ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এতিমের অভিভাবকত্ব গ্রহণের আহ্বান

এতিমান : বিচ্ছিন্ন রত্নের দায়িত্ব নিন

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নবীপ্রেমের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে এতিমদের অভিভাবকত্ব গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনায় মুসলিম শরীফে গ্রন্থিত সহল ইবনে সাদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করা হয়, যেখানে নবী করিম (সা.) বলেন, “আমি এবং যে ব্যক্তি এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করে, আমরা জান্নাতে একসাথে প্রবেশ করব।” তখন তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা একসাথে তুলে দেখিয়ে বলেন, “এই দুই আঙুলের মতো জান্নাতে আমরা একসাথে থাকব।”

হাদিসের তাৎপর্য

বিশিষ্ট আলেমরা এই হাদিসের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন যে, এটি জান্নাতে নবীজীর (সা.) পাশাপাশি থাকার এবং তাঁর মহল্লায় অবস্থানের সবচেয়ে নিরাপদ ও নিশ্চিত পথ । ইমাম ইবনে বাত্তাল (রহ.) এই হাদিস সম্পর্কে বলেন, “প্রত্যেক মুমিনের জন্য এই হাদিস শুনে এ অনুযায়ী আমল করা কর্তব্য, যাতে জান্নাতে নবী (সা.)-এর সঙ্গী হওয়া যায়। জান্নাতে নবীজীর সঙ্গ লাভের চেয়ে উত্তম কোনো মর্যাদা নেই।”

নবীপ্রেমের প্রকাশ

আলোচনায় বলা হয়, নবীপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ ঘটবে এতিমের অভিভাবকত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে। যারা এখনো নানান কারণে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি, তাদের দেরি না করে এই মহান কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এটি আজকের প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত এবং এর মাধ্যমেই আমাদের জীবনে নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটুক—এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

আখেরাতের প্রতিশ্রুতি

আলোচনার শেষাংশে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নবীজীর (সা.) প্রতি সালাম প্রেরণ করে এই প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয় যে, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা যেন আখেরাতে নবীজীর (সা.) সাথে একসাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি এবং দুই আঙুলের ন্যায় তাঁর পাশে থাকতে পারি ।

স্রষ্টার কুদরতি হাত কি আপনার মাথার ওপরে চান?

যদি আপনাদের একটা প্রশ্ন করি? আপনারা কি চান যে, স্রষ্টার রহমতের হাত আপনাদের মাথার ওপরে থাকুক? এটার যদি জবাব জিজ্ঞেস করি, উত্তরে কী বলবেন? হাঁ, না না? তো এটা পাওয়ার জন্যে অনেক পথ আছে। তো দুটো জিনিসের মিশ্রণ যদি আমরা ঘটাতে পারি সবসময় আল্লাহর সালামত, মানে নিরাপত্তা হাত আপনার মাথার ওপরে থাকবে।

এটা খুব সহজ, সেটা হচ্ছে- ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাইকে আগে সালাম দেয়া। আপনাকে সালাম দেয়ার আগে যাতে আপনি তাদেরকে আসসালামু আলাইকুম বলতে পারেন।

এই প্র্যাকটিসটা আমরা সবসময় করব যে, সবাইকে আগে সালাম দেবো। আসসালামু আলাইকুম। একদম ভালোভাবে সবাইকে আগে আমরা সালাম দেবো- আসসালামু আলাইকুম। আর এর সাথে আরেকটি কাজ যোগ করতে হবে সেটা হচ্ছে, এতিম অসহায়ের মাথার ওপরে আপনার হাত রাখতে হবে।

মাথার ওপরে হাত রাখা আর দয়া করা কিন্তু এক জিনিস নয়। মাথার ওপরে হাত রাখা মানে হচ্ছে, অভিভাবকত্ব। মা-বাবা কী করেন? সন্তানের মাথার ওপরে হাত রাখেন কি রাখেন না, বলেন? মা-বাবা যে-রকম সন্তানের মাথার ওপরে হাত রাখেন, এতিম অসহায়ের মাথার ওপরে সেভাবে আপনার হাতটা রাখতে হবে।

সবসময় অর্থ দিয়ে আপনি নাও থাকতে পারেন, মন দিয়ে, দোয়া দিয়ে, শ্রম দিয়ে, পরিশ্রম দিয়ে, মেহনত দিয়ে তার মাথার ওপরে হাত রাখতে হবে। এই দুটো কাজ যদি আপনি করেন, আল্লাহর রহমতের হাত সবসময় আপনার মাথার ওপরে থাকবে।

কোরআনের এক অমোঘ হুঁশিয়ারি…

এতিমের মাথার ওপরে হাত রাখাটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ কোরআনে এতিমের প্রতি, অসহায়ের প্রতি, সম্মানজনক আচরণ না করাটাকে অভাব, দুর্গতি, রিজিক সংকুচিত হওয়া, বালা-মুসিবত- সবকিছুর অন্যতম কারক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

কোরআন শরীফে ২২টি আয়াতে ২৩ বার এতিমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে এবং যত জায়গায় অসহায়, অভাবী এদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার আগে এতিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এতিম : আল্লামা ইস্পাহানির চমকপ্রদ ব্যাখ্যা…

আসলে আমরা এতিম বলতে যা বুঝি, কোরআন কিন্তু এতিম বলতে তা বোঝায় না। বাংলাতে এতিম শব্দটি আরবি ইয়াতিম শব্দ থেকে এসেছে এবং ইয়াতিম শব্দের ভাষাগত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আল্লামা রাগিব ইস্পাহানি (আল্লামা রাগিব ইস্পাহানি হচ্ছেন পৃথিবীর যত তাফসিরকার রয়েছেন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তাফসিরকারকদের একজন) তিনি কোরআনে এতিম শব্দটি প্রয়োগের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন যে, এতিম হলো সেই অনন্য মূল্যবান রত্ন, যা তার উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ এতিম মানে হচ্ছে একটা অনন্য সত্তা, ইউনিক সত্তা, একটা রত্ন, যা তার উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এবং এই মূল্যবান মুক্তো যাতে অযত্ন অবহেলায় হারিয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে- বাকিদের যৌথ সামাজিক দায়িত্ব। এটাকে বলতে পারেন যে, এক রকম ফরজে কেফায়া। যদি সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব পালন করে, পুরো সমাজ এই পাপ থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি কিছু মানুষ এই দায়িত্ব পালন না করে সমাজের, তাহলে সমাজের সবাই, সেই মানুষগুলোসহ ভালো মানুষ যাদেরকে বলি, সেই মানুষগুলোসহ সবাই এটার দোষে দোষী হবে!

ইমাম বোখারী থেকে গাজ্জালী-সবাই ছিলেন এতিম!

আমরা এতিম যে মূল্যবান রত্ন, তারা যে অনন্য সত্তা, তারা যে বিকশিত হয়ে অনেক কল্যাণ করতে পারেন সমাজের মানুষের, এটা বুঝব কী করে?

ইতিহাসের সবচেয়ে মহৎ মানুষ, সবচেয়ে সফল মানুষ এবং যাকে মানবশ্রেষ্ঠ বলা হয়, নবীজী (স) তিনি এতিম ছিলেন। এবং তাঁর যে বাণী হাদীস সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন যারা, হাদীসবেত্তা আবু হুরায়রা তিনি এতিম ছিলেন। আনাস ইবনে মালিক, তিনি এতিম ছিলেন।

এবং হাদীস শাস্ত্রের যিনি সবচেয়ে বড় সংরক্ষক, হাদীস বিজ্ঞানের ইমাম বোখারীও এতিম ছিলেন। ইমাম গাজ্জালী এতিম ছিলেন। সুফিয়ান সাওরী, জালালুদ্দীন সুয়ুতি এবং এই যুগের একজন বড় ফকিহ আল্লামা ইউসুফ আল-কারযাভী এতিম ছিলেন।

অ্যারিস্টটল থেকে নেলসন ম্যান্ডেলা : এতিমদের হাতেই বদলেছে পৃথিবী!

বলবেন যে, শুধু আলেমরা এতিম ছিলেন আল্লামারা এতিম ছিলেন, কবি-সাহিত্যিক? তারাও এতিম ছিলেন। ওমর খৈয়াম এতিম ছিলেন, শেখ সাদী, হাফিজ সিরাজি, ফরিদ উদ্দীন আত্তার, এরা এতিম ছিলেন এবং যত বুজুর্গ, বুজুর্গদের মধ্যে জোনায়েদ বাগদাদী, রাবেয়া বসরী, এরা এতিম ছিলেন।

বিজ্ঞানীদের মধ্যে নাসিরুদ্দিন তুসী, ফখরুদ্দিন রাজী, আল বেরুনী, ইবনে খালদুন, এরা এতিম ছিলেন।

বলবেন যে, শুধু মুসলমানদের মধ্যেই এতিম ছিল ইউরোপে এতিম ছিল না? ইউরোপে দর্শনের যে সবচেয়ে বড় দিকপাল এরিস্টটল, তিনি এতিম ছিলেন। বিজ্ঞানের দিকপাল আইজ্যাক নিউটন তিনি এতিম ছিলেন। ফ্রেডরিক নিটশে জার্মান দার্শনিক, তিনি এতিম ছিলেন। লিও টলস্টয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কথাশিল্পী, তিনিও এতিম ছিলেন। পুঁজিবাদের যিনি জনক বলা হয়- অ্যাডাম স্মিথ, তিনি এতিম ছিলেন।

এবং গত শতাব্দীর একজন খুব বড় মুক্তি সংগ্রামী নেলসন ম্যান্ডেলা, তিনি এতিম ছিলেন।
অতএব এতিম রত্নদের তালিকা কিন্তু অনেক বড়, যারা যে-কোনোভাবে হোক সামাজিক সহযোগিতা পেয়েছেন, সম্মান পেয়েছেন, সামাজিক আশ্রয় পেয়েছেন, তারা তাদের মেধাকে মুক্তোর মতন হীরার মতন নক্ষত্রের মতন তারা জ্বল জ্বল করছেন ইতিহাসে।

এতিম কোনো দয়া দাক্ষিণ্যের ব্যাপার নয়!

অতএব এতিম কোনো দয়া দাক্ষিণ্যের ব্যাপার নয়, এতিম হচ্ছে সম্মানের ব্যাপার। এবং এতিম অসহায়ের লালন কীভাবে হওয়া উচিৎ, এটা কিন্তু আল্লাহ তায়ালা পরোক্ষভাবে বলে দিয়েছেন যে কীভাবে হওয়া উচিৎ।

সূরা দোহা, ৬ থেকে ৮ আয়াত- তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পান নি? নবীজীকে (স) বলা হচ্ছে। তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পান নি? তারপর তোমাকে আশ্রয় দান করেন নি? পথহারা অবস্থা থেকে তিনি কি তোমাকে সত্যপথের সন্ধান দেন নি? নিঃস্ব অবস্থা থেকে তিনি কি তোমাকে অভাবমুক্ত করেন নি?’

তার মানেটা কী? এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, নবীজীর (স) মাথার ওপরে সবসময় কার হাত ছিল? আল্লাহর হাত ছিল। তিনি তাকে লালন করেছেন কীভাবে? আশ্রয় দান করে, সত্যপথের জ্ঞানের সন্ধান দিয়ে এবং নিঃস্ব অবস্থা থেকে অভাবমুক্ত করে।

‘আমি যদি তোমার বাবা হই তবে কি তুমি খুশি হবে?’- নবীজী (স)

নবীজীর জীবন যদি দেখি, তাহলে আমরা দেখব যে, তিনি এই কাজেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনিও সবসময় এতিমের অসহায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন।

ওহুদের যুদ্ধে বশীর ইবনে আকরাবা, তার বাবা শহীদ হন। বশীর ইবনে আকরাবা তখন খুব ছোট। স্বাভাবিকভাবে দুঃখ তো আছে। ঈদের দিন সে বসে বসে কাঁদছিল। নবীজী (স) ঐ পথেই যাচ্ছিলেন। তাকে দেখলেন কাছে গেলেন মাথায় হাত বোলালেন। তার সাথে কথা বলে তার দুঃখের কারণ শুনলেন যে, তার বাবা ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।

তিনি তো বলতে পারতেন যে, ঠিক আছে চলো তোমাকে আজকে এটা ফিরনি খাওয়াব, এটা খাওয়াব সেটা খাওয়াব এই খাইয়ে তাকে বিদায় করে দিতে পারতেন। তিনি তাকে কী বলেছিলেন? ‘আমি যদি তোমার বাবা হই এবং আয়েশা যদি তোমার মা হন, তাহলে কি তুমি খুশি হবে?’ বালক আনন্দে নেচে উঠল এবং নবীজী (স) তার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

নবীজী (স) সান্ত্বনা দিয়ে ছেড়ে দেন নাই, তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শিশুটির জীবন পাল্টে গেল এবং শিশুটি আলোকিত মানুষ হলো।

কোয়ান্টাম ও কসমো স্কুল : এতিমদের আশ্রয় ও সত্যজ্ঞানের আলোকবর্তিকা!

আসলে যদি আমরা দেখি যে, নবীজী (স) যেভাবে এতিম অসহায়দের দায়িত্ব নিয়েছেন, নবীজীর (স) অনুসারী হিসেবে আমরাও সমাজের এই ফরজে কিফায়া, যে সামাজিক দায়িত্ব সেই দায়িত্ব আমরা পালন করছি।

এবং আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি যে, ফাউন্ডেশন এই লামাতে যখন এসেছে তখন এই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সঙ্ঘবদ্ধভাবে পালন করার সুযোগ পেয়েছে।

এবং প্রথম সুযোগেই আমরা কী করেছি? এতিম অসহায়ের মাথার ওপরে হাত রেখেছি, অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছি। তার অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, অর্থাৎ আশ্রয় দেয়া। আল্লাহ তায়ালা কী বলেছেন? আমি কি তোমাকে আশ্রয় দেই নি?’ আশ্রয় দিয়েছি। তারপরে কী করেছেন? পথহারা অবস্থা থেকে পথের সন্ধান। তার মানে কী? তাকে সত্যজ্ঞান দান করেছেন।

কোয়ান্টাম কী করছে? কসমো স্কুল, মাদরাসার মাধ্যমে এই সত্যজ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার চেষ্টা করছে। এবং তাদের নিঃস্ব অবস্থা থেকে তাদেরকে পূর্ণতার পথে, তাদেরকে অভাবমুক্ত করছে। তাদের স্কুল, কলেজ এবং তারপরে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রায় সাড়ে ৩০০ ছাত্রছাত্রী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হচ্ছেন, কেউ স্কুলের শিক্ষক হচ্ছেন, কেউ ডাক্তার হচ্ছেন, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছেন, কেউ সরকারি কর্মকর্তা হচ্ছেন এবং কেউ কেউ অর্গানিয়ারও হচ্ছেন।

এবং এরা একটা সময় আসবে এখান থেকে বড় বড় কালজয়ী প্রতিভা দেশকে শুধু না, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারা মুক্তোর মতন জ্বল জ্বল করবে। এবং এই কাজগুলো সম্ভব হয়েছে ফাউন্ডেশন ও আপনাদের সহযোগিতায়, সবার সহযোগিতায় এতিম, অসহায়ের দায়িত্ব নেয়ার ফলে।

আপনি কীভাবে একজন এতিম অসহায়ের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন?

যারা শ্রম দিয়ে, মেধা দিয়ে, অর্থ দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর যারা এখনো দায়িত্ব নেন নাই, তাদেরও দায়িত্ব নেয়ার কিন্তু সুযোগ রয়েছে। কারণ এই সাড়ে তিন হাজারই শুধু এতিম অসহায় না।

আমরা চাই যে, আমাদের দেশের যত এতিম অসহায় আছে। অনেকের মা-বাবা আছেন অসহায় অক্ষম। তারাও কিন্তু আমাদের এই অভিভাবকত্বের হকদার।

আপনারা যে-কেউ ১১,৫০০ টাকা দিয়ে একজন এতিম অসহায়ের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন। আবার কেউ যদি মনে করেন যে না, আমি আংশিক নিতে পারি তাহলে ৫০০০ টাকা দিয়ে শিক্ষা, প্রতি মাসের শিক্ষা বাবদ যে খরচ! অর্থাৎ একজন অসহায়ের শিক্ষা বাবদ এই খরচটা আমি দেবো। কেউ তিন বেলার খাবার ৪০০০ টাকা, এই ৪০০০ টাকা দিয়ে খাবারের দায়িত্ব নিতে পারেন।

বলবেন যে না, আমার আমার সামর্থ্য আরো কম, প্রতিদিন একটা ডিমের দায়িত্ব আমি নেবো ৪৫০ টাকা দিয়ে নিতে পারেন।

কেউ যদি মনে করেন যে না, আমার সামর্থ্য আরো কম, সামর্থ্য যখন দেবে পুরো দায়িত্ব নেবো, এখন এক গ্লাস দুধ ৩০০ টাকা, এই ৩০০ টাকা দিয়ে আমি দায়িত্ব নিতে পারি, আপনি নেবেন।

অর্থাৎ যার যার সামর্থ্য অনুসারে, সক্ষমতা অনুসারে দায়িত্ব নেবেন এবং এমন হতে পারে যে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব মিলে একজন পুরো একজনের দায়িত্ব নিতে পারেন। যে চার জন পাঁচ জন মিলে একজনের দায়িত্ব নিতে পারেন। অর্থাৎ যার যেভাবে সম্ভব, যেভাবে যিনি পারেন, সেভাবে তিনি দায়িত্ব নেবেন।

জান্নাতে নবীজীর (স) পাশাপাশি থাকার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ কোনটি?

নবীজীর (স) একটা খুব বিখ্যাত হাদীস আছে, হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণীর ৩২৮ নম্বর হাদীস, বোখারী এবং মুসলিম শরীফে গ্রন্থিত, সহল ইবনে সাদ বর্ণিত। নবীজী (স) বলেন যে, আমি এবং একজন এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী, আমরা একসাথে জান্নাতে প্রবেশ করব। এবং তিনি তর্জনী ও মধ্যমা একসাথে তুলে দেখিয়ে বললেন, এই দুই আঙুলের মতো জান্নাতে আমরা একসাথে থাকব।

এজন্যে বুজুর্গরা বলেন, এটা হচ্ছে জান্নাতে নবীজীর (স) পাশাপাশি থাকার, নবীজীর (স) মহল্লায় থাকার, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে নিশ্চিত পথ।

নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটুক এতিমের অভিভাবকত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে…

অতএব ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নবীপ্রেমের প্রকাশ হিসেবে আমরা যারা এখনো এই দায়িত্ব, এই অভিভাবকত্ব গ্রহণ করা হয় নাই নানান কারণে, আমরা দেরি না করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করব। এটাই আমাদের আজকের প্রতিজ্ঞা হোক এবং এর মধ্য দিয়েই নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটুক আমাদের জীবনে এবং আখেরাতে আমরা যাতে নবীজীর (স) সাথে একসাথে প্রবেশ করতে পারি জান্নাতে এবং দুই আঙুলের মতন তার পাশে থাকতে পারি।

বক্তব্য:

কোয়ান্টামম সাদাকায়নের পক্ষ থেকে সবাইকে এই মহান দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং বলেন, “এটাই আমাদের আজকের প্রতিজ্ঞা হোক এবং এর মধ্য দিয়েই নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটুক আমাদের জীবনে।”

সবাইকে ভালো থাকার শুভকামনা জানিয়ে খোদা হাফেজ ও আসসালামু আলাইকুম বলে আলোচনা সমাপ্ত করা হয়।