*রাহমাতের ধারায় সিক্ত এক মহিমান্বিত সমাবেশ: মিজাবে রহমত এভিয়েশনের হজ্জ মিলনমেলা**

৩রা মে, ২০২৫। ঢাকার ফার্মগেটে KIB কনভেনশন হলের আঙ্গিনা যেন সাজিয়েছিল এক অপার্থিব আভায়। মহান আল্লাহর রহমতের ধারায় পরিপূর্ণ হলরূপী এই ময়দান মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল মিজাবে রহমত এভিয়েশনের হজযাত্রীদের জন্য। সকাল সাড়ে আটটায় ফজরের নুরানি যেন মিলিয়ে গেল সোনালি রোদে, আর সেই সুরভিত আবহে পবিত্র কুরআন মজিদের তিলাওয়াতের মাধ্যমে ঘটল অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা। মহিমান্বিত এই তিলাওয়াতের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন হাফেজে মিল্লাত মাওলানা মাহবুবুর রহমান, যাঁর কণ্ঠে যেন প্রতিধ্বনিত হয়েছিল তায়েফের পাহাড়ি উপত্যকার নিষ্কম্প বাতাস।

স্বাগত বক্তব্যে মিজাবে রহমত এভিয়েশনের স্বত্বাধিকারী, ইখলাসের প্রতীক মাওলানা মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির, হজযাত্রীদের উদ্দেশে তুলে ধরলেন আন্তরিক অভিনন্দনের মালা। তাঁর কথায় ফুটে উঠল হজের সফরকে “আত্মার পবিত্রীকরণের এক মহাযাত্রা” বলে আখ্যায়িত করার অপূর্ব প্রয়াস। এরপর হামদ-নাতের মর্যাদাপূর্ণ পর্বে মাওলানা আশিকুর রহমান আজহারির কণ্ঠে বেজে উঠল— *”লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”*—যেন প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়ছিল ঈমানের শিশির।

অনুষ্ঠানের হৃদয়বিন্দুতে ছিল **””হজ: রূহানি ইবাদতের মহাসম্মেলন”** শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কবির আহমেদ লিনজুর দক্ষ সঞ্চালনায় এই পর্ব জ্ঞান ও আবেগের সম্মিলিত প্রবাহে পরিণত হয়েছিল। আমি হজে যেতে পাইনি বলে কেঁদেছিলাম রাতে” এই কবিতায় নজরুল হজে যেতে না পারার বেদনা ও স্বপ্নে নবীর (সা.) সান্নিধ্য লাভের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন:”আমি হজে যেতে পাইনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুফাসসিরে কুরআন প্রফেসর ড. মাওলানা গোলাম রাব্বানি তাঁর বক্তৃতায় কাবা শরিফের ইতিহাসের আলোকে হজের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, **”হজ কেবল একটি সফর নয়; বরং এটি মুমিনের জীবনে তাকওয়ার মুকুটস্বরূপ।”। ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহবুবুর রহমান ফিরোজী হজের ফজিলত বর্ণনায় উল্লেখ করলেন, *”হজের প্রতিটি ধাপই যেন বান্দার গুনাহকে ভাসিয়ে দেয় সিদরাতুল মুন্তাহার নদীর মতো!”*

মধ্যাহ্নের আগে মিজাবে রহমত এভিয়েশনের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের জন্য কার্যক্রম নিয়ে প্রদর্শিত হলো এক হৃদয়স্পর্শী প্রামাণ্যচিত্র—যেখানে ফুটে উঠেছিল তাদের সেবার মহান ব্রত, যেন প্রতিটি ফ্রেমে লেগে ছিল রাহমাতুল লিল আলামিনের স্পর্শ। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানলেন জামিয়া মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে মুনাজাত ও ইস্তিগফার। তাঁর দোয়ায় যেন আকাশে মিশে গেল মুমিনদের আকুতি: *”হে আর-রহীম! আমাদের এই সফরকে করো মাকবুল, আর প্রত্যাবর্তন করো নুরানি পথে”*।

অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে আফতাবনগর বায়তুল্লাহ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোহসিন উদ্দিন আজহারী পূর্ণাঙ্গ হজের রূপরেখা এঁকেছিলেন কুরআন-সুন্নাহর রঙে, যেন প্রতিটি কথাই ছিল হাজিদের জন্য রূহানি পাথেয়। সবশেষে, মিজাবে রহমত এভিয়েশনের পক্ষ থেকে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে হজযাত্রীরা স্বাদ পেলেন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সুসংহত স্বাদ—মনে হচ্ছিল, এ যেন মদিনার সেই ঐতিহাসিক ভোজের আধুনিক প্রতিচ্ছবি!

এই মিলনমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং ছিল ইবাদতের প্রস্তুতি, ঈমানের তাজদিদ, এবং মুমিন হৃদয়ের জন্য এক আলোকবর্তিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *