আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
মাদকদ্রব্য লেনদেনের সময় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে দুই কিশোরকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় যুবসমাজ। তবে থানায় সোপর্দ করার কথা বলেই তাদের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব। পরে শুক্রবার সকালে জানা যায়, তাদের কোনো থানায় দেওয়া হয়নি; বরং মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবকরা।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টায় উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে দুইজন কিশোরের মধ্যে একটি লেনদেন চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাদের কাছে দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এ সময় আশপাশের প্রায় ২০-২২ জন যুবক তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলো— সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী এবং সাইফারের ছেলে পারভেজ (ভুয়া নাম)।
যুবসমাজের দাবি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুবক আমীর হামজা ও শাকিল জানান, তারা মাদক কারবারি নয়, বরং স্থানীয় কিছু কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যেই আটক করেছিলেন। তাঁরা বলেন, “আমরা তাদের আটক করলে হাসিব ভাই এসে বলেন থানায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি মাইক্রোতে করে নিয়ে গিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। আজ সকালে থানায় গিয়ে জানতে পারি, তাদের থানায় দেওয়া হয়নি।”
বিএনপি নেতা যা বলছেন
হাসিবুর হাসান হাসিব দাবি করেন, তিনি কারখানার ভেতর থেকে শোরগোল শুনে বেরিয়ে দেখেন যুবকরা দুইজনকে মারধর করছে। তখন তিনি মারধর বন্ধ করে থানার ওসিকে ফোন করেন। ওসি তাঁকে বলেন— ‘মারধরের শিকার হলে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করান অথবা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’
হাসিব আরও বলেন, “আমি ওদের থানার সামনে নিয়ে গিয়ে ওসিকে আবার ফোন করলে তিনি একই কথা বলেন। তখন ওই দুই জন আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আর এ ধরনের কাজ করবে না বলে মুচলেকা দেয়। আমি সেটা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিই।”
থানার বক্তব্য
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুল ইসলাম জানান, “হাসিব ভাই ফোন করলে আমি মারধরের বিষয়টি শুনে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিই এবং সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠাই। সকালে যুবকরা থানায় এসেছিল, আমি তাদের বলেছি— থানায় কাউকে দেওয়া হয়নি।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি রফিক হোসেন তালুকদার, সেলিম রেজা, রউফ হোসেন তালুকদারসহ অনেকে যুবকদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, “যুবসমাজের সচেতনতা প্রশংসনীয়। তবে আটকদের থানায় না দিয়ে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। হাসিবের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”
এদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে গ্রামবাসী হাসিবের বিরুদ্ধে ‘মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নেওয়ার’ অভিযোগ এনে তার ‘বিচার’ দাবি করেছেন।
আটক বা মুক্তি—দুই পক্ষই অনুপস্থিত
ঘটনার পর থেকে ওই দুই কিশোর বা তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকায় তারা বর্তমানে অনুপস্থিত বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
