সমস্ত প্রশংসা সেই মহান জাতপাক আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি যিনি সৃজন করেছেন এ বিশ্ব মহিমণ্ডল এবং দরূদ, ছালাত, ছালাম ও তার হাবিব, রাহমাতুল্লিল আলামিন ইমামুল মুরছালিন হযরত মােহাম্মদ (সাঃ) ও তার আহলে বাইয়েত তথাঃ-
* হযরত মাওলা আলী (আঃ)
* খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমাতুজ্জাহরা (আঃ)
* হযরত ইমাম হাসান (আঃ)
* হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) এর উপর।
কোরানুল করিমে আল্লাহ পাক বলেছেনঃ-
“কুললা আছ আলুকুম আলাইহি আজরান ইল্লাল মা-আদ্দাতা ফিল কুরবা। অ-মাঈ ইয়াক তারিফ হাসানাতান নাযিদ লাহু ফীহা হুছনা।”
অর্থাৎ বলে দিন (হে প্রিয় রাসুল] আমি চাইনা তােমাদের কাছে এই বিষয়ে( নবুয়ত) কোন পারিশ্রমিক আমার নিকটবর্তীগণের[ আহলে বাইয়েত] মা-আন্দাতা [ভালবাসা] ব্যতীত।
যে ব্যক্তি ইহার [এই আদেশের] সদ্ব্য ব্যবহার করে আমি (আল্লাহ) তার জন্য শ্রীবৃদ্ধি( বরকত) করে থাকি। [সূরা শুরা- আয়াত ২৩ ]
উক্ত আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক আহলে বাইয়েতের প্রতি মহব্বত উম্মতে মােহাম্মদী (সাঃ) এর জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন। সাহাবাগণ উক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-
কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, ইয়া রাছুলুল্লাহ (সাঃ) কারা আপনার নিকটবর্তী জন, যাদের প্রতি ভালবাসা আল্লাহপাক আমাদের জন্য ওয়াজিব করে দিয়েছেন?
উত্তরে রাছুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:-
“আলী, ফাতেমা, ইমাম হাসান ও হুসাইন” হলাে আমার নিকটবর্তী জন।
উক্ত আয়াতকে বলা হয় “আয়াতে মা’আদ্দাত” বা প্রাণাধিক ভালবাসার নিদর্শন।
কোরানুল করিমে সূরা আল ইমরানের ৬১ নং আয়াতটিকে বলা হয় “আয়াতে মুবাহীলা” বা চ্যালেঞ্জের নিদর্শন।
এ আয়াতের শানে নযুল হলাে- হযরত জাবের (রাঃ) হতে ধারাবাহিক ভাবে, শাবী, দাউদ ইবনে হিন্দ, মােহাম্মদ ইবনে দীনার, বাশার ইবনে মিহরান, আহামদ ইবনে দাউদ মক্কী, সােলায়মান ইবনে আহামদ ও আবু বকর ইবনে মুরদিয়া (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, একদা আবিদ ও সাঈদ রাছুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে গিয়ে তাদের সাথে মুবাহীলা (চ্যালেঞ্জ করার জন্য) আহবান করলাে। এতে রাসুল করিম (সাঃ) বাধ্য হয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন।
পরদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর আহলে বাইয়েত তথা মাওলা আলী, মা ফাতেমাতুজ্জাহরা, ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আঃ)-কে সাথে নিয়ে মুবাহীলার জন্যে বের হলেন।
কিন্তু খৃষ্টানদেরকে মুবাহীলা করার জন্য খবর দিলে তারা ভীত হয়ে মুবাহীলার জন্য অস্বীকৃতি জানায়।
এ ঘঠনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয় আয়াতে- মূবাহীলা-
আয়াতটি হলাে:- “ফা কুল তা আ- লাউ নাদউ আবনা আনা ওয়া আবনা আকুম, অ-নিছা আবনা অ-নিছাকুম, ওয়া আনফুসানা অ আনফুসানাকুম। সুম্মা নাবৃতাহেল ফানাজ আল লানাতল্লাহে আলাল কাজেবীনা।
” অর্থাৎ সুতরাং তুমি বল, এসাে! আমরা ডাকি আমাদের সন্তানদেরকে এবং তােমাদের সন্তানদেরকে এবং আমাদের নারীদেরকে এবং তােমাদের নারীদেরকে এবং আমাদের নফসকে এবং তােমাদের নফসকে, অতঃপর আমরা শপথ পাঠ করি, মিথ্যকদের উপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হউক।
→ ( তাফসীরে ইবনে কাসীর ২য় খণ্ডের ৪৭৭ পৃষ্ঠায় এবং তাফসীরে মাজহারী’ ৯ম খণ্ডের ৪৯২ – ৯৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, উক্ত আয়াতে মুবাহীলার বিষয়ে হযরত জাবের (রাঃ) বলেনঃ উক্ত আয়াতে মুবাহীলায় –
“আনফুসানা” শব্দ দ্বারা রাসুল (সাঃ) ও মাওলা আলী (আঃ)-কে
“অনিছা আনা” শব্দ দ্বারা মা ফাতেমাতুজ্জাহরাকে এবং
“ওয়া আবনা আনা” শব্দ দ্বারা ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন
(আঃ)-কে বুঝানাে হয়েছে।
→বর্ণনাটি হবে এমন ?
→♥ প্রথম – রাসুলেপাক হযরত মােহাম্মদ (সাঃ)
→♥ দ্বিতীয় – হযরত মাওলা আলী (আঃ)
→♥ তৃতীয় – হযরত মা ফাতেমাতুজ্জাহরা (আঃ)
→♥ চতুর্থ – হযরত ইমাম হাসান (আঃ) এবং
→♥ পঞ্চম – হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) ।
এ ধারায় এবং সাথে থাকবে তার তত্ত্ব ও তথ্য সম্বলিত আলােচনা যা হবে সত্য সন্ধানীদের জন্য পথ নির্দেশিকা, বাতিলের চারি দেয়ালে চরম আঘাত।
সেখান থেকে কিছু আয়াত পেশ করা হলাে পাক পাঞ্জাতন ও নবীর প্রতিনিধি সম্পর্কে –
“ওয়া আরছালনাকা লেন্নাছে রাসুলান ওয়া কাফা বিল্লাহি
শাহিদান, মাইয়েতের রাসুলা ফাকাদ আতাল্লাহ।”
অর্থাৎ – তােমাকে লােকদের জন্য পাঠিয়েছি রাসুল রূপে, আল্লাহই যথেষ্ট স্বাক্ষী ;
যে রাসুলের আনুগত্য করেছে সেতো আল্লাহরই আনুগত্য করেছে [ সূরা নেছাঃ ৭৮-৮০ আয়াত ]।
আল্লাহ, রাসুল ও মুমিনগণকে ভালবাসার মধ্যে মুক্তির শর্ত নিহিত [ সুরা মায়েদা। ৫৬ আয়াত ]।
এ ব্যাপারে বিতর্ক করলে কাফের ( আলে ইমরান ৩২ আয়াত]।
আল্লাহ, রাসুল ও নবীর প্রতিনিধির আদেশ মান্য করা ফরজ (সুরা নেছা ৫৯ আয়াত]।
নবীর হাত আল্লাহরই হাত [ সূরা ফাতাহ ১০ আয়াত ]।
রাসুলের উপর ঈমান না থাকলে দোযখে ঠিকানা।
[সূরা ফাতাহ ১০ আয়াত]।
রাসুলের অনুগত হলেই দয়া প্রাপ্ত হবে।[ সুরা নুর ; ৫৬.আয়াত]।
মুমিনের নিকট রাসুল নিজের প্রাণের চেয়ে প্রিয় ( সূরা আহযাব ৬ আয়াত।)
সমস্ত সম্মান আল্লাহর, তার রাসুলের এবং মুমিন বা নবীর প্রতিনিধিগণের, কিন্তু মুনাফিকগণ তা বুঝে না।
(সূরা মুনাফিকুন: ৮ আয়াত]।
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ রাসুলের উপর দরূদ প্রেরণ করেন [সূরা আহযাব: ৫৬ আয়াত]।
নিশ্চয় আল্লাহ চাহেন যে, তিনি তােমাদের (আহলে বাইয়েতের] অপবিত্রতা দূর করেন এবং তােমাদিগকে পাক সাফ রাখেন। (সূরা আহযাব: ৩৩ আয়াত]
বলাে, আহ্বানের উজরত হিসাবে আত্মীয়দের (আহলে বায়াতের) সৌহার্দ ছাড়া আর কোন প্রতিদান চাই না [সূরা শুরা : ২৩ আয়াত]
হে নবী পরিবার (আহলে বাইয়েত] তােমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ [সূরা হুদ: ৭৩ আয়াত]
এবং আল্লাহর রজ্জুকে (আহলে বাইয়েতকে] দৃঢ়ভাবে ধরাে [সূরা ইমরান:১০৩ আয়াত]
এখানে অনেক ক্ষেত্রে আয়াতের ভাবার্থও উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরাে অনেক আয়াত এ বিষয়ে কোরআনে বিধৃত আছে।
“পাক পাঞ্জাতন” কথাটি আমাদের সাধারণ সমাজে এমনকি অনেক আলেম (?) সমাজেও পরিচিত নয়।
এর কারণ হলাে রাসুলে করিম (সাঃ)এর পর মুয়াবিয়ার আমল হতে রাসুলে পাক (সাঃ) এর আহলে বাইয়েতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ধারা বর্তমান কাল পর্যন্ত চালু আছে এক শ্রেণীর আলেম নামধারী জালেমদের দ্বারা।
যার পরিপূর্ণ সূচনা হয় মুয়াবিয়া ও তার সুযােগ্য উত্তরসূরি পুত্র ইয়াজিদ এবং তার পােষা মৌলবীদের দ্বারা।
যার ইতিহাস বর্ণনা সামনে দেয়া হবে।
যদি আপনারা চান লেখাটা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করি তবে।
“পাক” অর্থ পবিত্র বা পরিশুদ্ধ “পাঞ্জাতন” অর্থ পাঁচটি তন অর্থ পাঁচটি শরীর।
কাজেই পাক পাঞ্জাতন মানে পবিত্র পাঁচটি শরীর বা ব্যক্তি তথা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), মাওলা আলী, মা ফাতেমাতুজ্জাহরা,
ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আঃ)।
“আয়াতে তাতহির” মােতাবেক রাসুলে পাক (সাঃ) এর আহলে বাইয়েত বা আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইন পবিত্র চারজন এবং রাসুলেপাক (সাঃ)-কে নিয়ে হলাে পাক পাঞ্জাতন।
সৃষ্টির মূল ধারক বাহক হলাে পাক পাঞ্জাতন এবং তার নবুয়তী ছুরত হলাে উক্ত পাঁচজন।
তাদের বেলায়তী রূপ সমগ্র সৃষ্টিব্যাপী স্থিত আছে এবং তাদের সেই স্থিতবস্থা হতে উপস্থিত রূপ হলাে নবুয়তী ছুরত।।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর আহলে বাইয়েত সম্পর্কে তথা তাদের শান-মান-মর্যাদা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বলে গেছেন। যদিও নবীজির পরলােক (পর’ অর্থ অন্য এবং ‘লােক’ অর্থ শরীর তথা মালাকীবস্থায়) গমনের পর অনেক হাদিস বিকৃত করা হয়েছে, যা ছিল আহলে বাইয়েতের শানে বর্ণিত।
“আন্না আলীউল মাওলাল মুমিনীন”
অর্থাৎ আলী মুমিনদের প্রভু – এ কথাটি সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াতে যুক্ত ছিল বলে ইবনে আবি হাতেম (রাঃ) বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে।
ইবনে মারদুইয়া ইবনে ওমরু (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আমরা নবীজির সময় সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াতে “আন্না আলীউল মাওলাল মুমিনীন” এ অংশটি পড়তাম।
যেকোনো আহেল বায়াত (সাঃ) এর প্রেমিক বিনা অনুমতিতে পোস্ট কপি করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
নিবেদকঃ
শাহ সুফি আহমেদ হোসাইন (বেলায়েতের পাগলা)
পাকঁ পাঞ্জাতন (সাঃ) ধারাবাহিক পর্বঃ-(১)
