এটা একজন কিশোরের লেখা।
৪৮৮ তম ব্যাচে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন আপনি বলেছিলেন শীতকালে যত সম্ভব স্বাভাবিক কাপড় পরিধান করতে আর সাথে শীতবস্ত্র রাখতে। যাতে লোকে জানে আমার একটা শীতবস্ত্র আছে। আমি সোয়েটার নিয়ে বাইরে বের হই কিন্তু আমার এলাকার লোকজন তা পছন্দ নয়। তারা শুধু বলে কেন পরো না। আমি বলি না পরা ভালো। কিন্তু এটার সায়েন্টিফিক মেথডটা যদি বলতেন তাহলে তাদের বোঝানো সহজ হবে।
নিয়মিত জাম্বুরা খেলে শীতের সময় ঠান্ডায় কষ্ট হয় না
তাদের কিছু বোঝানোর দরকার নাই। আমি-ই আসলে বোঝাতে পারি নাই। আমি বলেছিলাম যে, জাম্বুরা খেতে। যে জাম্বুরা যদি নিয়মিত খাওয়া হয় আগস্ট মাস থেকে তাহলে শীতের সময়ও ঠান্ডা লাগবে না, ঠান্ডায় কষ্ট হবে না।
এবং তারপরে জোক করে বলেছিলাম যে, শীতের সময় তাহলে কী করবেন? ঠান্ডা না লাগলে তো জামাকাপড় সোয়েটার টোয়েটার পরতে পারবেন না তো তখন একটা সোয়েটার সাথে রাখবেন। এটা হচ্ছে যে যাতে কেউ আবার শীতবস্ত্র দান না করে। কথাটা কিন্তু জোক করে বলা। সোয়েটার সাথে রেখে ঘুরে বেড়ানো না। ঠান্ডা লাগলে অবশ্যই অবশ্যই শীতবস্ত্র পরতে হবে।
রাজশাহীতে গুরুজীর শীতের অভিজ্ঞতা
তো এটা নিয়েও মজা আছে। অনেক সময় শীত যে পড়ে বোঝা যায় না।
আমি রাজশাহী গিয়েছি ডিসেম্বর মাসে প্রথম। তখন খুব শীত রাজশাহীর শীত তো আবার ঢাকার শীত থেকে আলাদা। ঢাকায় অত না। রাজশাহীর লোকজনের কাছে তো এটা অত শীত না। তো বলি যে না তেমন শীত না আমি ভাবলাম যে আচ্ছা তেমন শীত না তো ঠিক আছে।
কিন্তু রাজশাহীর তেমন আর ঢাকার তেমন যে এক না সেটা তো বুঝি নাই। আলোচনা শুরু করেছি ওটা মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে এবং তখন এটা দুপাশ দিয়ে ছিল জানালা ফাঁকা মঞ্চের দুইপাশ ফাঁকা।
তো আমি আলোচনা শুরু করছি আস্তে আস্তে তো বাতাস আসছে আমার আলোচনা গরম হচ্ছে কিন্তু বাতাস তো মানে ভেতরটা পুরো শরীর ঠান্ডা করে দিচ্ছে। পুরো শরীর ঠান্ডা করে দিচ্ছে। কিন্তু এখন আলোচনা তো শুরু করেছি নবীজীর (স) জীবন নিয়ে দেড় ঘণ্টার আলোচনা। এখন আলোচনা তো থামাতেও পারি না। আর এদিকে তো ভেতরে মানে (কাঁপাকাঁপি শব্দ) এই অবস্থা। বাট ওয়াও দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত আমি মানে এখন দাঁড়িয়েছি কথা তো বলতে হবে।
এবং উপস্থিত যারা শ্রোতা আরে বাপরে বাপ গুরুজীর কী পাওয়ার। ধ্যানের কী পাওয়ার। এই ঠান্ডার মধ্যে এভাবে আমি তো এই ড্রেসে। তো আমি দেড় ঘণ্টা পরে প্রথম ওখান থেকে ঘরে ঢুকে কম্বলের মধ্যে ঢুকলাম আধাঘণ্টা। তারপরে শরীর গরম হলো। মানে এত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।
অবস্থা এবং পরিস্থিতি অনুসারে যুক্তিসঙ্গত কাজটাই করুন
যেটা বাস্তব বাস্তব তো বাস্তব। কারো শীত বেশি কারো শীত কম। কারো গরম বেশি কারো গরম কম। তো অতএব বাস্তব কিন্তু বাস্তব। এবং বলবেন যে ধ্যানে তাহলে কী লাভ হলো? ধ্যানের লাভ হলো যে আমি দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত আমি কন্টিনিউ করতে পেরেছি এবং সাবলীলভাবে কন্টিনিউ করেছি এবং আমি আমার ঠান্ডা লেগেছে কিন্তু ঠান্ডাজনিত যে অন্য অসুবিধা সেই অসুবিধা হয় নি।
এরা তো খুব খুশি যে আরে বাপরে পাওয়ার। আমি বলি যে পাওয়ার অব মেডিটেশন তো তোমরা দেখেছ আর আমি দেখেছি যে পাওয়ার অব ঠান্ডা কত তা দেখেছি! অতএব বাস্তব বাস্তব। কারো গরম বেশি কারো গরম কম কারো ঠান্ডা বেশি কারো ঠান্ডা কম। অতএব পোশাক আশাক সেভাবে ধরবেন সেভাবে করবেন।
যেরকম আমাদের দেশে এক সময় পোশাক লুঙ্গি ছিল এখন তো লুঙ্গি কেউ পরে না। কারণ লুঙ্গি পরার প্রয়োজন হয় না। কারণ আগে লুঙ্গি পরার প্রয়োজন ছিল খালবিল পার হতে হতো। কাপড়তো ভিজানো যাবে না।
তো অতএব আমাদের এখানে লুঙ্গি শাড়ি এগুলো প্রচলন হয়েছে। আরবে তো লুঙ্গি শাড়ি নাই কারণ ওখানে ঝড় আসে মানে বালু ঝড় হয় মরুভূমিতে ঝড় হয় এভাবে বালু উড়ায়। যদি লুঙ্গি পরেন লুঙ্গি ওপরের দিকে উঠে যাবে। তো অতএব ঐখানে পায়জামা পাঞ্জাবি ঠিক আছে। এবং ওখানে মানুষ ঘোড়া ব্যবহার করে উট ব্যবহার করে। ঘোড়ায় উঠতে হলে পেছন দিক থেকে উঠতে হয়। এখন লুঙ্গি পরে যদি পেছন দিক থেকে উঠতে নেয় তো কী অবস্থা হবে?
তো অতএব ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে শারীরিক সমস্যা কার? কী রোগ এটার চেয়েও রোগটা কার হয়েছে এটা খুব ইম্পর্টেন্ট। একটু ঘষা লাগলেই ঘষাও লাগে নাই এরকম মানে গা ঘেষে চলে গেছে চিৎকার। আহারেও নাই নাই।
আবার আরেকজনের থেতলে গেছে বলে যে না একটু একটু হয়েছে। তো যার থেতলে গেলে একটু বলে তার ট্রিটমেন্ট একরকম আর যে ঘষার আগেই থেতলানো মনে করে তার ট্রিটমেন্ট আরেকরকম। অতএব যে অসুস্থ তার জীবনাচারের ওপর নির্ভর করছে তার জীবন কেমন হবে।
অতএব ইয়ংম্যান আপনি কী করবেন ঠান্ডা লাগলে অবশ্যই ঠান্ডার পোশাক পরবেন। সবসময় অবস্থা এবং পরিস্থিতি অনুসারে যেটা যুক্তিসঙ্গত যেটা প্রয়োজন সেটা করবেন।
