২৩ জানুয়ারি : ইতিহাসে আজ

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ২৩তম দিন। বছরের শেষ পর্যন্ত আর ৩৪২ দিন (অধিবর্ষে ৩৪৩ দিন) বাকি।

ইতিহাসের সাক্ষী: উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

· ১৯২০ – ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম বিমান দ্বারা ডাক যোগাযোগ ও মাল পরিবহন শুরু।

· ২০০১ – বাংলাদেশে চতুর্থ জাতীয় আদমশুমারি শুরু হয়।

· ১৯৫০ – কেফায়েত বেন (কেভেট) ইসরায়েলের সংসদে শপথ গ্রহণ করেন।

· ১৯৬০ – সুইস মহাসাগর বিজ্ঞানী জাক কস্তো অ্যাকুয়ালাংক ডাইভ রেকর্ড করেন।

· ১৯৯৭ – ম্যাডেলিন অ্যালব্রাইট প্রথম মহিলা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব নিযুক্ত হন।

· ২০০৫ – ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভিক্টর ইউশচেঙ্কো শপথ নেন।

🎂 জন্মদিন: ইতিহাসের স্রষ্টারা

বাংলা ও ভারতীয় উপমহাদেশ

· ১৮২৩ – প্যারীচরণ সরকার, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও ঊনিশ শতকের বাংলার পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা।

· ১৮৯৭ – নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক।

· ১৯৩৪ – বরুণ সেনগুপ্ত, প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক ও কলকাতার দৈনিক ‘বর্তমান’ প্রতিষ্ঠাতা।

· ১৯৪২ – রাজ্জাক, বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক।

বিশ্বব্যাপী

· ১৭৮৩ – স্তাঁদাল (মারি-হেনরি বেইল), খ্যাতনামা ফরাসি ঔপন্যাসিক।

· ১৮৬২ – ডেভিড হিলবার্ট, প্রভাবশালী জার্মান গণিতবিদ।

· ১৮৭৬ – অটো ডিলস, নোবেল বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ।

· ১৯০৭ – হিদেকি ইউকাওয়া, নোবেল বিজয়ী জাপানি পদার্থবিজ্ঞানী।

· ১৯১৫ – উইলিয়াম আর্থার লিউইস, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ।

· ১৯১৮ – গারট্রুড বি. এলিওন, নোবেল বিজয়ী মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ ও ঔষধবিজ্ঞানী।

· ১৯২৯ – জন সি. পোলানি, নোবেল বিজয়ী হাঙ্গেরীয়-কানাডিয়ান রসায়নবিদ।

· ১৯৩০ – ডেরেক ওয়ালকট, নোবেল বিজয়ী সেন্ট লুসিয়ান কবি ও নাট্যকার।

· ১৯৪৭ – মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী, ইন্দোনেশিয়ার প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি।

⛅ বিদায়: চিরস্মরণীয়

· ১৮৫৯ – ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক।

· ১৯০৯ – নবীনচন্দ্র সেন, বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি (নিচে বিস্তারিত)।

· ১৯৮৮ – চার্লস গ্লেন কিং, ভিটামিন সি-এর আবিষ্কারক মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ।

· ১৯৮৯ – সালভাদর দালি, স্পেনের বিখ্যাত চিত্রকর।

· ২০১৫ – বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ, সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ।

📖 বিশেষ আলোচনা: নবীনচন্দ্র সেন (১৮৪৭–১৯০৯)

জন্ম: ১০ ফেব্রুয়ারি ১৮৪৭, চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে।

মৃত্যু: ২৩ জানুয়ারি ১৯০৯।

নবীনচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি গীতিকবিতা ও আখ্যানকাব্যে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর কাব্যে স্বজাত্যবোধ ও স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ লক্ষণীয়।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

চট্টগ্রাম স্কুল থেকে প্রবেশিকা, প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ এবং জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে বিএ পাস করেন। কিছুদিন হেয়ার স্কুলে শিক্ষকতা করার পর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং ১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহিত্যকর্ম:

· প্রথম কাব্যগ্রন্থ: অবকাশরঞ্জিনী (১৮৭১)।

· ঐতিহাসিক মহাকাব্য: পলাশীর যুদ্ধ (১৮৭৫) রচনার পর ব্রিটিশ সরকারের নজর এড়িয়ে যান।

· কাব্যত্রয়ী: রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস – এতে শ্রীকৃষ্ণের জীবনলীলা মহাকাব্যিক রূপ পেয়েছে।

· অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা: আমার জীবন (আত্মজীবনী), খৃস্ট, ক্লিওপেট্রা, ভানুমতী, প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

· অনুবাদ: ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ।

আত্মজীবনী আমার জীবন সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসনের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।

🔍  তথ্য ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা

· জাতীয় দিবস (আন্তর্জাতিক):

  · ন্যাশনাল পাই ডে (যুক্তরাষ্ট্রে গণিতের প্রতি উৎসর্গীকৃত)।

  · ন্যাশনাল হ্যান্ডরাইটিং ডে (যুক্তরাষ্ট্রে হাতের লেখা সচেতনতা দিবস)।

· বাংলাদেশ প্রসঙ্গ:

  · এই দিনে রাজ্জাক-এর জন্ম বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি “নায়ক রাজ” হিসেবে পরিচিত।

  · ২০০১ সালের আদমশুমারি বাংলাদেশের জনপরিসংখ্যান ভিত্তি তৈরি করে।

· বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি:

  · ১৯৬০ সালে জাক কস্তোর ডাইভ সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত খোলে।

  · হিদেকি ইউকাওয়ার কাজ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

📌 সংক্ষিপ্ত সারমর্ম

২৩ জানুয়ারি একটি ঘটনাবহুল দিন—এদিন জন্মেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান দেশপ্রেমিক, রাজ্জাকের মতো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, এবং বিশ্বজুড়ে বহু বিজ্ঞানী-সাহিত্যিক। আবার চলে গেছেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, নবীনচন্দ্র সেনের মতো সাহিত্যজন। দিনটি বাংলা ও বিশ্ব ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী।

তথ্যসূত্র: বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ, আর্কাইভ ও সংগৃহীত।