বাংলাদেশে আধুনিক যোগচর্চার ৪০ বছর: কোয়ান্টাম মেডিটেশনের পথচলা! শোকর আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে, ৮০-দশকে এখন থেকে ৪০ বছর আগে যোগচর্চাকে আমরা আমাদের দেশে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিই। আমরা ৮৩ সালে যোগ মেডিটেশন ইয়োগা মেডিটেশন সেন্টার করলাম। তার আগে থেকেই আমাদের যে শান্তিনগর অফিস সেখানে শিল্পচার্য কামরুল হাসান, শিল্পী রশিদ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ড. আখলাকুর রহমান, ড. অধ্যাপক কাজী মফিজুর রহমান, ড. ফজলুর রহমানসহ প্রচুর বুদ্ধিজীবীরা আসতেন। যোগের আসর বসত এবং তারা নিয়মিত আসতেন।
এখন তো ধরুন- সবখানে যোগ এখন ফ্যাশন হয়ে গেছে। নাচে গানে ভরপুর হয়ে গেছে বিনোদন হয়ে গেছে এবং পণ্য হয়ে গেছে, প্রোডাক্ট হয়ে গেছে। তো আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন আমাদের ব্যঙ্গবিদ্রুপ ছাড়া কিছু করা হতো না।
৪০০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস : স্রষ্টায় সমর্পিত হওয়ার চিরন্তন বিজ্ঞান ‘যোগ’! এবং আমাদের ধর্মবিশ্বাস ঠিক আছে কিনা এটা নিয়েও কেউ কেউ যে প্রশ্ন করেন নাই তা না, প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু তারা আসলে জানেন না, যারা প্রশ্ন করেছেন যে আসলে ধর্মকে অন্তরে লালন করার জন্যেই যোগের উদ্ভব হয়েছে এখন থেকে চার হাজার বছর আগে। মহেনজোদারো-হরপ্পাতে দ্রাবিড় ঋষিরা তারা পরমাত্মার সাথে, তারা স্রষ্টাকে বলতেন যে, পরমাত্মা। পরমাত্মা থেকে আমাদের সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরমাত্মার সাথে আত্মার সংযোগ সাধনের জন্যে এই যোগ সাধনার প্রক্রিয়া তারা শুরু করেন। এবং পরবর্তীতে আর্য ঋষিরা এই সাধনায় একাত্ম হন এবং পরবর্তীকালে এটা অষ্টাঙ্গ যোগ হিসেবে বিকশিত হয়।
৮টি বিষয় চমৎকার একটা মিশেল বা সমন্বয় হচ্ছে এই ইয়োগা বা যোগ। অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ৫ ধাপ: সমর্পণ ও আত্মশুদ্ধি, প্রাণায়াম ও ইন্দ্রিয় সংযমের সহজ পাঠ! প্রথম অঙ্গ: যম যম মানে হচ্ছে নিজেকে স্রষ্টার কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করা।
সাধনার শুরুই হচ্ছে, নিজেকে স্রষ্টার কাছে পুরোপুরি সমর্পণ। · অহিংসা, অর্থাৎ হিংসা করা যাবে না। · সত্যবাদিতা, সবসময় সত্য বলতে হবে। · চুরি না করা, চুরি করা যাবে না।· সব ব্যাপারে নীতি-নৈতিকতার অনুসরণ করতে হবে।
দ্বিতীয় অঙ্গ: নিয়ম নিয়মের প্রথমটা হচ্ছে, সন্তোষ। সন্তোষ মানে হচ্ছে- কৃতজ্ঞতা/শুকরিয়া। সন্তুষ্টচিত্তে নিয়মমতো প্রতিটি কাজ করা। · যে-কাজই করবেন সন্তুষ্টচিত্তে করবেন, কৃতজ্ঞচিত্তে করবেন। · ধন্যবাদ দিয়ে করবেন যে, “প্রভু! তুমি আমাকে এই কাজটা করার সুযোগ দিয়েছ।” · পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আহার-বিহার, অনুশীলন সবকিছুর ব্যাপারে একাগ্রতা।
তৃতীয় অঙ্গ: আসন যোগ বলতে আমরা যেটা বুঝি- আসন। যেটা যোগাসন। এবং এই যোগাসনটা হচ্ছে দৈহিক/ফিজিক্যাল ফিটনেসের জন্যে।
চতুর্থ অঙ্গ: প্রাণায়াম প্রাণায়াম বা দমচর্চা। এই দমচর্চা হচ্ছে এনার্জি ফিটনেসের জন্যে। যাতে আপনি এনার্জাইজড থাকতে পারে সবসময়।
পঞ্চম অঙ্গ: প্রত্যাহার প্রত্যাহার মানে হচ্ছে, ইন্দ্রিয় সংযম। অর্থাৎ সবকিছুর ব্যাপারে সংযমী হওয়া। আমরা কোয়ান্টামে কী বলি? “আই ক্যান ফাস্ট।” অর্থাৎ আমি যে-কোনো ব্যাপারে সংযম করতে পারি। শুধু খাবারের ব্যাপারে না, যে-কোনো ব্যাপারে সংযম করতে পারি। থাকবে সামনে কিন্তু আমি টাচ করব না- এটা হচ্ছে সংযম। খাবার নাই! না খেয়ে থাকতে হবে। খাবার সামনে থাকবে, বিরিয়ানির গন্ধ এরকম আহ! কিন্তু আপনি কী করবেন না? আপনি খাবেন না। এটা হচ্ছে সংযম। প্রত্যাহার/ইন্দ্রিয় সংযম মানে সমস্তরকম ভোগ-বিলাসিতাকে নিয়ন্ত্রণ করা। — অষ্টাঙ্গ যোগের শেষ ৩ ধাপ : মনোযোগায়ন, মেডিটেশন ও সমাধি!
ষষ্ঠ অঙ্গ: ধারণা মনোযোগায়ন। মনটাকে একটা জায়গায় স্থির করা এটা হচ্ছে ষষ্ঠ অঙ্গ।
সপ্তম অঙ্গ: ধ্যান মেডিটেশন যেটা আমরা করি। চিন্তার আত্মনিমর্জন বা আত্মনিমগ্ন চিন্তা। চিন্তাটার মধ্যে নিজেকে নিমগ্ন করে দেয়া, আত্মনিমগ্ন চিন্তা এটা হচ্ছে ধ্যান।
অষ্টম অঙ্গ: সমাধি অতিমানসচেতনা যখন আপনি সমাধির স্তরে চলে গেছেন, ফানাফিল্লাহ। আপনি যে-কোনো সময় স্রষ্টার সাথে কন্টাক্ট করতে পারবেন। You can contact. অর্থাৎ চ্যানেল ওপেন হয়ে গেছে স্রষ্টার সাথে সরাসরি। এটা হচ্ছে অষ্টম অঙ্গ সমাধি।
প্রকৃত সাধকের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিৎ? তো আসলে যোগের এই যে বিন্যাস অষ্ট অঙ্গ। এই অঙ্গ বিন্যাসই বলে দেয় যে, যোগের লক্ষ্য কী ছিল? মুনি-ঋষিদের লক্ষ্য কী ছিল? তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই- স্রষ্টায় সমর্পিত, অহিংস শুদ্ধাচারী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। কারণ যে অন্তরে হিংসা আছে যে অন্তরে বিদ্বেষ আছে যে অন্তরে ঘৃণা আছে যে অন্তরে উগ্রতা আছে সে অন্তর কখনো স্রষ্টার সাথে সংযুক্ত হতে পারে না। স্রষ্টার সাথে সংযুক্ত হতে হলে এই হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণা উগ্রতা এটাকে পরিহার করতে হবে। একজন সত্যিকারের যোগী যিনি, সাধক যিনি তিনি সবসময় সংযমী, নীতিনিষ্ঠ এবং সমমর্মী এবং সবসময় হিংসা এবং উগ্রতা থেকে মুক্ত। তার জীবনে কোনো হিংসা থাকবে না, উগ্রতা থাকবে না। তার জীবনে শুধু মমতা থাকবে, দয়া থাকবে, প্রেম থাকবে, দোয়া থাকবে প্রার্থনা থাকবে, সবার কল্যাণ চিন্তা থাকবে। এটাই হচ্ছে একজন সাধকের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব।
যোগ মেডিটেশন চর্চার এই যে সার্বজনীন উপকারিতা- এই উপকারিতার জন্যে ধর্মনিষ্ঠ এবং বিজ্ঞাননিষ্ঠ সচেতন মানুষের কাছে এখন এটা আধুনিককালে প্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ আধুনিক যে যুগ যন্ত্রণা এই যুগ যন্ত্রণায় দেখা যাচ্ছে যে প্রযুক্তি বা পণ্য একজন মানুষকে সুখী করতে পারছে না, বরং যত বেশি প্রযুক্তির সাথে জড়াচ্ছে যত বেশি পণ্যের সাথে সে জড়াচ্ছে তত তার অস্থিরতা বাড়ছে। এবং এজন্যেই আধুনিক মানুষ ধর্মনিষ্ঠ মানুষ বা বিজ্ঞাননিষ্ঠ মানুষ ইয়োগা মেডিটেশনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এবং সার্বজনীন চর্চা হচ্ছে এবং অজস্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর যে মনোদৈহিক উপকারিতা এটা উঠে এসেছে।
হার্ভার্ডের লেটেস্ট গবেষণা : মানসিক প্রশান্তি ও ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ায় ইয়োগা! এবং সবচেয়ে লেটেস্ট যে গবেষণা ২০২৪ সালের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অফিসিয়াল মুখপাত্র হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, এটা হচ্ছে- তাদের অফিসিয়াল মুখপাত্র। ম্যাগাজিন। তারা ২০২৪ সালের ২৯শে এপ্রিল ‘Yoga for better mental health’ শিরোনামে একটা গবেষণা নিবন্ধ তারা প্রকাশ করেন। এতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয় যে, ইয়োগা বা যোগ সবসময় দমচর্চা ও মেডিটেশনকে গুরুত্ব দেয়ায় এতে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও বিষণ্নতা কমবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিবন্ধে বলা হয় যে, অবাক করা বিষয় হচ্ছে- যোগ মেডিটেশন আপনার ব্রেনের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ব্রেনকে আরো ভালোভাবে কাজ করার উপযুক্ত করে তোলে।
ব্রেনের ‘ওয়েট লিফটিং’ : বার্ধক্য প্রতিরোধ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যোগের জাদুকরী ভূমিকা! গবেষণা নিবন্ধে আরো বলা হয়- ওয়েট লিফটিং বা ভার উত্তোলনে পেশি মজবুত হয়। তারা বলছে, তেমনি যোগ মেডিটেশন করলে নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট বা সংযোগপথ তৈরি হয়। যখন আপনি ইয়োগা মেডিটেশন করছেন আপনার ব্রেনের নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট এবং সংযোগপথ তৈরি হচ্ছে এবং ব্রেনের ওয়ার্কিং স্ট্রাকচার চেঞ্জ হয়ে যায় এবং এটা শক্তিশালী হয়, মজবুত হয় ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, ভাবার ক্ষমতা এবং ভাষাগত দক্ষতা বাড়ে।
নিবন্ধে বলা হয় যে, যোগ মেডিটেশনকে আপনি অনায়াসে ভাবতে পারেন এটা ব্রেনের ওয়েট লিফটিং, ব্রেনের ভার উত্তোলন ব্যায়াম। হার্ভার্ডের এই নিবন্ধে আরো বলা হয় যে, এমআরআই স্ক্যান ও ব্রেন ইমেজিং টেকনোলজি ব্যবহার করে দেখা গেছে- যারা নিয়মিত ইয়োগাচর্চা করে তাদের সেরিব্রাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাসের পুরুত্ব বাড়ে। এই সেরিব্রাল কর্টেক্স ব্রেনের এই অংশ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং হিপোক্যাম্পাস, ব্রেনের এই অংশ শিক্ষণ এবং স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
যখনই আপনি ইয়োগা মেডিটেশন চর্চা করছেন তখন এই সেরিব্রাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস এটা পুষ্ট হচ্ছে, মজবুত হচ্ছে, সতেজ হচ্ছে, তাজা হচ্ছে। আর যৌবনের পরে বয়স যখন বাড়তে থাকে তখন হিপোক্যাম্পাস এবং সেরিব্রাল কর্টেক্স এটা স্রিঙ্ক করতে থাকে। একটু একটু কুচকাতে থাকে, একটু একটু দুর্বল হতে থাকে। যে-রকম বয়স হয়ে গেলে চেহারার ত্বক কী হয়? একটু একটু কী হয়? ভাজ পড়ে। তো সে-রকম বয়স বাড়ার সাথে সাথে হিপোক্যাম্পাস এবং সেরিব্রাল কর্টেক্সও একটু একটু কুচকাতে থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, যারা যোগ মেডিটেশন করেন তাদের এই সেরিব্রাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস এটা সতেজ এবং পুষ্ট থাকে। বয়স বাড়লেও সতেজ এবং পুষ্ট থাকে। এবং নিয়মিত যখন আপনি যোগ মেডিটেশন চর্চা করবেন কী হবে? এটা আপনার সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে, যুক্তি প্রয়োগ, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার স্বতঃস্ফূর্ত যে ক্ষমতা এই ক্ষমতাটা বাড়াবে। অতএব যোগ মেডিটেশন শুধু আধ্যাত্মিকতার জন্যে না, এটা আপনার বৈষয়িক ব্যাপারেও একইরকমভাবে কার্যকরী।
কোয়ান্টাম ইয়োগা : আসন ও ভিজ্যুয়ালাইজেশনের আধুনিক সমন্বয়! তো আসলে ইয়োগার এই কার্যকারিতা কেন সম্ভব হয়েছে? কারণ ইয়োগার সাথে দমচর্চা এবং মেডিটেশন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এবং আমরা পরম করুণাময়ের কাছে গভীর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ৪০ বছর ধরে আমরা এক্ষেত্রে পায়োনিয়ার ছিলাম ইয়োগা চর্চার ক্ষেত্রে। মনোদৈহিক স্বাস্থ্যসুরক্ষায় যোগ মেডিটেশনের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে এখন প্রমাণিত হয়েছে, যে কারণে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যোগ মেডিটেশনকে স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।
আমরা পরম প্রভুর কাছে আরো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যে, ইয়োগার ক্ষেত্রে আমরা যুগান্তকারী সংযোজন করেছি ৪০ বছর আগে। সেটা হচ্ছে যোগের আসনের উপকারিতার সাথে সাথে আমরা ভিজুয়ালাইজেশনটাকে যোগ করেছি। আসনের তো দৈহিক মুভমেন্টের উপকার আছে এটাকে ফরটিফাইড করার জন্যে এটার শক্তি বাড়ানোর জন্যে আমরা ভিজুয়ালাইজেশন যেটা মনোবিজ্ঞানের খুব আধুনিক টেকনিক এই আধুনিক টেকনিককে সংযোগ করেছি। অর্থাৎ আসন+ভিশন। আসন করছেন এবং সেটার সাথে ভিশন আপনি কল্পনাচিত্র করছেন, আপনি ভাবনার চিত্র করছেন যে এই আসনের ফলে এই উপকার হচ্ছে। এই যে ভাবনাচিত্র অর্থাৎ আসনের সাথে ভিশন বা ভাবনাচিত্রের যে সংযোজন এটা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের খুব একটা চমৎকার টেকনিক, এই টেকনিককে আমরা সংযোজিত করেছি ইয়োগার সাথে। ফলে যোগের যে আসনের শক্তি এর সাথে কোয়ান্টামের ভাবনার যে কোয়ান্টাম শক্তি এটা যুক্ত হয়ে এটার নতুন নামকরণ আমরা করেছি কোয়ান্টাম ইয়োগা। যার ফলে যোগের যে কার্যকারিতা, ব্যায়ামের যে কার্যকারিতা, আসনের যে কার্যকারিতা এটা আরো বেড়ে গেছে।
নবীজীর (স) শারীরিক ফিটনেস : নামাজ, সুন্নতি ‘কারফাসা’ বা বঙ্গাসন! এবং আমাদের নবীজী (স) তিনি শুধু আত্মিক, সামাজিক, মানসিক, ফিটনেসের প্রতীক ছিলেন না। তিনি শারীরিক ফিটনেসেরও জ্বলন্ত উদাহরণ। কীরকম? আল্লাহর নির্দেশে তিনি যে প্রক্রিয়ায় আমাদেরকে নামাজ পড়তে শিখিয়েছেন, এই নামাজে ইয়োগার ৮২টা আসন এবং মুদ্রার সমন্বয় রয়েছে। যে কারণে যারা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন তাদের শারীরিক ফিটনেস অনেক বেশি। যদি তারা খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে শুধু একটু নিয়ম-কানুন মেনে চলেন তাদের শারীরিক ফিটনেস অন্যরকম হবে।
নবীজী (স) প্রায়শই কথা বলার সময় একটা আসনে বসতেন। সেটা হচ্ছে কারফাসা, আমরা যেটাকে বলি বঙ্গাসন। এই যে বঙ্গাসনে বসার ফলে রসুলুল্লাহর (স) পায়ের শক্তি যেটা ছিল শুধু একটা ঘটনা দিয়ে আমরা বলি। রসুলুল্লাহ (স) ওফাত লাভ করলেন কত বছর বয়সে? ৬৩ বছর বয়সে। এবং ওনার শেষ অভিযান যেটা গিয়েছিলেন রোমানদের বিরুদ্ধে এটার নাম কী ছিল? তাবুক। এবং তাবুকের সেই রোদ, সেই মরুভূমি, সেই গরমকালে আমরা মাত্র এইরকম সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলায় বসে গরমের যে কী তাপভোগী আর সেই জুন-জুলাই মাসে মরুভূমিতে তাবুক এতশ মাইল যাত্রা। এবং তাবুকের যে অভিযাত্রা অভিযাত্রার সময় এক সাহাবী শহীদ হন। যুদ্ধ হয় নাই কিন্তু শহীদ হন। তো নবীজী (স) একা কবরে তার লাশ নামিয়েছেন দুই হাতে। তার মানে ওনার পায়ের শক্তি কী! লাশের ওজন বাড়ে না কমে? একা একজন মানুষ! এমনিই তো লাশ নামাতে চারজন লাগে বা তিনজন তো লাগেই। তিনি একা নামিয়েছেন। তাকে কবরে শুইয়েছেন। অর্থাৎ তার ফিজিক্যাল ফিটনেস কতটা ছিল! তো অতএব রসুলুল্লাহর (স) এই যে সুন্নত কারফাসা বা বঙ্গাসন- এই একটা সুন্নত এটা আপনার জীবনে জারি করবেন এবং যত যোগচর্চা করবেন, মেডিটেশন চর্চা যত নিয়মিত করবেন তত আপনি ফিজিক্যাল ফিটনেসের পথে তত এগিয়ে যাবেন।
আমরা সবসময় বলি- নিজে ভালো থাকুন এবং সবসময় ভালোর সাথে থাকুন। নিজে যদি ভালো না থাকেন, ভালোর সাথে থাকতে পারবেন না। তো সবাই ভালো থাকুন। খোদা হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম।
লেখক: কোয়ান্টামম সাদাকায়ন তারিখ: ২১ জুন ২০২৪
