বহুমূত্ররোগ বা ডায়াবেটিস (যা ডায়াবেটিস মেলাইটাস নামেও পরিচিত) হলো একটি গুরুতর, দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা যেটি ঘটে যখন রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা দীর্ঘসময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কারণ হয় শরীর যথেষ্ট পরিমাণে বা কোনো ইনসুলিন উৎপাদন করে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
ডায়াবেটিস অসংক্রামক রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর একটা বড় কারণ হিসেবে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ-এর গবেষণা বলছে, তরুণদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একদিকে তারা ফাস্ট ফুড খাচ্ছে, অন্যদিকে কায়িক পরিশ্রম কম করছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘ল্যানসেট’-এ ২৪ জুন ২০২৩ একটা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বিশ্বে বর্তমানে ৫২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে। ডায়াবেটিস মৃত্যুর শীর্ষ ১০ কারণের একটা। এ সংখ্যা আগামী তিন দশকে বেড়ে ১৩০ কোটিতে দাঁড়াবে। ডায়াবেটিসের একটা কারণ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা। এ-ছাড়াও রয়েছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম না করা, ধূমপান ও মদ্যপান।
এ গবেষণার অন্যতম সদস্য ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস এন্ড ইভালুয়েশনের প্রধান বিজ্ঞানী লিয়ান ওং বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস—হয়তো বেশি বেশি ফল ও সবজি খাওয়া—এসব গত তিন দশকে অনেকটাই বদলে গেছে। মানুষ বেশি বেশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অভ্যস্ত হয়েছে।’ এখন লাইফস্টাইল এক্সপার্টরাও এটাই বলছেন যে, ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ ভুল জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও ভ্রান্ত জীবনদৃষ্টি। কাজেই সুস্থ ও পরিকল্পিত জীবনাচার গড়ে তুলতে পারলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ শুধু না, নিরাময়ও সম্ভব।
৬ আগস্ট ২০২৩ ডায়াবেটিস চিকিৎসার জাতীয় নির্দেশিকা প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, দেশে ৭০ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ বা ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগে। এর মধ্যে শুধু ১০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় ডায়াবেটিসে।
এই প্রথম ডায়াবেটিস চিকিৎসায় জাতীয় নির্দেশিকা তৈরি হলো। নির্দেশিকায় প্রথম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ এই রোগে ভুগছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে ২০৪৫ সালে দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হবে ২ কোটি ২৩ লাখ। তখন বিশ্বে আমাদের অবস্থান হবে সপ্তম।
ডায়াবেটিস ও এর কারণ নিয়ে গবেষণা নতুন কোনো বিষয় নয়। প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপন্ন না হওয়ার কারণে যে ডায়াবেটিস হয়, তা মূলত টাইপ-১ ডায়াবেটিস। আর দেহে পর্যাপ্ত ইনসুলিন থাকা সত্ত্বেও দেহের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কোনো সাড়া না দেয়া বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের জন্যে যে ডায়াবেটিস হয় তা হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস। এটাই আমাদের দেশের ৯৫ ভাগ মানুষের হয়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের একটা বড় কারণ চিনি। আমাদের রক্তে যে পরিমাণ সুগার বা চিনি থাকে তার পরিমাণ মাত্র এক চা চামচ। কিন্তু আমরা প্রতিদিন অনেক গুণ বেশি সুগার গ্রহণ করি খাবারের সাথে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত-চর্বিযুক্ত-কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট (চিনি, সাদা চাল ও সাদা আটা) ইত্যাদি বেশি খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। কম শারীরিক পরিশ্রম এবং ক্রমাগত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসে ভুগলেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ-ছাড়া ডায়াবেটিসের পেছনে রয়েছে জিনগত কারণ, অতিরিক্ত স্থূলতা, মেটাবলিক সিনড্রোম, অটোইমিউনিটি, বিভিন্ন ড্রাগ, গর্ভাবস্থা, নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন কমে যাওয়া ইত্যাদি।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক সহকারী অধ্যাপক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির উপদেষ্টা ও বারডেমের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ডা. মধু এস মালো এবং তার দল সম্প্রতি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্পূর্ণ নতুন একটা কারণ উদ্ভাবন করেছেন। তাদের গবেষণা বলছে, ইন্টেস্টিনাল অ্যালকালাইন ফসফেটেজ (আইএপি) নামক একধরনের আন্ত্রিক এনজাইমের অভাবে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ২০১৩ সালে এ গবেষণা শুরু হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে BMJ Open Diabetes Research & Care জার্নালে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়।
ডা. মধু এস মালো দীর্ঘ নিরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে, আমাদের পেটে একটা এনজাইম থাকে। একে বলা হয় আইএপি বা ইনটেস্টিনাল অ্যালকালাইন ফসফেটাস। এই এনজাইমের অভাব বা স্বল্পতার কারণে ৮৫ শতাংশ ডায়াবেটিস হয়। আর মাত্র ১৫ শতাংশ ডায়াবেটিস হয় জেনেটিক মিউটেশনের কারণে।
অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ আইএপি স্বল্পতা। ড. মধু এস মালো দেখিয়েছেন, একজন সুস্থ মানুষের আইএপি বা ইনটেস্টিনাল অ্যালকালাইন ফসফেটাস-এর পরিমাণ থাকে ৬৫ ইউনিটের বেশি। যাদের শরীরে এ এনজাইম ৬৫ ইউনিটের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে মাত্র তিন শতাংশ মানুষের পরবর্তী সময় ডায়াবেটিস হয়েছে। আর যাদের এই এনজাইম ৬৫ ইউনিটের কম, তাদের ৪২ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে।
আবার যাদের আইএপি কম (০-১৫ ইউনিটের মধ্যে) তাদের ডায়বেটিসের ঝুঁকি বেশি। যাদের আইএপি বেশি (৫৫-১১৫ এবং ১১৫ ইউনিটের ওপরে) তাদের ঝুঁকি কম। যাদের আইএপি ১১৫ ইউনিট, তাদের চেয়ে যাদের আইএপি মাত্র ১৫ ইউনিট তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ১৪ গুণ বেশি।
অর্থাৎ বেশিরভাগ (৮৫%) ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব শুধু যদি এই এনজাইম বেশি থাকে। এটা শরীরে যত বেশি পরিমাণে থাকবে তত ভালো। আইএপি কীভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে? আমাদের খাদ্যনালীতে ১০০ ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে। আইএপি এনজাইম খাদ্যনালীতে ব্যাকটেরিয়াল টক্সিনের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে টক্সিনকে নষ্ট বা অকার্যকর করে ফেলে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রদাহ তৈরি হয় না, যার আইএপি বেশি থাকে তার স্থূলতা বেশি হলেও ডায়াবেটিস হয় না।
এই এনজাইম তৈরি করতে এবং এটা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে রসুন পেঁয়াজ হলুদ ক্যাপসিকাম ও শাকসবজির মতো প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। যারা খাবারে হলুদ বেশি খান তাদের ডায়াবেটিস কম হয়। ইউরোপ আমেরিকাতে এখন হলুদ গুঁড়া আলাদা কিনে খাওয়া হয়। হলুদ সবচেয়ে সহজলভ্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উৎস। হলুদের উপকারিতা বাড়াতে চাইলে এর সাথে এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে খান।
আর ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড এবং চিনি জাতীয় খাবার নষ্ট করে দেয় অতি প্রয়োজনীয় এই এনজাইম। অতএব এসব ক্ষতিকর খাবার বর্জন করবেন। কারণ ব্যাকটেরিয়াল টক্সিন সাধারণত ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে রক্তে প্রবেশ করে। যারা ফ্যাট বেশি খান এবং কোমল পানীয় পান করেন, তাদের শরীরে এই টক্সিন বেশি ঢোকে। কারণ কোমল পানীয়ে প্রচুর ফ্র্রুক্টোজ থাকে, যা অ্যালকোহলের মতোই কাজ করে। অ্যালকোহল খাদ্যনালীর ছিদ্র বড় করে তোলে। ফলে শরীরে সহজেই টক্সিন ঢোকে এবং দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে এই টক্সিনের যুদ্ধ হয়। এতে আশেপাশের কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রদাহের সৃষ্টি করে। দেখা দেয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। অর্থাৎ দেহে পর্যাপ্ত ইনসুলিন থাকলেও কোষ কোনো সাড়া না দেয়ায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। গ্লুকোজের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই তো টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
আর যেসব ব্যাকটেরিয়া আইএপি এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে সেই উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে আইএপি কমে যেতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে, রঙিন খাবারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ডাই বা রং খেলে বা নানাভাবে রেডিয়েশন শরীরে গেলে এসব ব্যাকটেরিয়া কমে যায় বা অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়। তাই রঙিন খাবার, ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং রেডিয়েশন থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ড. এ কে আজাদ খানের মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করলে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ঠেকিয়ে রাখা বা বিলম্বিত করা সম্ভব। এজন্যে তার পরামর্শ হলো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডায়াবেটিস নিরাময় করা যায় এই বিষয়ে প্রথম গবেষণা করেন আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ডা. নিল বার্নার্ড ও তার দল। তার বিখ্যাত বই হলো ‘প্রোগ্রাম ফর রিভার্সিং ডায়াবেটিস’। তারা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সক্ষম হন রোগীর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারে পরিবর্তন এনে।
এ-ক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ হলো, অন্তত একবছর মাছ মাংস দুধ ডিম তেল ঘি মাখন ডালডা, তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং রিফাইন কার্বোহাইড্রেট মানে চিনি, সাদা চাল এবং সাদা ময়দা, এই তিন সাদা বিষ (হোয়াইট পয়জন) বর্জন করতে হবে।
আর প্রতিদিন খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি, সালাদ ও সবুজ পাতা এবং অল্প পরিমাণে পূর্ণ শস্যদানা (হোল গ্রেইন)। যেমন, লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটি। শশা, গাজর, টমেটো, লেটুস, ক্যাপসিকাম, এগুলো কাঁচা এবং যত সবজি আছে, সেগুলো অর্ধসেদ্ধ করে খেতে হবে। প্রতিদিন কয়েক রকম ফল বিশেষত কম মিষ্টি এবং টক ফলগুলো খেতে হবে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বাদাম বীজ বিন ও ডাল খেতে হবে।
আর প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকতে পারে কিছু ন্যাচারোপেথিক খাবার। যেমন জামের বিচির গুঁড়ো, সকালে একগ্লাস কাঁচা করলা জুস, এক চা চামচ মেথি রাতে ভিজিয়ে সকালে সেই পানি, ঢেঁড়স ভেজানো পানি, রাতে তিন-চার চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ও কুসুম গরম পানি, এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়োর হারবাল চা এবং গ্রিন টি। গ্রিন জুসও খেতে পারেন। যত ধরনের সবুজ পাতা খাওয়া যায়, ধনেপাতা পুদিনা লেটুস পালং সজনে থানকুনি, যখন যেটা পাওয়া যায় তিন চারটা পাতা ভালো করে ধুয়ে পানিসহ ব্লেন্ড করে গ্রিন জুস তৈরি করতে পারেন। এ সবগুলোই ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে জামের বিচি। তবে যা-ই খান, চিকিৎসকের মতামত নিয়ে খাবেন।
আর ডায়াবেটিস নিরাময়ের জন্যে প্রয়োজন পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম। এজন্যে দৈনিক একঘণ্টা ব্যায়াম এবং আধাঘণ্টা জোরে জোরে মানে ঘণ্টায় চার মাইল বেগে হাঁটতে হবে। দৈনন্দিন জীবনেও লিফট, এসকেলেটর, যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে কায়িক শ্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, কারো ডায়াবেটিস হলে তার জীবনযাপনে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। যারা যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন, প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটেন, তাহলে ডায়াবেটিস হলেও সেটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।
সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রোজা বা ফাস্টিং করাটা এমনিতেই খুব স্বাস্থ্যকর। বিশেষত এই রোজা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স রিভার্স করতে পারে। রোজায় ইনসুলিন রেজিস্টেন্স তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখে যেই ফ্যাটগুলো, সেই ফ্যাট বার্ন আউট হয় এবং একসময় টাইপ-২ ডায়াবেটিস চলে যায়।
সেইসাথে দুই বেলা মেডিটেশন এবং ৩/৫ দফা প্রাণায়াম করুন। প্রতিদিন ভোরের নরম রোদে ১৫-২০ মিনিট সূর্যস্নান করুন। রোদ পোহালে আপনার ইমিউন সিস্টেম উজ্জীবিত হবে, ভিটামিন-ডি লেভেল বাড়বে, যা ডায়াবেটিস নিরাময় করবে, না থাকলে প্রতিরোধ করবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করুন, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান ও ঘুম থেকে উঠুন। অর্থাৎ আপনার দেহের জৈবিক ছন্দটা ঠিক রাখুন। এভাবে আপনি সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
