বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর যত মানুষ ধুমপান ও এইডসে মারা যায়, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় দীর্ঘসময় চেয়ার বা সোফায় বসে থাকা অর্থাৎ নিষ্ক্রিয়তার কারনে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে । সুস্থ থাকার জন্য চাই সক্রিয়তা, ব্যায়াম । আবার শুধু সহজভাবে বসে থেকেই আপনি ব্যায়ামের অনেক উপকার পেতে পারেন । এর খুব সহজ উপায় “বঙ্গাসন’ যা পৃথিবীর সবচেয়ে আদি আসন ।
আমরা যখন চেয়ার , সোফা ও বিছানায় দীর্ঘসময় বসে থাকি, সে সময় পায়ের পেশিগুলোর কনো কাজ থাকে না । ফলে রক্তে চর্বি জমতে শুরু করে । এ থেকেই হৃদরোগসহ অন্যান্য ঘাতক ব্যাধির সূচনা ঘটে । কিন্তু বঙ্গাসন শারীরিক বিশ্রামের পাশাপাশি মাংসপেশিগুলো সক্রয়িও থাকে । তাই বঙ্গাসন হচ্ছে এ যুগের নীরব মহামারির সহজ প্রতিকার ।
বঙ্গাসন পদ্বতি
- দেহে ভর সমান ভাবে দুই পায়ের গোড়ালির ওপর রেখে বসতে হবে ।
পায়ের পেশি উরু স্পর্শ করবে । নিতম্ব মাটি স্পর্শ করবে না।
- দৃষ্টি সমনে ও মেরুদণ্ড সহজ স্বাভাবিক থাকবে ।
- দুহাত থাকবে দুই হাঁটুর দুপাশে বা হাঁটুর উপরে ।
- দুপায়ের মাঝে একহাত বা আরামদায়ক পরিমান ফাঁকা থাকবে।
বঙ্গাসনের কিছু উপকারিতা
- পায়ের পেশি পাঁচ গুন বেশি তৎপর থাকে ও মজবুত হয় ।
দাঁড়িয়ে থাকার সমান ক্যালরি খরচ হয় ।
- বাড়তি মেদ ঝরে যায় । কোলেষ্টেরল কমায় ।
- হাঁটু, কোমর, গোড়ালির অস্তিসন্ধির জড়তা দূর করে । দেহের হাড় ও পেশি দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকে ।
- পুরুষদের প্রোস্টেট ও ব্লাডার এবং মহিলাদের জরায়ু নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুসমুহের ক্ষয় রোধ করে ।
- হার্নিয়া, ডাইভাটিকুলোসিস ও পেল্ভিক অর্গানগুলোর স্হানচ্যুতির সম্ভাবনা কমে ।
- শরীরের নীচের অংশে রক্ত প্রবাহ বাড়ে । সংশ্লিষ্ঠ অংশে রক্তনালি ও পেশির রোগ প্রতিরোধ হয় ।
- নিয়মিত বঙ্গাসন চর্চায় মহিলাদের স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা বাড়ে ।
