এ ইউ দৌলা
মানুষ বলতে আমরা আসলে কাকে বুঝি; এই রক্ত-মাংসের দৃশ্যমান শরীরকে, নাকি ভেতরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য সত্তা সেই ‘মন’কে? প্রশ্নটি জন্ম দিয়েছে এক গভীর দর্শনের। আধুনিক বিজ্ঞান এবং মনস্তত্ত্বের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার হাড়-গোড় বা পেশিতে নয়, বরং তার চিন্তার জগত বা মনের গভীরে যুক্ত।
এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করুন এমন একজন মানুষের কথা, যার হাত বা পা নেই, তা জন্মগতভাবেই হোক কিংবা কোনো দুর্ঘটনার কারণে। আমরা কি তাকে ‘মানুষ’ বলা বন্ধ করি? অবশ্যই না। অথচ, একজন সিক্স প্যাক সুঠাম দেহের অধিকারী ব্যক্তির মস্তিষ্ক যদি কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তবে তাকে আমরা বলি ‘মৃতদেহ’ বা ‘ডেড বডি’। সুঠাম শরীরটি তখনও আছে, কিন্তু সেখান থেকে ‘মানুষ’টি বিদায় নিয়েছে। সুতরাং এটি পরিস্কার যে, মানুষ আসলে তার মন। মনের সামর্থ্যই মানুষের সবচেয়ে বড় সামর্থ্য, আর মনের পার্থক্যই একজনকে অন্যজনের থেকে আলাদা করে দেয়।
অবশ্য এর মানে এই নয় যে দেহের প্রয়োজন কম বরং দেহ ও মনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও পারস্পরিক। দেহ যদি পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় এবং সুস্থ থাকে, তবে মস্তিষ্কে আনন্দের হরমোন নিঃসৃত হয় যা মনকে সজীব রাখে। আবার মন যদি উদবিগ্ন কিংবা বিষণ্ন থাকে, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি শরীরের ওপর পড়ে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ, একটি সুস্থ মনের জন্য সুস্থ দেহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ, আবার সুস্থ দেহের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য একটি প্রাণবন্ত মন অত্যন্ত দরকারি। কিন্তু এখানে একটি বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে কেননা যেখানে মনই জীবনের মুল অংশ তাই মনকেই চালকের আসনে রাখা দরকার।
বিজ্ঞান বলছে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে প্রায় ৭ অক্ট্রিলিয়ন (৭ এর পর ২৭টি শূন্য) পরমাণু রয়েছে। মাতৃগর্ভে মায়ের শরীর থেকে পাওয়া পুষ্টি দিয়ে একেবারে শুন্য থেকে যে দেহ গঠন শুরু হয়, জন্মের পর পরিবেশ থেকে পাওয়া খাবার, পানি আর আলো-বাতাসের মাধ্যমে তা বিকশিত হতে থাকে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, আমাদের দেহের এই পরমাণুগুলো কিন্তু স্থির থাকে না। প্রতিদিন আমাদের শরীরের প্রায় ১% পরমাণু ঝরে যায় এবং নতুন পরমাণু সেই জায়গা দখল করে। বৈজ্ঞানিক হিসেব মতে, প্রায় প্রতি ১০০ দিনে আমাদের শরীরের প্রায় শতভাগ পরমাণুই বদলে যায়। অর্থাৎ, তিন মাস আগে আপনার যে দেহটি ছিল, আজকের দেহটি সেটি নয়!
চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ দেহযন্ত্র মেরামত করার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। হার্ট, কিডনি বা হাঁটু, সবকিছুই আজ প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে। এমনকি মানুষ তার কাঁধে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগে ‘মেকানিক্যাল হার্ট’ বা কৃত্রিম কিডনি নিয়েও দিব্যি বেঁচে আছে। বিশ্বজুড়ে নিউট্রিশনিস্টরা আজ যে সূক্ষ্ম গবেষণা করছেন, তা কেবল খাবারের স্বাদ নয়, বরং শরীরের কোষীয় স্তরে তার প্রভাব নিয়ে। কোন খাবারের প্রোটিন কতটুকু বা কোন মিনারেলটি কখন গ্রহণ করতে হবে, এই বিষয়গুলো এখন গাণিতিক নির্ভুলতায় বিচার করা হচ্ছে। গবেষকরা কাজ করছেন Bioavailability নিয়ে, অর্থাৎ আপনি একটি পুষ্টিকর খাবার খেলেই হবে না, শরীর সেটি কতটুকু শোষণ করতে পারছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। Nutrient Sequencing এর গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি শর্করা খাওয়ার আগে প্রোটিন বা ফাইবার (শাকসবজি) খান, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা অর্থাৎ Blood Sugar spike অনেক কম হয়। এটি ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। দেখা যাচ্ছে কিছু ভিটামিন একে অপরের পরিপূরক, যেমন আয়রণ শোষণ করার জন্য শরীরে ভিটামিন-সি দেয়া জরুরি। আবার ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন-ডি এবং ভিটামিন কে-টু প্রয়োজন। নিউট্রিশনিস্টরা এখন এই ‘কম্বিনেশন’ বা সংমিশ্রণ নিয়ে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। সার্কাডিয়ান রিদম ও পুষ্টির গবেষণা বলছে শুধু খাবার নয় বরং সেই খাবারটি কোন সময় গ্রহণ করা হচ্ছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাতে মেলাটোনিন হরমোন যখন বাড়ে, তখন ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমে যায়। তাই রাতের খাবার হালকা হওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার ওপর এখন বিশ্বব্যাপী জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুষ্টির বিষয়ে মানুষের এই ক্রমবর্ধমান সচেতনতা একটি বিশাল বিশ্ববাজার তৈরি করেছে। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পুষ্টির বাজার ছিল প্রায় ৯৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এখন কেবল মাল্টিভিটামিন, ওমেগা-৩ বা ক্যালসিয়ামের মতো সাপ্লিমেন্টের বাজার ১৬০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। বর্তমানে মানুষ কেবল সাধারণ ডায়েট চার্ট নয়, বরং নিজের DNA টেস্ট করে নিজের শরীরের উপযোগী পুষ্টি পরিকল্পনা চাইছে। এই খাতের বাজার বছরে প্রায় ১৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শরীর বিষয়ে কেন আমরা এত সচেতন?
এর মূল কারণ হলো আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’ বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় বিশ্বাসী। মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে, ভুল পুষ্টির কারণে শরীরে যে দীর্ঘমেয়াদী Inflammation হয়, তা-ই ক্যান্সার বা হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণ। মানুষ শিখছে যে, শরীরের প্রতিটি অঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি মেটাতে পারলে বার্ধক্যকে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। বিশ্বের এই বিশাল মার্কেট এবং বিজ্ঞানীদের নিরন্তর গবেষণা প্রমাণ করে যে, আমরা এখন কেবল ‘পেট ভরানো’র যুগে নেই, বরং আমরা এখন ‘শরীর রি-প্রোগ্রামিং’ করার যুগে প্রবেশ করেছি।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় একটি প্রশ্ন – মানুষ তার শরীরের ব্যাপারে এত মনযোগী কিন্তু যে মন দিয়ে সে শরীরের প্রতি মনযোগী সেই মনের প্রতি তার এত অবিচার কেন ?
শরীরের পুষ্টিবিদদের বলা হয় ‘নিউট্রিশনিস্ট’, আর যারা সেই শরীরে লুকিয়ে থাকা ‘কমান্ড সেন্টার’ যা আসলে একটা ‘মেগা সফটওয়্যার’ সেই মনের গঠন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন, তাদের বলা হয় সাইকোমেট্রিশিয়ান বা মাইন্ড ইঞ্জিনিয়ার। এই বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, শরীরের পরমাণু পরিবর্তনের মতোই প্রতি মুহূর্তে আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনের কানেকশন বা ‘সিন্যাপস’ বদলে যাচ্ছে। আপনি এই প্রবন্ধের যে শব্দটি পড়ছেন, তা আপনার মস্তিষ্কে নতুন একটি ডাটা এন্ট্রি করছে এবং নিউরাল নেটওয়ার্ককে পরিবর্তিত করছে। এক সেকেন্ড আগে আপনি যা ছিলেন, এই তথ্যটি গ্রহণ করার পর আপনার মনের গঠন আর হুবহু তেমন নেই।
আপনি হয়ত এখনও জানেন না যে, আপনার মস্তিষ্ক কেবল একটি অঙ্গ নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি সুপার-কম্পিউটার। যেখানে আমাদের সচেতন মন প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ বিট তথ্য প্রসেস করতে পারে, অথচ আমাদের অবচেতন মন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লক্ষ বিট তথ্য গ্রহণ করে। এর মানে হলো, আপনি যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান, তখন আপনার সচেতন মন হয়তো কেবল সামনের ট্রাফিক দেখছে, কিন্তু আপনার অবচেতন মন রাস্তার ধারের বিলবোর্ডের রং, মানুষের কথাবার্তার শব্দ, বাতাসের তাপমাত্রা এবং এমনকি দোকানের মিউজিককেও ডাটা হিসেবে ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছে।
কিন্তু গভিরভাবে লক্ষণীয় যে, শরীরের যেমন প্রোটিন বা ভিটামিন প্রয়োজন, সুস্থ্য মনের জন্য প্রয়োজন ইতিবাচক ও গঠনমূলক ডাটা। যখন আপনি কোনো অনুপ্রেরণামূলক বই পড়েন, সৃজনশীল আলোচনা শোনেন বা গঠনমূলক কোনো দৃশ্য দেখেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ প্রক্রিয়ায় নতুন নতুন ইতিবাচক নিউরাল পাথওয়ে তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘মেন্টাল নিউট্রিশন’। আবার শরীরের জন্য ফরমালিন বা দূষিত বাতাস যেমন স্লো পয়জনিং তেমনি ‘টক্সিক ডাটা’ মনের জন্য গভিরভাবে বিপজ্জনক। সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক ট্রল, ভায়োলেন্স বা সহিংসতাপূর্ণ ভিডিও, গুজব এবং সারাক্ষণ অন্যের জীবনের সাথে নিজের তুলনা করার মতো ছবি ও তথ্যগুলো মনের মাঝে বিষক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে আমরা এক ভয়াবহ ‘অ্যাটেনশন ইকোনমি’র যুগে বাস করছি। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি ডলার খরচ করছে আপনার অবচেতন মনে তাদের ডাটা ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একজন আধুনিক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ বিজ্ঞাপন বা ব্র্যান্ড মেসেজ দেখে। এর অধিকাংশই আমাদের অবচেতন মন গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে আমাদের পছন্দ-অপছন্দ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, আপনার অবচেতন মনের মাঝে তারা তাদের প্রয়োজন ও ইচ্ছামতো ‘ডাটা ফিড’ করে চলেছে। কোনো শব্দ বা ছবি যদি মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্যও আপনার চোখের সামনে ভেসে ওঠে যা হয়ত আপনি সচেতনভাবে দেখতেও পান না, সেটিও আপনার পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কাজকে প্রভাবিত করে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় প্রাইমিং।
তাই প্লেটে খাবার নেওয়ার আগে আমরা যেভাবে যাচাই করি যে সেটি বিষাক্ত কি না, তেমনি আমাদের মনের প্লেটে কোন ডাটা নিচ্ছি তা যাচাই করা জরুরি। প্রতিটি ফেসবুক স্ক্রলিং, প্রতিটি ইউটিউব ভিডিও বা প্রতিটি আড্ডা আপনার মনের ভেতরে হয় একটি সুন্দর ইমারত গড়ছে, না হয় সেখানে বিষাক্ত জঞ্জাল জমা করছে। আর জানেন তো আপনার অবচেতন ২৪/৭ খোলা থাকে, এর কোনো ‘অফ বাটন’ নেই। তাই আপনি যা দেখবেন বা শুনবেন, সেটিই আপনার জীবনের সফটওয়্যার হিসেবে গড়ে উঠবে।
একটি শিশু যখন জন্ম নেয়, সে থাকে একটি সাদা কাগজের মতো আর ধীরে ধীরে তার মনের সফটওয়্যার বা ‘হ্যাবিট মেশিন’ তৈরি হয় তার চারপাশের পরিবেশ থেকে। আপনার শিশুটি তেমন মানুষ হয়েই বড় হচ্ছে যা সে প্রতিদিন দেখছে। শিশুকে যদি সারাদিন মোবাইল গেম বা অতি-উত্তেজনাপূর্ণ কার্টুনের মাঝে রাখা হয়, তবে তার ব্রেইনে ‘ডোপামিন’ নিউরোট্রান্সমিটারের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে সে ধৈর্যহীন হয়ে পড়ে এবং ভবিষ্যতে সবসময় বাড়তি উত্তেজনার নেশায় আসক্ত একজন মানুষে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে, শিশু যখন সেবা করতে দেখে বা অভাবী মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে শেখে, তখন তার মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ ও ‘গাবা’র মতো নিউরোট্রান্সমিটারের প্রবাহ বাড়ে, যা তাকে ধীরস্থির ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। শিশু যে পরিবেশে বড় হচ্ছে সেখানে যদি সবসময় চিৎকার, ঝগড়া বা ভায়োলেন্স থাকে তা সিনেমাতেই হোক আর বাস্তবেই হোক, তবে তার মস্তিস্কে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে সে বড় হয়ে খিটখিটে মেজাজ ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের শিকার হয়।
একটি নীরব মহামারি ও আমাদের করণীয়
আমরা আজ এক ভয়ঙ্কর ডিজিটাল ‘ডাটা পলিউশন’ বা তথ্য দূষণের যুগে বাস করছি। আমাদের সামনে ইউটিউব, ফেসবুক বা টেলিভিশনের মাধ্যমে যা বারবার তুলে ধরা হচ্ছে, যে নোংরা শব্দ গুলোকে বারবার সামনে আনা হচ্ছে তা কি আমাদের মনের পুষ্টি দিচ্ছে? নাকি সেগুলো আমাদের অজান্তে আমাদের শিশুদের মগজে হিংস্রতা, পরশ্রীকাতরতা আর অনৈতিকতার বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে? শরীরের রোগ দমনের জন্য আমরা হাসপাতাল, ক্লিনিক আর ওষুধের দোকান দিয়ে শহর সাজিয়েছি। কিন্তু মনের রোগ দমনে বা মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি?
একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামো বা সিক্স প্যাক শরীর বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়; প্রয়োজন সুশৃঙ্খল, শক্তিশালী এবং সুস্থ মনের নাগরিক সমাজ। শরীর সুস্থ রাখার জন্য আমরা যতটা মরিয়া, মনের নিরাপত্তার বিষয়ে তার কতটুকু চিন্তিত? আপনি নিশ্চয় দেখেছেন শরীর বিকল হলে মানুষ হুইলচেয়ারে বসেও বিশ্বজয় করতে পারে, কিন্তু মন বিকল হলে সে কেবল একটি বোঝা ব্যতিত আর কিছু নয়।
তাই সময় এসেছে প্রশ্ন করার, আমাদের শিক্ষার সিলেবাস থেকে শুরু করে বিনোদনের জগত পর্যন্ত, আমরা কি মনের পুষ্টির দিকে নজর দিচ্ছি? নাকি প্রতিদিন সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে মনের মেগা কমান্ড সেন্টারে বিষাক্ত সফটওয়্যার ইনস্টল করছি?
লেখক: গবেষক এবং ‘দ্য হ্যাবিট মেশিন’ গ্রন্থের প্রণেতা। ইমেইল: ash5609@gmail.com
