গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের চতুর্থ দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।
ঘটনাবলি
১৮৬১ : মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক রচিত মেঘনাদ বধ মহাকাব্য প্রকাশিত হয়।
১৮৮৫ : প্রথম অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন হয়।
১৯২৭ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।
১৯৪৮ : সাবেক বার্মা বর্তমানের মিয়ানমার ইংরেজ শাসনের কবল থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৯৬০ : নোবেলজয়ী ফরাসি কথাসাহিত্যিক আলবেয়ার কাম্যু দুর্ঘটনায় নিহত হন।
১৯৭২ : বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এর আনুষ্ঠানিক গোড়াপত্তন।
জন্ম
১৮০৯ : লুই ব্রেইল, অন্ধদের শিক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তক।
১৮১৩ : স্যার আইজাক পিটম্যান, শর্টহ্যান্ড লেখন পদ্ধতির উদ্ভাবক।
১৯৫০ : খোন্দকার আশরাফ হোসেন, বাংলাদেশি কবি এবং সাহিত্য সমালোচক।
১৯৬৬ : ফাহমিদা নবী, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী।
মৃত্যু
১৯৪১ : নোবেলজয়ী ফরাসি দার্শনিক অঁরি বেগসঁ।
১৯৬১ : অস্ট্রীয় পদার্থবিদ এরউইন শ্রোডিঙ্গার।
১৯৬৫ : কবি ও সমালোচক টিএস এলিয়ট।
১৯৯৪ : ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণ।
১৯৯৭ : কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
বিশ্ব ব্রেইল দিবস
আজ ৪ জানুয়ারি। বিশ্ব ব্রেইল দিবস। ফরাসি নাগরিক লুইস ব্রেইলের নামানুসারে এ দিবসের উৎপত্তি। লুইস ব্রেইল জন্মগ্রহণ করেন ৪ জানুয়ারি ১৮০৯ সালে। ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একটি কোড আবিষ্কার করেন। অন্ধদের অধ্যয়ন, লেখা ও পড়ার সুবিধার জন্যে আবিষ্কৃত এ কোড তারই নামানুসারে ব্রেইল কোড বা ব্রেইল ভাষা নামে পরিচিত।
লুইস ব্রেইল ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং অধ্যবসায়ী একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। বাবা সিমন রেনে এবং মা মনিকু। বাবা ছিলেন স্বনামধন্য চামড়া ব্যবসায়ী এবং ঘোড়ার বন্ধনরজ্জু প্রস্তুতকারী একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মালিক। শিশু লুইস বাবার কারখানায় খেলাধুলা করতেন। তিন বছর বয়সে খেলাধুলার সময় সুঁইজাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়ায় গর্ত করার সময় সংঘটিত মারাত্মক দুর্ঘটনায় শিশু লুইসের দুটি চোখই নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি অন্ধ হয়ে যান।
অন্ধ হয়ে গেলেও তার মেধার স্ফূরণ বন্ধ হয়ে যায়নি। চক্ষুহীন জীবনকে চক্ষুময় জীবনের মতো উপভোগের উপায় খুঁজে বের করার প্রাণান্তকর চেষ্টায় নিবেদিত হন তিনি। মাত্র পনের বছর বয়সে তিনি অন্ধদের লেখা ও পড়ার জন্যে ব্রেইল ভাষা আবিষ্কার করেন। কাগজের উপর মাত্র ছয়টি ডট দিয়ে অন্ধদের লেখাপড়ার একটি অতি সহজ ভাষা ও পদ্ধতি আবিষ্কার করে পনের বছর বয়সের এ শিশু পুরো পৃথিবীকে হতবাক করে দেন।
ব্রেইলের এই পদ্ধতি এমন জাদুকরি যে, মাত্র ছয়টি ডট দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো ভাষার যে কোনো কিছু প্রকাশ করা যায়। অন্ধরা কাগজে মুদ্রিত ডটে আঙুল চালিয়ে এ লেখা সহজে পড়তে পারেন। ব্রেইল ভাষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি সহজে যে কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যায়। পূর্বে বিশেষ ধরনের টাইপ মেশিন দিয়ে ব্রেইল অক্ষর লেখা হতো। বর্তমানে কম্পিউটারের সাহায্যে ব্রেইল ভাষা লেখা হয়। ব্রেইল ছয়টি ডটের অনবদ্য জাদু দিয়ে পৃথিবীর সব অন্ধদের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে দেন। সারা বিশ্ব শুধু এই একটি কারণে ব্রেইলের কাছে ঋণী হয়ে থাকবে।
ব্রেইলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে প্রতিবছর ৪ জানুয়ারি বিশ্ব ব্রেইল দিবস পালন করা হয়। দিবসটি পালনের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম আবিষ্কারক ও অন্ধদের শিক্ষক লুইস ব্রেইলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। ব্রেইল ভাষার প্রচার-প্রসারকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে অন্ধদের শিক্ষার মানকে আরো উন্নত করা, অন্ধ ও তাদের শিক্ষার প্রতি সার্বজনীন সচেতনতা সৃষ্টি দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। লুইস ব্রেইলের জীবন ও অবদানের উপর আলোচনা, রচনা প্রতিযোগিতা চলচ্চিত্র প্রদর্শন, অন্ধদের নিয়ে বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বত্র মহাসমারোহে দিবসটি পালিত হয়।
সূত্র: সংগৃহীত
