বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ‘ককাস অব আমেরিকা ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংসদীয় ফোরাম গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত এই ককাস কাঠামো বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সংসদীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা পেল। এই উদ্যোগকে অনেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি বললেও, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এটি নতুন করে আলোচনার সূচনা করেছে ।
ককাসের গঠন ও নেতৃত্ব
নতুন গঠিত এই ককাসের নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ওসমান ফারুক (চেয়ারম্যান) এবং ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান (কো-চেয়ারম্যান) । ককাসের অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
· ব্যারিস্টার নওশাদ জামির (পঞ্চগড়-১)
· ব্যারিস্টার আন্দালীব রহমান (ভোলা-১)
· হুমাম কাদের চৌধারী (চট্টগ্রাম-৭)
· আখতার হোসেন (রংপুর-৪)
· মীর আহমেদ বিন কুশেম (ঢাকা-১৪)
· নিপুন রায় চৌধুরী
· সানজিদা ইসলাম
· মারদিয়া মোমতাজ
ককাস কী এবং কেন গঠিত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ককাস হলো সংসদ সদস্যদের একটি স্বেচ্ছায় গঠিত ফোরাম যা একটি নির্দিষ্ট ইস্যু বা দেশকে কেন্দ্র করে কাজ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ককাস গঠন করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণ, লবিং এবং দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে মধ্যস্থতা করা ।
‘ককাস’ শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে ১৮শ শতাব্দীর বোস্টন থেকে উদ্ভূত হলেও বর্তমানে এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘এ ফ্রিডম ২৫০ মিউজিক্যাল পারফরম্যান্স’-এর আমন্ত্রণপত্রে এই ককাসকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ককাসটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা নির্দেশ করে ।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
এক মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ককাসের মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে । যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষ থেকে এটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে ।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছেন, বিদেশি কোনো রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে সংসদীয় ককাস গঠন নতুন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে এ ধরনের ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ককাসের কার্যক্রম কতটা জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হবে এবং সংসদীয় কূটনীতিতে এটি কী ধরনের ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয় ।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সাংসদদের নিজ দলের বিপরীতে ভোট দেওয়া বা দল ত্যাগ করতে বাধা দেয় । এই প্রেক্ষাপটে, একটি নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থে সংসদের অভ্যন্তরে একটি অনানুষ্ঠানিক ফোরাম গঠন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
