কবির আহমেদ লিনজু | সম্পাদক, আরএমজি বিডিনিউজ
স্বাধীনতার ৫৫ বছর হয়ে গেল। আমরা পদ্মা সেতু বানিয়েছি, মেট্রোরেল বানিয়েছি, কিন্তু আমরা কি বাঙালি হতে পেরেছি?
আজ একটা প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম। মঞ্চে যে কয়জন বক্তব্য দিলেন, প্রত্যেকেই উর্দু ভাষায় বক্তব্য দিলেন। এটা বাংলাদেশ, যেখানে ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি বাংলা ভাষার জন্য। যেখানে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা আমার মানচিত্র। সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে উর্দুতে বক্তব্য!
পরে যখন দেখলেন সাংবাদিকরা এসেছে, ক্যামেরা চলছে, তখন একজন বললেন – “সাংবাদিকরা তো আছে” – তারপর মিনিট দুয়েক ভাঙা ভাঙা বাংলায় বক্তব্য দিলেন।
প্রশ্ন আমার একটাই – এরা কারা? এরা যদি ৫৫ বছর পরও বাংলা বলতে না পারেন, বাংলা বুকে ধারণ করতে না পারেন, তাহলে তারা এই দেশের সকল সুযোগ-সুবিধা কীভাবে দাবি করেন?
বাংলা আমাদের অস্তিত্ব
আমাদের সংবিধানে লেখা আছে – প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এই বাংলা কোনো দয়ার ভাষা নয়, এই ভাষা শহীদের রক্তে কেনা।
আপনি উর্দু জানেন, হিন্দি জানেন, ইংরেজি জানেন – আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এই দেশে থাকতে হলে, এই দেশের আলো-বাতাস, চাল-ডাল, ভাতা-সুযোগ সব নিতে হলে আপনাকে আগে বাঙালি হতে হবে। বাংলাকে সম্মান করতে হবে।
বাঙালি হওয়া মানে শুধু ভোটার আইডি কার্ডে নাম থাকা নয়। বাঙালি হওয়া মানে হৃদয়ে বাংলা ধারণ করা। আমার মায়ের ভাষায় কথা বলা।
আমরা কাউকে বাদ দিতে চাই না
আমরা উর্দুভাষী ভাইদের ঘৃণা করি না। তারা এদেশেই জন্মেছে। তারাও এদেশের সন্তান। কিন্তু সন্তান যদি মা’কে মা বলে ডাকতে লজ্জা পায়, তবে মায়ের কষ্ট হয়।
আজ থেকে ৫৫ বছর আগে আপনাদের পূর্বপুরুষরা ভুল করেছিল। আপনারা সেই ভুল আর বহন করবেন না। আসুন, বাংলা শিখুন, বাংলায় কথা বলুন। বাঙালি হোন।
আপনি বাঙালি হলে আপনাকে কেউ পর ভাববে না। এই দেশের সব দরজা আপনার জন্য খোলা। চাকরি, ব্যবসা, সম্মান – সব পাবেন। কিন্তু মন থেকে বাঙালি না হলে, মুখে বাংলা না বললে, মানুষ আপনাকে আপন ভাববে কীভাবে?
শেষ কথা যে প্রোগ্রামে গিয়ে সাংবাদিক দেখে বাংলায় কথা বলতে হয়, সেই প্রোগ্রাম দিয়ে সমাজ বদলায় না। সমাজ বদলায় মন থেকে।
আমরা চাই, আগামী ৫৫ বছর পর যেন আর কাউকে লিখতে না হয় – “আমরা এখনো বাঙালি হতে পারিনি”।
