বিদেশের মোহে নয়, মাতৃভূমির মর্যাদায়
বাংলাদেশ, আমাদের প্রাণের মাতৃভূমি। আজকাল অনেকের মধ্যেই এক ধরনের ধারণা কাজ করে যে বিদেশ মানেই স্বর্গ, আর বাংলাদেশ মানেই প্রতিবন্ধকতা। স্টুডেন্ট ভিসার নামে অনেকেই দেশ ছাড়ছেন, কিন্তু লক্ষ্য করতে হবে, তাদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত নিম্নমর্যাদার কাজ করে, অর্থনৈতিক ও মানসিক দাসত্বের জীবন যাপন করেন।
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা শেষ করে যদি সেই জ্ঞান দেশেই কাজে লাগানো যায়, তাহলে তা কেবল ব্যক্তির জন্যেই নয়, সমগ্র জাতির জন্য সম্মান ও উন্নয়ন বয়ে আনে। বিদেশে গিয়ে রেস্টুরেন্টে ওয়েটার, গ্যাস স্টেশনে কর্মী, বা ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করার চেয়ে নিজ দেশে মাথা উঁচু করে, স্বাধীনভাবে কোনো পেশায় বা উদ্যোক্তা হয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া অনেক বেশি গৌরবের।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের অনেক সিঁড়ি পার করেছে। এখানে সম্ভাবনার অভাব নেই। প্রয়োজন শুধু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, আত্মবিশ্বাস এবং দেশপ্রেম। বিদেশের মাটিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। কিন্তু নিজ দেশে আপনি সম্পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারেন।
বৃটেনের উপার্জনের একটা বড় পথ- বিদেশী ছাত্র নেয়া!
এই যে ধনী দেশগুলো এই ধনী দেশগুলো অদ্ভুত অদ্ভুত সব পদ্ধতি নিয়ে থাকেন।
এবং তার মধ্যে একটা পদ্ধতি এখন হচ্ছে উচ্চশিক্ষা দেয়ার জন্যে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া। এবং বৃটেনের উপার্জনের একটা বড় পথ ছাত্র নিয়ে যাওয়া স্টুডেন্ট ভিসায়।
এবং এটাও খুব মজার খবর। সেটা হচ্ছে এখন ১৫ হাজার শিক্ষার্থী বৃটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যাচ্ছে প্রতিবছর এবং এগুলো আসলে কিছু না। এর অধিকাংশই পড়ে না এবং স্টুডেন্ট ভিসাতে যে যাচ্ছে তার স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নাই।
কারণ ওরা বেআইনী দাস চায়
এবং ওখানে পড়ার যে টিউশন ফি এটা যোগাড় করা যদি দেশ থেকে তার জন্যে টাকা না যায়, পড়ার টিউশন ফি সেখানে কাজ করে সে কখনো করতে পারবে না। অতএব যে যাবে তাকে এটা মনে রাখতে হবে যে ওখানে সে বান্দিগিরি বা দাসীগিরি করার জন্যে যাচ্ছে। তাকে বেআইনী হয়ে যেতে হবে।
কারণ ওখানে স্টুডেন্ট ভিসাতেও কিন্তু কী করা আছে ওয়ার্ক আওয়ার টুয়েন্টি আওয়ার ফিক্স। এর বেশি করতে গেলেই বেআইনী হবে এবং তারা বেআইনী দাস চায়।
এবং মানুষ পাচার ব্রিটিশ সরকারের অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোরও একটা পথ
এবং অনেককে প্রলুব্ধ করছে তাদের এই দেশীয় এজেন্টরা যে আসো স্টুডেন্ট ভিসায়। এবং এটা হচ্ছে মানুষ পাচারের আরেকটা পথ। এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার তার যে অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর জন্যে সে ভারত বাংলাদেশ এবং যেইসব দেশ থেকে নেয়া সম্ভব ছাত্র নিয়ে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ ইকোনমিতে প্রতি ছাত্রের অবদান প্রতি বছর এক লাখ পাউন্ড- বুমবার্গের রিপোর্ট!
বুমবার্গের রিপোর্ট হচ্ছে ডিসেম্বর ফিফটিন টু থাউজেন্ড টুয়েন্টি টু যে, ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে বিদেশ থেকে যত ছাত্র গিয়েছে, নিয়েছে তারা পড়াশোনা করানোর জন্যে তাদের কাছ থেকে তারা পাবে থার্টি বিলিয়ন পাউন্ড। আয়। ছাত্রদের টিউশন ফি বাবদ। থার্টি বিলিয়ন পাউন্ড এবং এদের পেছনে টোটাল পাবলিক কস্ট হবে টু পয়েন্ট নাইন বিলিয়ন পাউন্ড। আর তাদের কাছ থেকে পাচ্ছে থার্টি বিলিয়ন পাউন্ড।
আর আমরা পড়তে যাই। আরে আমরা তো কিনছি ওখানে গিয়ে। এবং কেনাটাও সবসময় ঠিকমতো হয় না। কারণ ভালো দোকানে যেতে পারি না তো ভালো পণ্য নিতে পারি না তো ফুটপাত থেকে নিয়ে আসি।
এবং বুমবার্গের ডিসেম্বর ফিফটিন টু থাউজেন্ড টুয়েন্টি টুর রিপোর্ট হচ্ছে, এই যে ব্রিটিশ ইকোনমিতে প্রতি ছাত্রের অবদান প্রতি বছর হচ্ছে এক লাখ পাউন্ড করে। বুঝলেন এটা কীরকম ব্যবসা? আর আমরা টাকা দিয়ে ধন্য হচ্ছি। এবং ওখানে শ্রমিক হয়ে ধন্য হচ্ছি। ওখানে গিয়ে অবৈধভাবে ধন্য হচ্ছি।
গার্ডিয়ানের রিপোর্ট বলছে- ইউকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে!
এবং গার্ডিয়ানের রিপোর্ট হচ্ছে, ৩রা জুলাই টু থাউজেন্ড টুয়েন্টি টু- হিউম্যান ট্রাফিকেস ইউজিং ইউকে ইউনিভার্সিটিস এজ কভার। ইউকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কী হিসেবে ব্যবহার করছে? টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে কভার হিসেবে। কাদের? ওভারসিস স্টুডেন্টস হ্যাভ ভেনিস ফ্রম কোর্সেস এন্ড দেন বিন পাউন্ড ওয়ার্কিং ইন এক্সপার্টি কন্ডিশন। বাইরে থেকে যে ছাত্ররা যায় এরা কোর্স থেকে হাওয়া হয়ে যায়। এবং তারপরে তারা দাসের মতো শ্রম বিক্রি করে।
দাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোই তাদের টার্গেট
তো অতএব ইংল্যান্ডে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বা এসএসসি পাশ করে যারা যায় তাদের নিয়ে গর্বিত হওয়ার কিছু নাই। এদের যদি মা-বাবা টাকাপয়সা পাঠাতে না পারে এদের পড়াশোনা কখনোই হবে না ওখানে গিয়ে কী করতে হবে? দাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হবে।
অবৈধ শ্রমিক আর দাস শ্রমিকের মধ্যে কোনো তফাৎ নাই। বৈধ শ্রমিক তার মানে একটা মর্যাদা আছে অবৈধ শ্রমিকের মর্যাদা দাস শ্রমিকের চেয়ে বেশি কিছু নয়। এবং কী করার জন্যে যাচ্ছেন বার্গার খাওয়ার জন্যে। এবং বার্গার খেয়ে কী হবে? অসুস্থ হবেন? রোগশোক কেনার জন্যে।
আর শিক্ষাঋণ হচ্ছে আরেক দাস ব্যবস্থা!
উচ্চতর ডিগ্রি উচ্চতর গবেষণা ঠিক আছে বুঝে শুনে এবং যারা স্কলারশিপে যাচ্ছেন টোটাল স্কলারশিপ ছাড়া আপনার পক্ষে পড়া সম্ভব নয়। যে কাজ করে পড়বেন এটা সম্ভব না আমেরিকাতেও কাজ করে পড়াশোনা করবেন সম্ভব না। সিম্পলি ইম্পসিবল। ওখানে গেলেই আপনাকে মানে ইভেন ইংল্যান্ডেও শিক্ষাঋণ নিতে হয়। আমেরিকাতে শিক্ষাঋণ নিতে হয়।
এবং শিক্ষাঋণ হচ্ছে মানে এটা আরেক দাস ব্যবস্থা। বন্ডেড শ্রমিকদের যে অবস্থা ছিল আগেকার দিনে বন্ধকী শ্রমিক। অর্থাৎ টাকাপয়সার জন্যে সে তার নিজেকেই বন্দক দিয়ে দিয়েছে। সে পরিশ্রম করবে মালিক টাকা পাবে। আগে এই সিস্টেম ছিল। এটারই নতুন রূপ হচ্ছে এই শিক্ষাঋণ।
এবং শিক্ষাঋণ নিয়ে যে পিএইচডি করবেন এই ঋণশোধ করতে করতে আপনার ২০-৩০ বছর লেগে যাবে অনেকে সারাজীবন এই ঋণশোধই হবে না। কিস্তি দিতেই থাকবে দিতেই থাকবে দিতেই থাকবে। যে কারণে আমেরিকাতেও অনেক পিএইচডি মানে এখন জীবনযাপন করছে কী নিয়ে ফুড স্টাফ আমাদের কি আছে? কাবিখা। কাবিখাও না কাছাখা। পিএইচডি কাছাখা।
দাস হওয়ার চেয়ে আধাবেলা নিজের দেশে খান, তাও ভালো
অতএব সবসময় কী করবেন? নিজের ওপরে আস্থা রাখবেন নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখবেন। নিজের ব্রেনটাকে কাজে লাগাবেন। বন্ধুবান্ধব যারা বলে ইয়ংরা যারা আছে যারা বলে তাদেরকে বলবেন নিঃসংকোচে বলবেন যে, এই হচ্ছে হাল। দাস হওয়ার চেয়ে নিজের দেশে চিৎকার করব আধাবেলা খাব অনেক ভালো। তবুও তো চিৎকার করতে পারব যে, আমি আধাবেলা খেয়েছি। ওখানে চিৎকারও করতে পারবেন না যে আমি আজকে খাই নাই।
তো আসলে নিজের সম্ভাবনাকে বুঝতে হবে এবং আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে আমরা অনেক অনেক অনেককে কাবিখা থেকে বাঁচাতে পেরেছি। অনেক তরুণ তরুণীকে কাবিখা থেকে বাঁচাতে পেরেছি।
আপনার প্রজ্ঞা, মেধা ও শ্রম যদি দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত হয়, তাহলে তা অন্যের দেশকে সমৃদ্ধ করার চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ। মনে রাখবেন, দাসত্ব শুধু শৃঙ্খলে বাঁধা থাকা নয়; নিজের ইচ্ছা, সংস্কৃতি ও মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে অন্যের অর্থনীতির চাকায় গলাগলি খাওয়াও এক প্রকার দাসত্ব।
আপনার দেশই আপনাকে চিনতে পারে, সম্মান দিতে পারে। সুতরাং, বিদেশের মোহে নয়, বেছে নিন মাতৃভূমির মর্যাদাপূর্ণ জীবন। দেশ গড়ার এই মহান যাত্রায় নিজেকে সম্পৃক্ত করুন। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
