অ্যাম্বুলেন্সে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পড়ে ছিল নিথর মৃতদেহটি!

করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী এক ভদ্রলোক। তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোয়ান্টাম দাফন কর্মীদেরকে ফোনে জানানো হলো—একজন করোনা রোগী মারা গেছেন। বগুড়ার করোনা ডেডিকেটেড সরকারি হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে তার মৃতদেহ। তাকে দাফন করতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবীরা প্রস্তুতি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে গেলেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারলেন—মৃত ব্যক্তি একজন আইনজীবী। তার স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত। তারা আইসোলেশনে আছেন নিজ বাসায়। তাই তার ছেলের বন্ধু দেখভাল করছেন সবকিছু।
মৃত্যুর আগের দিন হঠাৎ করে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলো ভদ্রলোকের। তখন তাকে হাসপাতাল নিয়ে যায় তার ছেলের বন্ধু। কিন্তু কোনোভাবে তাকে অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা করা যায় নি। সেই বন্ধু আরো কয়েকটি হাসপাতালে তাকে ভর্তির চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোথাও ভর্তির সুযোগ মেলে নি। বরং তার শ্বাসকষ্টের সাথে যোগ হয়েছিল এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ঝক্কি! ব্যক্তি
শেষপর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সন্ধ্যায়। তখন পরিবার-প্রধানের লাশ বাসায় নিতে নিষেধ করা হয় তার পরিবার থেকেই! তাদের সিদ্ধান্ত হলো, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল চত্বরে তার লাশ রাখা হবে এবং সেখান থেকেই দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মৃতদেহটি নিথর পড়ে ছিল হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সে। যেহেতু হাসপাতালে তিনি ভর্তি ছিলেন না, তাই কর্তৃপক্ষ কোনো দায়িত্ব নিতে রাজি হয় নি। তার পরিবারেরও কেউ সাথে নেই। তার ছেলের বন্ধুও দাফনের কোনো ব্যবস্থা করতে পারে নি সারা রাত।
এদিকে ভোরে স্বেচ্ছাসেবীরা যাওয়ার পর মৃতদেহ পরিচ্ছন্ন করার কোনো জায়গা পাচ্ছিলেন না। গোসল দেয়ার জন্যে কোনো খালি রুমও দিতে পারছে না সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে বাধ্য হয়ে তাকে গোসল করানো হয় একটি ছোট গলিতে!
হাসপাতালের পাশে সেই কানাগলিতে দুটো অ্যাম্বুলেন্স এবং পর্দা দিয়ে ঢেকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃতদেহ প্রস্তুত করেন তারা। তারপর নামাজে জানাজা এবং দোয়া করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। পরিবারের পক্ষে ছিলেন শুধু মৃতের ছেলের বন্ধু। অবশেষে বগুড়া শহরের ভাই পাগলা মাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হলো অর্ধদিবস অতিবাহিত হওয়ার পর। কবরস্থানের লোকজন শুধু কবরটা খুঁড়েই চলে গিয়েছিল। তাই কবরে মাটিও দিতে হয়েছিল পিপিই পরিহিত স্বেচ্ছাসেবীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *