বিষ, নাকি মধু — সিদ্ধান্ত আপনার: সুস্থতার মূলমন্ত্র খাদ্যাভ্যাসেই ।

 স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন ডেস্ক ।।

অধ্যাপক রবার্ট লাস্টিক তার বিখ্যাত বই _’Metabolical’_-এর উপসংহারে একটি অমোঘ সত্য তুলে ধরেছেন — স্বাস্থ্য ঠিক না করলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক করা যাবে না। আর খাদ্যাভ্যাস ঠিক না করলে স্বাস্থ্য ঠিক করা যাবে না।

তাহলে মূল কথাটা কী? একটি শব্দে — খাদ্যাভ্যাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, বিশ্বের ৭৪% মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ – ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার – যার মূল কারণ ভুল খাদ্যাভ্যাস। আর ঠিক এই কারণেই কোয়ান্টাম মেথড কোর্সে আমরা ৩০ বছর আগে থেকেই খাদ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছি।

আপনার আহারই আপনার ভবিষ্যৎ: বিষ নাকি মধু?

অধ্যাপক লাস্টিকের মতে, আধুনিক প্রসেসড ফুডে ৮টি বিষ রয়েছে যা আমাদের অজান্তে শরীরে ঢুকছে: চিনি, অতিরিক্ত লবণ, ট্রান্স ফ্যাট, কৃত্রিম রং, কৃত্রিম সুগন্ধ, প্রিজারভেটিভ, অতিরিক্ত ওমেগা-৬ এবং অ্যালকোহল।

মনে রাখুন একটি সহজ ফর্মুলা: আপনি যা খাবেন, আপনার স্বাস্থ্য ঠিক সে-রকমই হবে। আপনি আপনার শরীরে বিষ ঢোকাচ্ছেন, নাকি মধু? এই প্রশ্নটি আপনাকেই করতে হবে।

কী খাবেন, কী বাদ দেবেন? — কোয়ান্টাম ফর্মুলা কোয়ান্টাম মেথডে আমরা খাদ্যকে দুই ভাগে ভাগ করি — প্রাণবন্ত খাবার এবং প্রাণহীন খাবার।

১. যে খাবারগুলো মধু — প্রতিদিন খাবেন:

জীবন্ত খাবার: শাক-সবজি, ফলমূল, সালাদ – যার ৫০% থাকবে কাঁচা।

আঁশযুক্ত খাবার: লাল চাল, লাল আটা, ছোলা, ডাল, বাদাম ও বীজ।

ভালো ফ্যাট: ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেল, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, দেশি ঘি (পরিমিত)।

পরিমিত প্রোটিন: ছোট মাছ, দেশি মুরগি, ডিম।

পানীয়: পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি, ডাবের পানি, ভেষজ চা।

২. যে খাবারগুলো বিষ

— বর্জন করুন বা কমিয়ে দিন: – সাদা চিনি, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক। – অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড মিট। – সাদা ময়দা, অতিরিক্ত লবণ এবং বোতলজাত সস। – সিগারেট ও জর্দা-সহ সকল তামাক।

৩. কতটুকু ও কখন খাবেন?

পরিমিত আহার: পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি, আর এক-তৃতীয়াংশ খালি রাখুন। এটি সুন্নতও বটে।

সময় মেনে খাওয়া: রাত ৮টার পর ভারী খাবার নয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ৩ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করুন।

চিবিয়ে খাওয়া: প্রতিটি লোকমা অন্তত ২০-৩০ বার চিবিয়ে খান। হজম শুরু হয় মুখ থেকেই।

শেষ কথা যদি কোয়ান্টাম ফর্মুলা কোর্সের এই খাদ্যাভ্যাস আন্তরিকভাবে অনুসরণ করেন, তবে আলহামদুলিল্লাহ — বছরের পর বছর আপনি স্লিম থাকবেন, ওজন বাড়বে না, আপনি প্রাণবন্ত ও সক্রিয় থাকবেন। মনে রাখবেন, ওষুধ কখনো খাদ্যের বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু সঠিক খাদ্যই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ।

তাই আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন — প্লেটে বিষ নয়, মধু তুলে নিন।