কেন মেডিটেশন

কেন মেডিটেশন

কাজী আনোয়ার হোসেন

বাংলাদেশে আত্মউন্নয়নমূলক সাহিত্যের পথিকৃৎ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

একজন ব্যস্ত মানুষের পক্ষে প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় বের করে নেয়া কঠিনই। তবু কেন মেডিটেশনের জন্যে একটি করে ঘণ্টা ব্যয় করছি? কী লাভ হচ্ছে এতে?

রোজ সকালে ভয় রাগ ঘৃণা দুশ্চিন্তার কবল থেকে মুক্ত করছি মনটাকে, সবার মঙ্গল প্রার্থনা করছি, নিজ বা অপরের জন্যে যা চাই সেটা সাজেশনের মতো করে উচ্চারণ করছি, মনছবি দেখছি সাফল্যের, আলফা লেভেলে গভীর মনোযোগের সঙ্গে সমাধান খুঁজছি সমস্যার, চাহিদা পূরণ হলে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ব্যস, এই তো। সুখী হওয়ার জন্যে এর বেশি আর কী দরকার? আর এর বিনিময়ে রোজ এক ঘণ্টা সময় দেয়া কি খুব বেশি কিছু ?

আসলে চাইলেই পাওয়া যায়।

তবে চট করে না। লক্ষ্য অর্জনের আগে প্রস্তুতি দরকার। নিজেকে তৈরি করা চাই, প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া চাই। ধৈর্য চাই।

মেডিটেশনের পুরো সুফল পেতে হলে সময় দিতে হবে। প্রতিদিন কিছুক্ষণ করে। ধীরে ধীরে আসবে আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং তারপর সাফল্য। সঠিক নিয়মে চর্চা করলে সাফল্য আসবেই। আমার অন্তত কোনো সন্দেহ নেই তাতে। লক্ষ্যবস্তু চলে আসবে হাতের মুঠোয়।

কেন আসবে, তার ব্যাখ্যা একেকজনের কাছে একেক রকম। বিশ্বাসী সেটাকে পরমেশ্বরের দান হিসেবে গ্রহণ করবেন; আর যারা মনে করেন প্রকৃতিই আমাদের নিয়ন্তা, তারা অনুভব করবেন একান্তভাবে কিছু চাইলে সেটা পাওয়া যায়—এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

কে কোন্ ধর্মে বিশ্বাসী, সেটা কোনো ব্যাপার নয়। যে যেভাবেই করুন, মেডিটেশন চর্চার মাধ্যমে অন্যায় স্বার্থসিদ্ধি ছাড়া আর সবই পাওয়া সম্ভব; তা আপনি হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যাই হন কিংবা না হন। এটা পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক সত্য।

একটাই তো জীবন। এর অনেক সময় নষ্ট করেছি। বাকি সময়টুকু কিছুটা বিচক্ষণতার সঙ্গে কাটাতে যদি সত্যিই মেডিটেশনের সাহায্য পাওয়া যায়, তাহলে সে-সাহায্য নেব না কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *