক্ষেত্রে কিন্তু মেয়েরাও পিছিয়ে নাই। = ই-ভেপিং থেকে শুরু করে, সিগারেটে।

আগে তো মানে ধরুন, তরুণরা যখন সিগারেট খেত, মুরব্বি টুরব্বি কাউকে দেখলে খুব বিপদে পড়ত। সিগারেট ওখানে লুকাবে, না কোনখানে লুকাবে! এখন ধোঁয়া কিছু গিলে ফেলেছে, বেরও করতে পারছে না। অল অন এ সাডেন মানে কী হচ্ছে? মুরব্বি সামনে চলে আসছে। তো অন্যদিকে মুখ করে কী বেরোচ্ছে? ধোঁয়া বেরোচ্ছে। ইঞ্জিন থেকে বেরোলো ধোঁয়া! এখন ঐ সমস্ত কিছু না। এখন তো মানে, ধরুন মুরব্বি দেখলে মানে রিং বানিয়ে আবার সামনে একটা প্লে করে যে, হুজুর দেখেন কী পারি আরকি! এই ধোঁয়া, ধোঁয়াকে রিং বানিয়ে আমি কত দূর নিয়ে যেতে পারি।

তো এই যে তামাক, তামাক আগ্রাসন যে কী, কত বড় আগ্রাসন এবং মেয়েরা এখন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলেদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে তামাকে।

আমার এই ছেলেমেয়েদের জন্যে খুব মায়া হয়। এজন্যেই আমি এত চিন্তা করেছি এই ছেলেমেয়েদের নিয়ে। যারা দেশের জন্যে কাজ করবে। যারা দেশের নেতৃত্ব দেবে। যারা আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবে। যারা স্বর্গভূমি বানাবে।

তাদেরকে এই তামাক কোম্পানি কী করছে? ছাইদানি বানাতে চাচ্ছে। এবং এটা থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের আগের কাজগুলো যেভাবে আমরা করেছি এই কাজগুলোও আমরা সেভাবে করব।

পরিণাম> আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও হতাশা , মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা (অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন), সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পেশাগত ও শিক্ষাগত ক্ষতি, আত্মহত্যার প্রবণতা

প্রতিকার> সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা, সহায়ক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং সুবিধা, আইনি সুরক্ষা ও তার প্রয়োগ, ইতিবাচক parenting ও শিক্ষাদান পদ্ধতি ।

তরুণদের প্রতি আগ্রাসন রোধে সামাজিক সচেতনতা, আইনের শক্তিশালী প্রয়োগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্মানজনক আচরণের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।