মোহাম্মাদ আবুল বাশার, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রাম-নওয়াপাড়া যৌথ ঈদগাহ গোরস্থানে মধ্যরাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র এই স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এটিকে গোরস্থানের পবিত্রতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ন্যাক্কারজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা কুচিয়াগ্রাম-নওয়াপাড়া যৌথ ঈদগাহ গোরস্থানে আগুন লাগিয়ে দেয়। গোরস্থান কমিটি বা স্থানীয় কেউ বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন।
ঘটনার পরপরই কুচিয়াগ্রাম-নওয়াপাড়া যৌথ ঈদগাহ গোরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। কমিটির সদস্যরা বলেন, গোরস্থান মুসলমানদের অত্যন্ত পবিত্র স্থান, সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর আঘাত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) গোরস্থান কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
কুচিয়াগ্রাম-নওয়াপাড়া যৌথ ঈদগাহ গোরস্থান কমিটির সভাপতি মো. মোরাদ হোসেন তালুকদার বলেন, “গোরস্থানের মতো পবিত্র স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা এ কাজ করেছে, তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। ইতোমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে-ই থাকুক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১ জুলাই বিকেল ৫টায় গোরস্থান কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গোরস্থানের মতো পবিত্র স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করুক এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুক।”
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। কুচিয়াগ্রাম ও নওয়াপাড়ার সর্বস্তরের মানুষ গোরস্থানের নিরাপত্তা জোরদার, ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
