শ্লোগানের কবি নাজমুল হক নজীরের আজ ৭০তম জন্মদিন

শ্লোগানের কবি
নাজমুল হক নজীরের ৭০তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
“তাহলে এভাবেই আমি চলে যাই
খোলা থাক সমস্ত দরজা
জ্বলতে থাক মঙ্গলদ্বীপ ”
মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় কবি লিখেছেন। যাপনও করেছেন জীবন সেই ধারায়।
কবি, সত্যের সাধক। কবিতার জন্যে জীবন সঁপে দিয়ে ছুটেছেন আজীবন। সততার প্রশ্নে আপোষহীন থেকে মুখোমুখি হয়েছেন বৈরী সময় ও প্রতিকূল পরিবেশের। নিরেট ভালোবাসা নিয়ে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন জীবন-জুড়ে।
যার চোখের পাপড়িতে ছুঁয়ে ছিল মায়া। এতটাই অর্থবিমুখ ও অবৈষয়িক মানুষ ছিলেন তিনি, সমগ্রজীবনে মানিব্যাগ ব্যবহার না করে; শুধু কবিতা আর কিছু কাগজপত্র সাথে নিয়ে পার করে দিয়েছেন একটি কাল। সত্যান্বেষণের এক পর্যায়ে অখণ্ডবাদের অমর বাণী উচ্চারণে বলেছেন, “কেন যে ভাগ করো তুমি নদী ও আকাশ/ পূর্ণিমার চাঁদ ও আমার ব্যবধান/
আমি আকাশ দেখতে গিয়ে/ মধু জোসনায় তোমাকে দেখলাম।”
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর শ্লোগানের কবি নাজমুল হক নজীরের ৭০তম জন্মদিন । বরেণ্য এই কবি ও সাংবাদিক ১৯৫৫ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার শিয়ালদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
গত শতাব্দীর সত্তর দশকে যে ক’জন কবি
সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন নাজমুল হক নজীর তার মধ্যে অন্যতম । বলা চলে কবিতার জন্য তিনি একজীবন ব্যয় করেছেন। তাঁর কবিতায় মধ্যবিত্তের জীবনচিত্র আর সমাজচিত্র শিল্পদৃষ্টিতে দারুণভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে। কবিতায় মিথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন।
কবি’র ৯টি কাব্যগ্রন্থ, ৩টি ছড়া, ১টি ইতিহাস গ্রন্থ, ১টি সম্পাদিত গ্রন্থ, নির্বাচিত কবিতা ও কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
নোনা জলের বাসিন্দা
স্বৈরিণী স্বদেশ
স্বপ্নবাড়ি অবিরাম।
সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদের মধ্যে মতুয়া মতবাদে অনুসারীগণের জন্য কবি বেশকিছু গান লিখেছেন।
কবি’র লেখা- আয়নায় আপন অবয়ব, নোনা জলের বাসিন্দা, ভোর হতে আর কতোক্ষণ, প্রেমের দাবিতে বলছি, বাঙালির ছাড়পত্র, অনন্যার জন্য গীতিকাব্য কবিতাগুলো আজও পাঠককে আন্দোলিত করে ।
কবি’র সবচেয়ে আলোচিত কাব্যগ্রন্থ “নোনা জলের বাসিন্দা”।
এছাড়া “স্বৈরিণী স্বদেশ”, “কালো জোছনার এক চুমুক”, “কার কাছে বলে যাই”, “ঘুরে দাঁড়াই স্বপ্ন পুরুষ”, “স্বপ্ন বাড়ি অবিরাম”, “এভাবে অবাধ্য রঙিন”, “ভিটেমাটি স্বরগ্রাম”, “বকুল ভেজা পথঘাট ” প্রভৃতি তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
“সাধনার ফসল”, “আবার শ্লোগান”, “ইষ্টি কুটুম মিষ্টি কুটুম”কবি’র ছড়ার বই।
সম্পাদিত গ্রন্থ- গাজী খোরশেদুজ্জামানের
কিশোর কবিতা
ফরিদপুর অঞ্চলের ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা
গ্রন্থ-“আমাদের ফরিদপুর-১ অঞ্চল”।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন কিশোরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কবির জীবনী থেকে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে তিনি কখনো কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা নেননি এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বরণের পর তিনি নিজেকে আর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেননি। তিনি ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে কবিকে তার বাসস্থান ঝর্নাধারা’য় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য পেয়েছেন পুরস্কার সম্মাননা । এর মধ্যে রয়েছে ভারতের রাহিলা সাহিত্য পুরস্কার, নজরুল পদক, কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি পুরস্কার, কবি খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, কবি গোবিন্দ চন্দ্র দাস স্মৃতি পদক,
শ্রী হরিদর্শন পুরস্কার, আমীর প্রকাশন সাহিত্য পুরস্কার, গীতিকার ক্লাব সম্মাননা, এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন সম্মাননা, মেরিট অব ডিএক্স পুরস্কার, নির্ণয় কবি বাবু ফরিদী স্মৃতি পদক, মির্জা আবুল হোসেন পদক,ও পাঠক আন্দোলন বাংলাদেশ সাহিত্য পুরস্কর প্রভৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *