আপনার দুঃখের কারণ বুঝতে পারছেন কি?

আসলে দুঃখ কত প্রকার এবং কী কী? এবং দুঃখ কিন্তু কমছে না পণ্য যত বাড়ছে প্রোডাক্ট যত বাড়ছে দুঃখ তত বাড়ছে আরকি।

প্রয়োজনহীন জিনিস কেনাই দুঃখের কারণ

আর প্রোডাক্ট মার্কেটিংয়ের স্ট্র্যাটিজি যত বাড়ছে… মার্কেটিং তো বোঝেন? মার্কেটিং হচ্ছে যার যে জিনিস প্রয়োজন নাই সেই জিনিস তাকে দিয়ে কেনানোর নাম হচ্ছে মার্কেটিং আরকি। যেটা প্রয়োজন এটা কেনানোর জন্যে কোনো মার্কেটিং করার প্রয়োজন নাই আরকি। যেরকম চাল কেনার কোনো মার্কেটিংয়ের প্রয়োজন নাই। আটা কেনার জন্যে মার্কেটিংয়ের কোনো প্রয়োজন নাই। যার যে জিনিসের প্রয়োজন নাই সেই জিনিস তাকে দিয়ে কেনাতে পারার নাম হচ্ছে মার্কেটিং।

এবং মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে একজন খুব সফল বিক্রেতা সেলসম্যান এক ফ্রিজ কোম্পানি ইন্টারভিউতে গিয়েছে। তো সিইও ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তো জিজ্ঞেস করছে যে তুমি ফ্রিজ কোথায় কোথায় বিক্রি করতে পারবে? বলে যে স্যার আমাকে ফ্রিজ দিয়ে আইসল্যান্ডে পাঠিয়ে দেন। ওখানে আমি এস্কিমোদের কাছে ফ্রিজ বিক্রি করতে পারব। তাদেরকে আমি বোঝাব যে ফ্রিজটা কত প্রয়োজন তাদের জন্যে।

অর্থাৎ যেখানে বরফের নিচে রেখে দিলে একটা মাছ যদি হাজার বছর পরেও বরফ ভাঙা হয় ঐ মাছটাকে মানে ঠিক মনে হবে যে এই মুহূর্তে মাছটা মারা গেছে। তো তাদের কাছে আমি ফ্রিজ বিক্রি করতে পারব।

তো সিইও হেসে বলল যে, হাঁ তুমি পারবে। অর্থাৎ যার যে জিনিসের প্রয়োজন নাই তার কাছে সেই জিনিস বিক্রি করতে পারার নাম হচ্ছে মার্কেটিং।

এবং দেখবেন যে যত পণ্য অধিকাংশ পণ্যই প্রয়োজনহীন আরকি।

পণ্য যত বাড়ছে দুঃখ তত বাড়ছে

এবং সেটার জন্যে মার্কেটিংয়ের চমৎকার ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে বেশি মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা হচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলোর এবং সবচেয়ে বেশি লোক নিয়োগ করা হয় ওষুধ কোম্পানিগুলোতে।

এবং মার্কেটিংয়ের পেছনে বিশাল বিশাল খরচ। তাহলে মানে থিওরিটা কী বুঝলেন? যার যে জিনিসের প্রয়োজন নাই সেই জিনিস তার কাছে বিক্রি করতে পারার নাম হচ্ছে মার্কেটিং। এবং পণ্য যত বাড়ছে দুঃখ তত বাড়ছে। কারণ আপনার প্রয়োজন নাই যে জিনিস সেই জিনিস যদি আপনি গ্রহণ করেন সেটাতো আপনার দুঃখের কারণ হবে।

তার মানে হচ্ছে যে জিনিস আপনার প্রয়োজন নাই সেই জিনিস যত কিনবেন তত আপনার দুঃখ বাড়তে থাকবে। কারণ এখনকার যে সাম্রাজ্যবাদ এই সাম্রাজ্যবাদ সরাসরি উপনিবেশ নয়। কিন্তু ইনডাইরেক্টলি আপনাকে দাস বানিয়ে রাখছে সমস্ত জিনিস বাকিতে দিয়ে।

পণ্য শেয়ার করার লোক আছে কিন্তু দুঃখ শেয়ার করার লোক নেই

অর্থাৎ বাকিতে কিনতে পারছেন, আপনি ঋণ করে কিনতে পারছেন, কিস্তিততে কিনতে পারছেন, এন্ড ইউ আর বিকেম ইন এ স্ল্যাভ। কিস্তি দাও আর কিস্তি দাও তো পণ্যের যত বিকাশ গড়ছে বিস্তার গড়ছে দুঃখ তত বাড়ছে আরকি।

কারণ যত পণ্যের বিস্তার গড়ছে তত মানুষ একা হচ্ছে আরকি তত মানুষ নিঃসঙ্গ হচ্ছে। এখন আমাদের পণ্য শেয়ার করার পণ্য কেনার লোক আছে বিক্রি করার লোক আছে কিন্তু দুঃখ শেয়ার করার বা দুঃখ কেনার কোনো লোক নাই আরকি। আপনি যে দুঃখ বিক্রি করবেন তাও বিক্রি করতে পারবেন না আরকি। দুঃখ আবার বিক্রি করতে হলে পয়সা দিয়ে বিক্রি করতে হবে আরকি।

কারণ আপনি খুব দুঃখিত বোধ করছেন খারাপ বোধ করছেন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাবেন আরকি। উনি আপনার দুঃখ কিনবেন কিন্তু টাকাটা আপনি দেবেন।

অর্থাৎ দুঃখ আপনি বিক্রিও করতে পাচ্ছেন না, দুঃখ আপনি যখন কাউকে দিতে যাবেন সাথে টাকা দিতে হবে। আপনি যে দুঃখের কথা কাউকে বলবেন সেই কথা বলার মতোন পরিবেশও এখন নাই। কারণ কারো কোনো কথা শোনার আমাদের সময় নাই। শেয়ার করার আমাদের সময় নাই আরকি। আমরা শেয়ার করি কোথায়? আমরা শুনি কোথায়? বায়বীয়ভাবে আরকি ডিজিটালি এবং ডিজিটালি আসলে কোনোকিছু শেয়ার হয় না টাচ ছাড়া কোনোকিছু শেয়ার হয় না।

এবং আপনার যেহেতু দুঃখ শেয়ার করার কেউ নাই এইজন্যে দুঃখ জমতে থাকে দুঃখ শেয়ার করলে দুঃখ কমে আনন্দ শেয়ার করলে আনন্দ বাড়ে। আনন্দের নেচার হচ্ছে এটা যত শেয়ার করবেন তত বাড়বে, আর দুঃখের নেচার হচ্ছে এটা যত শেয়ার করবেন করতে পারবেন তত কমবে। আনন্দ শেয়ার করার আছে কিন্তু দুঃখ শেয়ার করার কেউ নাই।

করণীয় কী?

১. কোনোকিছু নিয়ে অভিমান হলে বলে ফেলবেন

তো এখন এই যে দুঃখ দুঃখের সাথে জড়িত হচ্ছে অভিমান, অভিমানের সাথে জড়িত হচ্ছে জেদ। জেদ এবং অভিমান এই দুটো হচ্ছে একটা আরেকটার জমজ ভাই বা জমজ বোন বলতে পারেন। তো আসলে অভিমান জেদ ক্ষোভ এটা সবচেয়ে বেশি হয় আপনজনদের সাথে। যাদের সাথে সম্পর্কটা আবেগিক।

যে-কোনো ধরনের আত্মীয়তা সম্পর্ক হতে পারে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে অথবা আবেগীয় সম্পর্ক যেখানে রয়েছে সেখানেই এটা বেশি হয়। এই অভিমান জেদ ক্ষোভ এগুলো আপনজনদের সাথেই সবচেয়ে বেশি হয় আরকি।

এবং অভিমানটা যখন দেয়ালের পর্যায়ে চলে যায় তখন এটা হয়ে যায় জেদ। ধরুন একজন আপনাকে একটা ঘুষি মারল বা একজন অভিভাবক একটা চড় মারল। এটা কিন্তু অভিমান সৃষ্টি হবে না ক্ষোভ সৃষ্টি হবে।

অর্থাৎ মারটা যখন ফিজিক্যালি প্রয়োগ করা হয় তখন এটা অভিমান হয় না এটা ক্ষোভের পর্যায় চলে যায়। আর আঘাতটা যখন মেন্টাল হয় মানসিক হয় আবেগিক হয় তখন এটা অভিমান হয় আরকি। এবং এটার ভাইস ভারসা হচ্ছে দুঃখ।

অভিমান এবং দুঃখ একটা আরেকটা পরিপূরক অভিমান আসলে অপ্রকাশিত থেকে যায় প্রকাশ আমরা করতে পারি না প্রকাশ করতে চাই না, কষ্টটা ভেতরে থাকে এবং এটা দুঃখে রূপান্তরিত হয় আরকি। এইজন্যে কোনোকিছু নিয়ে অভিমান হলে কী করবেন বলে ফেলবেন। এটা নিয়ে আমার অভিমান হয়েছে।

২. আবেগিকভাবে সবল হওয়ার চেষ্টা করুন

তো আসলে পারিবারিক জীবনে দুইপক্ষ কখনো সমান হয় না আর সমান হলে পরিবার হয় না। একপক্ষ দুর্বল একপক্ষ সবল হলে পরিবারটা ভালো হয়, আর দুইপক্ষ সমান সমান হলে পরিবার হয় না। হয় স্বামী দুর্বল অথবা স্ত্রী দুর্বল আরকি মানে। কখনো স্বামী সবল হয় বা স্ত্রী সবল হয় আরকি মানে।

এবং সবল পক্ষ সবসময় দুর্বল পক্ষের ওপর তার মত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। যখন মত চাপিয়ে দেয়া হয় সবল পক্ষের ব্যাপারে কিন্তু দুর্বল পক্ষ কিছু বলতে পারে না। এবং অভিমানটা হয় দুর্বল পক্ষের। তো কখনো দুর্বল হবেন না ফিজিক্যালি দুর্বল হতে পারেন।

তো আসলে দুর্বলের দুর্বলতার প্রকাশের একটা মাধ্যম হচ্ছে অভিমান। কারণ সবল পক্ষ কখনো অভিমান করে না, তার কথার তুবড়িতে দুর্বল পক্ষ শেষ। তো আসলে যখনই আপনি অভিমান করতে গেলেন তখন মনের দিক থেকে আপনি যে দুর্বল এটা আপনি প্রতিষ্ঠিত করে ফেললেন।

সবল মানুষ তিনি নারী হোন অথবা পুরুষ কখনো অভিমান করে না। অভিমান হচ্ছে দুর্বলের লক্ষণ আরকি মানে। তাহলে সবল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে আরকি। শক্তি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জ্ঞান সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বুদ্ধি সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে কৌশল।