একটা হাসপাতাল একটা রুম একটা কক্ষ দুটো বেড। দুইজন রোগী। একজন রোগী ছিল আরেকজন রোগী নতুন এলো পঙ্গু রোগী। দুইজনই বেডেই সবকিছু আরকি মানে। বেড থেকে নামতে পারে না হাঁটতে পারে না কোনোরকম বেডে বসতে পারে ওঠে আরকি মানে।
দুই রোগীর গল্প : ১ম রোগী গল্প করতে ভালবাসে
স্বাভাবিকভাবে এরকম রোগীদের আত্মীয়স্বজনরাও কম আসে। তো স্বাভাবিকভাবে একজন রোগী নতুন রোগী আরেজকন যখন আসছে যিনি আগে ছিলেন তিনি আবার গল্প করতে খুব পছন্দ করে। যিনি নতুন এসছেন তিনি অত মানে গল্প করতে পারেন না কিন্তু শুনতে তার আপত্তি নাই।
পুরনো যে নিজেই উদ্যোগী হয়ে নতুনের সাথে আলাপ পরিচয় শুরু করল কথাবার্তা শুরু করল এই কথা সেই কথা। অনেক মানুষ আছে তাদের কথা শুনলে আরো কথা শুনতে ইচ্ছে করে তাদের কথা বলার আর্টটাই এইরকম যে কথা শুনলে আরো শুনতে ইচ্ছে করে।
তো দুইজন দুইজনের মধ্যে খুব ভাব হয়ে গেল একজন আরেকজনের কথা বলে ছোটবেলার কথা। দুইজনই বয়স্ক প্রবীণ। তো ছোটবেলার কথা এই কথা সেই কথা সমস্ত কথাবার্তা হচ্ছে। একজনের বিছানা হচ্ছে সাইডে দেয়াল আরেকজনের বিছানা সাইডে একটা জানালা আছে।
তো যে দেয়ালওয়ালা বেডের যে নতুন রোগী পুরনোকে জিজ্ঞেস করছে কথা বলতে বলতে যে, তুমি একটু দেখো না চেষ্টা করে একটু উঠে জানালা দিয়ে কিছু দেখা যায় কিনা।
তো জানালার পাশে যে রোগী সে কোনোরকম চেষ্টা করে উঠে জানালা পর্যন্ত গিয়েছে। যেয়ে একটা হাসি দিল আরকি। আহ জানালা আহাহা কী সুন্দর লেক কী নীল স্বচ্ছ পানি। চিনাহাঁসগুলো উড়ে যাচ্ছে একেকটার রঙ একেকরকম।
আহা বন্ধু! পানি এত সুন্দর নীল স্বচ্ছ পানি। মনে হয় যে আহাহা ওখানে গিয়ে যদি ঝাঁপ দিয়ে গোসল করতে পারতাম। শুনেই খুশি কারণ এ-তো নড়তে পাচ্ছে না বিছানা থেকে। তারপরে এখন প্রত্যেকদিন শুরু হলো বিকেলবেলা যে তাকে ঐ জানালার পাশে দাঁড়াতে হবে যে কী দেখছে এটা তাকে বলতে হবে এবং দুইজন খুব রিলিশ করছে। এ বলছে যে, আচ্ছা লেক লেকের পাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চাটাচ্চা? আরে একঝাঁক বাচ্চা আরকি তারা ইয়ে করছে… মায়েরা সব আছে। বলে যে তোমার নাতির বয়সী হবে।
আবার নিজের নাতি নিয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হলো। খুব আনন্দে ছিল মানে তাদের দিনগুলো আরো ভালো কাটা শুরু করল।
আরে পহেলা বৈশাখ। এই যে দেখ আরকি র্যালি যাচ্ছে এই হাতি নিয়ে ঘোড়া নিয়ে এই নিয়ে সেই নিয়ে খুব মজার খুব খুশি।
কিছুদিন পর ২য় রোগীর শোনার আগ্রহ কমে গেল
কয়েকদিন পরে দেখা গেল যে শুনছে তার আগ্রহটা কমে যাচ্ছে আরকি। সে ঠিক শোনার ব্যাপারে অত মনোযোগী না। শ্রোতা শোনার ব্যাপারে মনোযোগী কিনা এটা কিন্তু বক্তা বুঝতে পারে। তো যেহেতু শ্রোতা মনোযোগ কমে গেছে বক্তারও মনোযোগ কম কমতে শুরু করল। আস্তে আস্তে মোটামুটি কথা এই দুই চারটা প্রয়োজনের কথা ছাড়া কাজের কথা ছাড়া আর কোনো কথা নাই। দুইজনই খুব আনন্দে ছিল এখন দুইজনই নিঃসঙ্গ এবং বিষণ্ন হতে শুরু করল আরকি মানে।
কিছুদিন পর প্রথম রোগী মারা গেলেন
এর মধ্যে জানালার পাশে যিনি ছিলেন একদিন নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলেন। এবং মারা গেল। দ্বিতীয় রোগী দেয়ালের পাশে যে রোগী তার খুব একটা মানে ভাবান্তর লক্ষ করা গেল না। মারা গেলে যেরকম মানে দুঃখ পাওয়া উচিত সে দুঃখের কোনো প্রকাশ তার মধ্যে পাওয়া গেল না।
১ম রোগী জায়গা বদলে ২য় রোগীর বেডে গেল
এর মধ্যে নার্স এলো তার লাশ নিয়ে গেল। বিছানা টিছানা পরিষ্কার হলো। প্রথম রোগী তার মনে ইচ্ছা জাগল তার মনের ইচ্ছাটাকে সে প্রকাশ করল সে নার্সকে বলল যে, আমাকে এই বেড থেকে এই বেড যেহেতু ফাঁকা হয়েছে এই বেডে নিয়ে যাও। আমাকে এই বেডটা দাও।
তো নার্স তার ডক্টরকে বলে যে, এ এই বেডে যেতে চাচ্ছে। সে বেডে গেল, বেডে গিয়ে সে বেশ উৎফুল্ল ফিল করল। এবং বেডে যাওয়ার পরে জানালা দিয়ে যখন বাইরে তাকাল কিছুক্ষণের মধ্যে তার চোখ দিয়ে ধর ধর ধর ধর করে পানি পড়তে লাগল।
জানালার কাছে দাঁড়িয়ে সে স্তব্ধ হয়ে গেল
জানালার কাছে দাঁড়িয়ে সে স্তব্ধ কেন হয়ে গেল এবং ধর ধর করে চোখ দিয়ে পানি কেন পড়তে লাগল? জানালার বাইরে সাদা দেয়াল। রহস্যটা কী? যখন বৈশাখের বিবরণ সে শুনল আরকি তার মনে হয়েছিল যে আহা ও না থেকে যদি আমি ঐখানে ঐ বেডে যেতে পারতাম তাহলে তো আমি এই দৃশ্য দেখতে পেতাম। তার ভেতরে কী দৃষ্টি হলো? ঈর্ষা। ও দেখতে পাচ্ছে এত সুন্দর সমস্ত দৃশ্য মিছিল যাচ্ছে এই যাচ্ছে এটা যাচ্ছে এই করছে সেই করছে এই চিনাহাঁসগুলো আমি তো দেখতে পারতাম।
সে বুঝলো- বন্ধু তাকে খুশি করার জন্যে গল্প বানিয়েছে!
যখন সে সাদা দেয়াল দেখল তখন সে অনুভব করল যে আসলে তার যে বন্ধু। এই বন্ধু গল্প বানাতে পারত আরকি তাকে খুশি করার জন্যে তাকে আনন্দে রাখার জন্যে সমস্ত ঘটনা সমস্ত কল্পনা করেছে এবং কাল্পনিক সমস্ত দৃশ্য সাজিয়ে তাকে বলেছে আরকি। এবং যতক্ষণ সে আনন্দ নিয়ে শুনতে পেরেছে সে বন্ধুর মনেও আনন্দ ছিল। তার মানে কী?
ঈর্ষাবশত দুজনই আলাদা হয়ে গেল
তখন তারা আলাদা ছিল না দে বিকেম সঙ্ঘ। একজন আরেকজনের সাথী ছিল। একজন আরেকজনের আনন্দকে দুঃখকে শেয়ার করছিল যে মুহূর্তে ঈর্ষা জাগল দুইজন আলাদা হয়ে গেল। দুইজন ইন্ডিভিজুয়াল হয়ে গেল দুইজন ব্যক্তি হয়ে গেল।
এর আগে যখন তাদের মধ্যে চিন্তার ঐক্য ছিল। সে এই গল্পগুলো বানিয়েছে ঘটনাগুলো বানিয়েছে কল্পনাগুলো বানিয়েছে যে সুন্দর করে বলা যায় তাহলে বন্ধু খুব খুশি হবে।
যতদিন সে আনন্দিত ছিল তার গল্পের প্রাণ ছিল। যে মুহূর্তে তার আনন্দের জায়গায় ঈর্ষা তার মধ্যে ঢুকল তখন যে বন্ধুত্ব যে সুসম্পর্ক হৃদয়ের যে টান এই টানটা নষ্ট হয়ে গেল। এবং দুইজনের আনন্দই শেষ হয়ে গেল। এবং দুইজনই বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলো।
সঙ্ঘ মানেই একজন আরেকজনের পরিপূরক
তাদের দুইজনের জীবন কখন সুন্দর ছিল? যখন তারা সঙ্ঘ ছিল। একজন আরেকজনের পরিপূরক ছিল একজন আরেকজনকে রিসিপ্রোকেট করত একজনের দুর্বলতা আরেকজনের শক্তি ছিল।
কিন্তু যখন ঈর্ষা ঢুকে গেল আরকি মানে তখন দুইজনের জীবনই নিঃশেষ হয়ে গেল এবং দুইজনের জীবন থেকে যেটুকু সুখ ছিল হারিয়ে গেল এবং বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।
ঈর্ষা এমন একটি আগুন যা সমস্ত সৎকর্মকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়…
নবীজী (স) বলেছেন যে, ঈর্ষা হচ্ছে এমন একটি আগুন যা সমস্ত সৎকর্মকে ভালো কাজকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। যে কারণে নবীজী (স) বলেছেন, তোমার মনে কখনো কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা অমঙ্গল চিন্তা থাকবে না। এটাই আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নতকে ভালবাসল সে আমাকে ভালবাসল আর যে আমাকে ভালবাসল জান্নাতে সে আমার সাথে থাকবে।
