৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’। “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মেলার উদ্বোধন করেছেন ।
কোয়ান্টাম ব্যাম্বোরিয়ান (স্টল নং:২৪-২৫) স্টলে আপনাদের স্বাগতম। ৬০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি বাঁশ ছাড়াও এবারের মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে ১১০ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় বনজ, ৩০ প্রজাতির ওষুধি, ৩০ প্রজাতির ফলদ, ৯০ প্রজাতির ফুল ছাড়াও অর্কিড ও বিভিন্ন প্রজাতির ইনডোর প্ল্যান্ট।
আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলমান এই সবুজ মহোৎসবে গত বছরের দারুণ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও নান্দনিক আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। মেলা প্রাঙ্গণের ২৪-২৫ নম্বর স্টলে কোয়ান্টামের বিশেষ আয়োজন ‘কোয়ান্টাম ব্যাম্বোরিয়ান’ দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
এবারের মূল চমক ‘বাঁশ পাতার চা’ এবারের বৃক্ষমেলায় কোয়ান্টাম ব্যাম্বোরিয়ানের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও স্বাস্থ্যকর ‘বাঁশ পাতার চা’। স্টল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মেলায় আসা সমস্ত প্রকৃতিপ্রেমী, শুভানুধ্যায়ী ও দর্শকদের জন্যে এই বিশেষ ভেষজ চা পানের উন্মুক্ত নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুধু স্বাদেই নয়, এই চা স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। প্রাকৃতিক এই পানীয় কাশি উপশমে সহায়ক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে । শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে এক কাপ বাঁশ পাতার চা হতে পারে এক অনন্য সতেজতার অনুভূতি।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল কোয়ান্টাম । তবে এবার মেলা প্রাঙ্গণের ২৪-২৫ নম্বর স্টলে স্থান পেয়েছে এই আয়োজন।
স্টলটিতে হরেক প্রজাতির বিরল ও দৃষ্টিনন্দন বাঁশের সংগ্রহ প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা শহুরে যান্ত্রিকতার মাঝে দর্শনার্থীদের এক টুকরো বুনো প্রকৃতির আমেজ দেবে। বাঁশের অপার সম্ভাবনা বাঁশকে প্রায়ই ‘দরিদ্রের কাঠ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু এর ব্যবহার ও গুরুত্ব অপরিসীম—গৃহনির্মাণ, আসবাবপত্র, হস্তশিল্প, এমনকি কাগজশিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও বাঁশের ভূমিকা অনস্বীকার্য । বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ও প্রাকৃতিকভাবে ২৬টি প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখে । এছাড়া বাঁশঝাড় ঝড়ো হাওয়া প্রতিরোধ ও ভূমিক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।
বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণের আহ্বান শুধু বাঁশ নয়, মেলায় প্রদর্শিত ১১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় বনজ উদ্ভিদ আমাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বাংলাদেশে বন উজাড়, অতিরিক্ত আহরণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে অসংখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে ।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ দেশীয় বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শুধু গাছ দেখাই নয়, মেলায় আসা দর্শনার্থীরা যাতে সবুজের আবহে বসে একদম নতুন স্বাদের একটি ভেষজ চায়ের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, সেজন্যই আমাদের এই ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টা।
