২০২৫ আমাদের দেশের জন্যে এক যুগান্তকারী বছর
ডিসেম্বর মাস, এটা বিজয়ের মাস। বিজয়ের এই মাসে ২০২৫ আমাদের উপহার দিয়েছে এমন এক দূরপ্রসারী বিজয়, যা এর আগে কোনো জাতি অর্জন করতে পারে নাই। আসলে সেদিক থেকে ২০২৫ শুধু কোয়ান্টামের জন্যে বাঁক বদলকারী পরিবর্তনের বছর নয়, ২০২৫ আমাদের দেশের জন্যে এক যুগান্তকারী বছর এবং সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত থেকে নিজেকে মুক্ত করার বছর, এক ধরনের মনোজাগতিক শিকল ভাঙার বছর।
আর যে বিজয় এর আগে পৃথিবীর কোনো জাতি অর্জন করতে পারে নি সেটা আমাদের জাতি অর্জন করেছে এবং এর পেছনে নেপথ্য শক্তি হিসেবে করেছে করছে নেপথ্য ভূমিকা হচ্ছে আমাদের, কোয়ান্টামের। সবটাই পরম করুণাময়ের দয়া কিন্তু অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে কোয়ান্টাম এবং ইতিহাসের এটাকে আমরা বলতে পারি এক বাঁক বদলকারী বছর হচ্ছে ২০২৫।
২০২৫ কীভাবে বাঁক বদলকারী বছর?
স্বাভাবিকভাবে আপনাদের কৌতূহল হচ্ছে যে কীভাবে? আসলে সারা পৃথিবীর বাঁক বদলকারী জিনিস হচ্ছে পপুলেশন, জনসংখ্যা। জনসংখ্যায় যারা বড় হয় তারা কর্তৃত্ব করে। কারণ জনবলের অভাব অন্য কোনোকিছু দিয়ে পূরণ করা যায় না।
কারণ স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে দেশে পপুলেশনের উল্টোযাত্রা এর আগে কখনো দেখা যায় নি
যে-রকম পরিবার যদি বড় হয়, যে পরিবারে পাঁচ ভাইবোন, আরেক পরিবারে একজন, এই একজনের পরিবার কি পাঁচ জনের পরিবারের সাথে ফেস করতে পারবে? পারে না।
তো ডেমোগ্রাফি, জনশক্তি হচ্ছে এইরকম একটা শক্তি এবং জনবল, পপুলেশন—এটা ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু ইতিহাস নিয়ন্ত্রণে পপুলেশন একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর সেইজন্যে ১৯৬০ দশক থেকে সাম্রাজ্যবাদীরা, তারা দেখল যে, এশিয়ার জনসংখ্যা বাড়ছে পাশ্চাত্যের জনসংখ্যা বাড়ছে না, এশিয়ার জনসংখ্যা বাড়ছে।
তো এশিয়ার জনসংখ্যা কমাতে হবে। তারা টার্গেট করল আমাদের দেশ ভারত পাকিস্তান চীন ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া।
অর্থাৎ যে দেশগুলোতে পপুলেশন বাড়ছে, এই দেশগুলোর জনসংখ্যা কমাতে হবে। তারা বলল যে, একসন্তান যথেষ্ট। তোমাদের অর্থনীতির এত যে খারাপ— এটার কারণ হচ্ছে অনেক অনেক ছেলেমেয়ে, অনেক মানুষ। তো এটাকে কমিয়ে এক সন্তান করো।
এবং চীন তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলল। তারা কঠোরভাবে এক সন্তান নীতি অনুসরণ করল। সেখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে গর্ভপাত, বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি, দ্বিতীয় সন্তান হলে বার্থ সার্টিফিকেট তাকে দেয়া হবে না, ঐ সন্তান দেশের নাগরিক হতে পারবে না। এবং দ্বিতীয় সন্তান হলে বিশাল বিপুল অংকের জরিমানা.. এবং চীন এক সন্তান নীতিতে খুব নিষ্ঠুরভাবে বাস্তবায়ন করল এবং তারা সাকসেসফুল হয়ে গেল। ফল হলো অত্যন্ত খারাপ।
কারণ নরমালি পরিবারগুলো সন্তান যদি একটা নিতে হয় তাহলে তারা ছেলে প্রেফার করে যে ছেলে হোক। এখন ছেলের সংখ্যা বেড়ে গেল, অনেক মেয়ে হলো কম। ছেলেরা বিয়ে করার জন্যে আর মেয়ে পায় না। এবং চীন, তারা যে মারাত্মক ভুল করেছে, এটা বুঝতে পারল এখন থেকে ১০ আগে। ২০১৫ সালে তারা নীতি পরির্তন করে ফেলল; যে, না, দুই সন্তান নিতে হবে।
এবং এবার কী হলো যে, দুই সন্তান নিলে কর ছাড়, কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না, আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হবে এবং আবাসিক সুবিধা দেয়া হবে, ঘরবাড়ি দেয়া হবে।
২০২১ সালে এসে দেখল যে, না, দুই সন্তান হলেও হবে না; যে, তিন সন্তান নিতে হবে। এবং যতরকম আর্থিক প্রণোদনা দরকার ঘোষণা দেয়া হলো যে, তিন সন্তান হলে এই দেয়া হবে, এই দেয়া হবে, এই দেয়া হবে। এবং বড় বড় বিলবোর্ড লাগানো হলো, আগে যেরকম বিলবোর্ড ছিল ‘ছোট পরিবার সুখী পরিবার’ এবার এটা উল্টে গেল। ওখানে লেখা হলো যে, ‘বড় পরিবার সুখী পরিবার’।
তারপরেও গত তিন বছর ধরে জন্মহার যে কমছে, কমছে তো কমছে এত প্রণোদনার পরেও। এবং ২০২৪ সালে চীনে এসে বিয়ের পরিমারণ কমে গেল। ২১ শতাংশ কমে গেল। বিয়ে করে না। কারণ বিয়ে করার জন্যে মেয়ে তো পায় না।
আর যারা বিয়ে করছে তারা কেউ সন্তান নিতে চাচ্ছে না এত প্রণোদনার পরেও। এবং জনসংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা পড়েছে সবচেয়ে বেশি বিপদে। ওতে তাদের জন্মহার হচ্ছে এক সন্তানেরও কম। দশমিক ৭৫। যদি এইভাবে চলতে থাকে তাহলে আগামী ৫০ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা বাড়বে তো না-ই, এক-তৃতীয়াংশ কমে যাবে।
এবং তারা ২০৩০ সালের জন্যে লক্ষ্যস্থির করেছে শূন্য দশমিক ৭৫ থেকে অন্তত একটা যাতে হয় পরিবার পিছে। কিন্তু ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যে অর্থাৎ জন্মমৃত্যু ঠিক রাখার জন্যে প্রয়োজন হচ্ছে দুই দশমিক এক সন্তান।
এখন কী করবে? সরকার তো প্রণোদনা দিচ্ছে। কোরিয়ার সবচেয়ে কনস্ট্রকাশন কোম্পানি বুইয়ং। তাদের কর্মীদের সন্তান জন্ম হলেই ১০ কোটি ওন। ১০ কোটি ওন মানে হচ্ছে আমাদের টাকায় ৯০ লক্ষ টাকা।
এবং অন্যান্য কোম্পানিগুলোও কেউ ৭০ লক্ষ টাকা, কেউ ৬০ লক্ষ টাকা, কেউ ৫০ লক্ষ টাকা, তারপরও হচ্ছে না।
কারণ ডেমোগ্রাফির পপুলেশনের নিয়ম হচ্ছে একবার যখন কমতে শুরু করে, এটা কমতেই থাকে। এটা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না তারা। কারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি চেঞ্জ হয়ে যায়। এখন এত প্রণোদনার পরেও তারা ভাবছে যে, না, সন্তানের দরকার নাই। খামোখা সন্তান দিয়ে কী হবে? কারণ সন্তানের বিষয়টা দৃষ্টিভঙ্গিগত বিষয়। তো এই দৃষ্টিভঙ্গিটা তারা করতে পারে না।
বাংলাদেশের কী অবস্থায় ছিলাম? বাংলাদেশে ৭০ দশক থেকে সরকারি, দেশি-বিদেশি এনজিও কর্মীরা তো মাঠে একেবারে চষে ফেলল। প্রবল উদ্যোগ। জনসংখ্যা কমাতে হবে। ৭০ দশকে আমাদের জন্মহার ছিল ছয়।
১৯৮২ সালে এটা নেমে গেল পাঁচ দশমিক শূন্য সাত। কারণ তখন জোরজবরদস্তি। বন্ধ্যাও করা হয়েছে অনেককে। ৯৪ সালে আরো কমে গেল তিন দশমিক চার। ২০০৪ সালে তিন এবং ২০২৪ সালে সরকারের লক্ষ্যছিল দুই দশমিক এক, যাতে জন্মহার কমে দুই দশমিক এক হয়। হলো এটা দুই দশমিক এক সাত। এবং সরকার বলল যে এটা একটা বিশাল অর্জন।
এখন গিট্টু লাগল ২০২৫শে এসে। ২০২৪শে দুই দশমিক এক সাত। এবং পরিকল্পনায় যারা জনসংখ্যাবিদ তারা ধরে নিয়েছে ২০২৫শে এটা কমে কমে এটা দুইতে চলে আসবে এবং তারা খুব এটার জন্যে প্রস্তুতি নিয়েছিল। ঘটে গেল উল্টো।
গত ১৭ই নভেম্বর ২০২৫ পত্রিকার রিপোর্ট ‘বাংলাদেশ কি উল্টো পথে হাঁটছে?’ স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের নারীরা গড়ে ছয়টি বা তার বেশি সন্তান জন্ম দিত। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে দুই দশমিক এক সাত।
অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতের বড় অর্জনের একটি এই জন্মহার কমানো। এখন আবার তা বাড়তে শুরু করেছে। দেশে প্রজনন হার এখন দুই দশমিক চার। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে এই উল্টোযাত্রা এর আগে কখনো দেখা যায় নি। তাদের অনেক দুঃখ অনেক দুঃখ। এটা আমার কথা না, এটা বিবিএস এবং ইউনিসেফের জরিপ।
দেশের জনগণ এক সন্তান নীতি গ্রহণ না করে সঠিক পথে যাত্রা শুরু করেছে…
তো আসলে আপনি দেখেন আপনারা খুব চমৎকারভাবে জিনিসটা বুঝতে পারবেন। আপনার ১০ বছর আগে থেকে চীন চেষ্টা করছে জন্মহার বাড়ানোর জন্যে চীন পারে নাই জন্মহার ক্রমাগত কমছে। সরকারি প্রণোদনা এবং বিজ্ঞাপন, প্রণোদনা এবং উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়ার পরেও।
দক্ষিণ কোরিয়া এত উৎসাহ উদ্দীপনা দিচ্ছে কিন্তু তার জন্মহার কমছে। আর আমাদের দেশে জন্মহার কমানোর জন্যে উদ্দীপনা দেয়া হচ্ছে প্রচার চালানো হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশের জনগণ এটা গ্রহণ করে নাই আমাদের দেশের জনগণ এটাকে গ্রহণ না করে সঠিক পথে যাত্রা শুরু করেছে। যেখানে অন্যান্য দেশ এবং ইউরোপ আমেরিকা জন্মহার বাড়াতে পারে নাই, এত প্রণোদনা দিয়েও কিন্তু বাংলাদেশে জন্মহার বাড়ছে।
বড় জাতি মহান জাতি হওয়ার জন্যে দরকার হচ্ছে পপুলেশন বুম
কেন? কেন আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি? এবং ইতিহাসের এই যে বাঁকবদল, এই যে যুগসন্ধিক্ষণ। কারণ একটা বড় জাতি মহান জাতি হওয়ার জন্যে দরকার হচ্ছে পপুলেশন বুম। অনেক মানুষ না হলে বড় পরিবার শুধু সুখী পরিবার না। বড় পরিবার হচ্ছে শক্তিমান পরিবার।
পরিবারকে ছোট করার আন্তর্জাতিক ফাঁদ ছিল পশ্চিমা নীতি
তো আসলে আমাদের শক্তি নাশ করার জন্যেই পরিবারকে ছোট করার এই আন্তর্জাতিক ফাঁদ ছিল এটা। সেই ফাঁদ থেকে আমরা বেরোতে পেরেছি এবং আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। পৃথিবীর কোনো জাতি যা পারে নাই আমরা সেটা করতে পেরেছি।
কারণ বাংলাদেশের মানুষ অসম্ভব সম্ভব করার কী, বাংলাদেশের মানুষ অসম্ভব সম্ভব করার ক্ষমতা রাখে যা অন্যরা বলে সম্ভব না বাংলাদেশের মানুষ বলে সম্ভব এবং ডিসেম্বর এটা সবসময় প্রমাণ করেছে।
১০ মাস যুদ্ধ করে যে কোনো জাতি স্বাধীন হতে পারে এটা আমরা ইতিহাসে পৃথিবীর ইতিহাসে রক্তাক্ত যুদ্ধ করে আমরা প্রমাণ করেছি যে ১০ মাসে দেশ স্বাধীন করা যায় একইভাবে আমরা প্রমাণ করেছি যে না জন্মহার কেউ বাড়াতে না পারলেও আমরা পারি এবং আমরা পেরেছি। জরিপ বলে যে আমরা পেরেছি।
কেন আমরা উল্টো যাত্রা করতে পারলাম?
তো কেন? এর পেছনে মূল শক্তিটা কী? এর পেছনে মূল ধারণা হচ্ছে কোয়ান্টামের। কোয়ান্টাম কী বলেছে সবসময়? চারের কম নয় তার বেশি যত হয়। আর এখন আমরা নতুন পয়েন্ট দিচ্ছি—চারের কম নয় সাত হলে ভালো হয়।
কোয়ান্টামের ভাবনার শক্তি- চারের কম নয়, এর বেশি যত হয়!
আসলে এই যে ঘুরে দাঁড়ানো, ঘুরে দাঁড়াতে পারা কেন সম্ভব হয়েছে? এটা হচ্ছে ভাবনার শক্তি যে, আমরা ৩০ বছর ধরে এই ভাবনা ভেবেছি। ‘বড় পরিবার সুখী পরিবার’। চারের কম নয়, এর বেশি যত হয়। এবং এই যে ভাবনা, এই ভাবনাটা আমরা কোন স্তরে ভেবেছি? ধ্যানের স্তরে ভেবেছি এবং ধ্যানের স্তরটা হচ্ছে ভাবনার সবচেয়ে শক্তিশালী স্তর।
যখন ভাবনা ডিকো লেভেলে যায় তখন সমস্ত অন্তর থেকে অন্তরে ছড়িয়ে যায়। এটা ইকো হতে থাকে অন্তর থেকে অন্তরে। এটা ধ্বনিত হতে থাকে। আমরা এত অল্প মানুষ মিলে ইচ্ছা করলেও তো জনসংখ্যার এই প্রবৃদ্ধি করতে পারব না।
কিন্তু আমাদের যে বাণী, এই বাণী মানুষের অন্তরে পৌঁছে গেছে। মানুষ এটা গ্রহণ করেছে এবং যা ইতিহাসে কেউ পারে নাই কোনো জাতি পারে নাই আমরা সেটা আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর শোকর আল্লাহর দয়া যে আমরা এটা সম্ভব করেছি।
কারণ একটা গ্রেট নেশন হওয়ার জন্যে জনসংখ্যা বেশি হওয়া দরকার, বড় হওয়া দরকার এবং অনেক হওয়া দরকার। অনেক হওয়া দরকার এবং অনেক না হলে হয় না।
কোয়ান্টাম ফর্মুলা কারা ফলো করছে জানেন?
এই যে আমাদের চারের কম নয় এই ফর্মুলা, কোয়ান্টামের এই ফর্মুলা কারা ফলো করছে? যারা বলছে যে, তোমাদের দেশে জনসংখ্যা কমাও, তারা ফলো করছে। তাদের ভিআইপিরা ফলো করছে।
১. পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রনায়করা
আপনি দেখেন, বাংলাদেশে যারা সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছে জনসংখ্যা কমানোর জন্যে সে আমেরিকার দিকে তাকান। তাদের প্রেসিডেন্টদের পরিবারের দিকে তাকান। ১৯৭৭-১৯৮১ সাল প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিমি কার্টার। চার সন্তানের পিতা।
জিমি কার্টারের আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেরাল্ড ফোর্ড। চার সন্তানের পিতা। জিমি কার্টারকে পরাজিত করে রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্ট হন। কেন? তার পাঁচ সন্তান। এইজন্যে তিনি জিমি কার্টারকে পরাজিত করেন।
রিগানের উত্তরসূরি সিনিয়র জর্জ বুশ। তিনি রিগানকে কেন পরাজিত করতে পেরেছেন? কারণ তিনি ছয় সন্তানের পিতা ছিলেন।
এখন আমেরিকার, আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান কে? ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সন্তান কয়টা? তিন ছেলে দুই মেয়ে। পাঁচটা। দেখেন, এরা কিন্তু বুদ্ধিমান। এরা কিন্তু এক সন্তান নেয় না।
তার আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। তার সন্তান হচ্ছে চারটা। দুই ছেলে দুই মেয়ে। ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী, যিনি জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং ছয় বছর ধরে তিনি ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট। তিনি নিজে ডাক্তার, তার স্বামীও ডাক্তার। তাদের সন্তান হচ্ছে লাকি সেভেন সাত জন।
বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন টনি ব্লেয়ার। তার চার সন্তান। বৃটেনের রানী এলিজাবেথ। তার চার সন্তান। এটাতো গেল পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রনায়কদের অবস্থা।
২. ধনকুবেররা
ধনকুবেরদের কী অবস্থা? স্টিভ জবস, স্টিভ জবসের চার সন্তান। স্টিভ জবসের প্রতিদ্বন্দ্বী বিল গেটস। বিল গেটস দাবি করেন যে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে পৃথিবীতে পরিবেশগত অনেক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার কয় সন্তান? তিন সন্তান। অন্যেরটা কমাও, নিজেরটা ঠিক।
বিশ্বের এখন শীর্ষ ধনীদের একজন জেফ বেজোস। তার চার সন্তান।
এবং চার বছর ধরে এক নম্বর ধনী ইলন মাস্ক। তার কয় সন্তান জানেন? ১৪ সন্তান। ১৪ সন্তান।
৩. পাশ্চাত্যের বিনোদন তারকারা
এবং পাশ্চাত্যে বিনোদন জগৎ আমরা তো মনে করি যে, বিনোদন জগতে বোধহয় এরা সন্তানটন্তান নেয় না।
আপনি দেখেন, হলিউডের সবচেয়ে নামি পরিচালক স্পিলবার্গ। স্পিলবার্গের ছয় সন্তান। তারপরে অস্কারের জন্যে ২১ বার মনোনয়ন প্রাপ্তি, মনোনয়ন প্রাপ্ত অভিনেত্রী ছিলেন মেরিল স্ট্রিপ। তিনি চার সন্তানের জননী।
হলিউডের একমাত্র পাওয়ার কাপল ব্র্যাড ফিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তাদের চার সন্তান। আমেরিকার পপ সম্রাজ্ঞী বলা হয় ম্যাডোনাকে। তার ছয় সন্তান।
৪. ক্রীড়াক্ষেত্রের তারকারা
ক্রীড়াক্ষেত্রে তারকাদের কী অবস্থা? মাইকেল ফেলপস। যে সবচেয়ে বড় সাঁতারু। তার হচ্ছে চার সন্তান। আমেরিকার সবচেয়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডান। ছয় সন্তান। মোহাম্মদ আলী বক্সার। কয় সন্তান জানেন? নয় সন্তান। নয় সন্তান।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কয় সন্তান জানেন? পাঁচ সন্তান। যারা আমাদের দেশে জনসংখ্যা কমাতে বলে সেই দেশের ভিআইপিদের কী অবস্থা! তারা বলে যে তোমাদেরটা বাড়াও আর ওদেরটা কমুক। তাহলে ওরা দুর্বল হবে আমরা শক্তিমান হবো।
কারণ ওরা জানে- সন্তান হচ্ছে দেশের সম্পদ!
কিন্তু তারা এত চেষ্টা করেও ভিআইপিরা বাড়াতে পারছে সাধারণ মানুষ বাড়াতে পারে না। আর আমাদের ভিআইপিরা কমাতে পারছে সাধারণ মানুষ কমে না। তারা কমায় না তারা জানে যে সন্তান হচ্ছে সম্পদ।
তো আসলে এই বাণীটা সবার কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই যে, জনশক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। এবং একটা মহান জাতি হওয়ার জন্যে জনশক্তির কী দরকার? বিস্ফোরণ দরকার। কারণ একটা গ্রেট নেশন, মহান জাতি হতে হলে, ভালো মানুষ ভালো দেশ স্বর্গভূমি বাংলাদেশ করতে হলে কী দরকার? আমাদের প্রচুর মানুষ দরকার। যারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, মানুষজনের সেবা করবে। দক্ষ মানুষ, যোগ্য মানুষ।
কারণ আমাদের চেয়ে ব্রেনি মানুষ এবং আমাদের ব্রেনের চেয়ে ভালো ব্রেন আর কারো নাই। তো বিজয়ের মাসে এই বিজয়ের বাণী সব মানুষের মধ্যে আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই।
সবাই ভালো থাকুন। খোদা হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম।
[কোয়ান্টামম সাদাকায়ন, ২৮ নভেম্বর ২০২৫]
