ইতিহাসের পাতায় ২৭ জানুয়ারি

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৭তম দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৮২২ : আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিসের স্বাধীনতা ঘোষণা।
১৮৮০ : টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির বাণিজ্যিক পেটেন্ট করেন।
১৯৭৩ : প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর ভিয়েতনামের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

জন্ম
১৭৮২ : তিতুমীর, একজন ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী।
১৮৮৬ : রাধাবিনোদ পাল; প্রখ্যাত বাঙালি আইনজ্ঞ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জাপান-বন্ধু ভারতীয় নামে সুপরিচিত।
১৮৯৭ : কৃষ্ণদয়াল বসু, প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক।
১৯৩২ : লুইস ক্যারল, ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’খ্যাত হাস্যরস শিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক।

মৃত্যু
১৫৫৬ : দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট হুমায়ুন।
১৯৭৮ : খ্যাতনামা চিকিৎসক ও সাংবাদিক পশুপতি ভট্টাচার্য।
১৯৮৬ : মাইহার ঘরানার ভারতীয় ধ্রুপদী সেতার বাদক পণ্ডিত নিখিল রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০০৭ : বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হক।

শহীদ বীর তিতুমীর
তিতুমীর ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি অত্যাচারিত জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও বিখ্যাত বাঁশের কেল্লার জন্যে বিখ্যাত হয়ে আছেন। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে তিতুমীর উজ্জ্বল এক নাম। তিতুমীর নামে পরিচিত হলেও তাঁর পুরো নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।

জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমায়। বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মা আবিদা রোকেয়া খাতুন। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন তিতুমীর। তিনি ইসলামি ধর্মশাস্ত্র, আইনশাস্ত্র, দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পণ্ডিত ছিলেন। মাদ্রাসায় পড়ার সময় একজন দক্ষ কুস্তিগির হিসেবেও পরিচিতি পান। ১৮২২ সালে তিনি পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কায় যান। সেখানে বিখ্যাত ইসলামি ধর্মসংস্কারক ও বিপ্লবী নেতা সাইয়িদ আহমদ শহীদের সান্নিধ্যে আসেন।

মক্কা থেকে ফেরার পর তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তিতুমীর জমিদার কৃষ্ণদেব রায় কর্তৃক মুসলমানদের উপর বৈষম্যমূলকভাবে আরোপিত ‘দাঁড়ির খাজনা’ এবং মসজিদের করের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীদের সাথে স্থানীয় জমিদার ও নীলকর সাহেবদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হতে থাকে। তিনি অনুসারীদের সশস্ত্র সংগ্রামের জন্যে প্রস্তুত করে তোলেন। বারাসতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন। ইতিহাসে এ কেল্লাই নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নামে বিখ্যাত। দ্বিস্তর বিশিষ্ট এ কেল্লার উপাদান ছিল বাঁশ এবং কাদা।

তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্থানীয় জমিদার এবং ব্রিটিশ বাহিনী তিতুমীরের হাতে বেশ কয়েকবার পরাজয় বরণ করে। অবশেষে ১৮৩১ সালের ১৩ নভেম্বর ব্রিটিশ সৈন্যরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তিতুমীর স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেন, ‘ভাই সব, একটু পরেই ইংরেজ বাহিনী আমাদের কেল্লা আক্রমণ করবে। লড়াইতে হার-জিত আছেই, এতে আমাদের ভয় পেলে চলবে না। দেশের জন্যে শহীদ হওয়ার মর্যদা অনেক। তবে এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমরা যে লড়াই শুরু করলাম, এই পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে’। ১৯ নভেম্বর কর্নেল হার্ডিং-এর নেতৃত্বে ব্রিটিশ সৈন্যরা তিতুমীর ও তার অনুসারীদের আক্রমণ করে। ওই দিন তিতুমীর ও তার চল্লিশ জন সহচর শহীদ হন।

তিতুমীর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে মুহাম্মদ জিন্নাহ কলেজকে তার নাম অনুসারে ‘সরকারী তিতুমীর কলেজ’ নামকরণ করা হয়। তিতুমীরের নামে বুয়েটে একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় ‘তিতুমীর হল’। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নামকরণ করা হয় ‘বিএনএস তিতুমীর’।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *