লেটেস্ট ও গ্রেটেস্টের গল্প মনে রাখুন, তা হলেই পারবেন

আমার মায়ের একটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি আমাকে অনেক কিছুতে ভর্তি করিয়ে দেন। যেমন, ব্র্যাককুমন, কোডিং। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোনো জিনিস পুরোপুরি না শিখতেই তিনি আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে অন্যকিছুতে ভর্তি করিয়ে দেন। যেমন, কুমনে আমার গোল্ড মেডেল পাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ছয় মাস পর তিনি আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এলেন! আমার স্বপ্নে জল ঢেলে দিলে আমি কী করব?

মাকে বোঝান সুযোগ বুঝে বিনয়ের সাথে…

আপনি এরপরে মাকে বলবেন যে, মা! তুমি তো কিছু দিন পরে সরিয়ে নিয়ে আসবা তো আমি আগেই সরে গেলাম। আর যদি চাও যে আমি না সরি তাহলে যেখানে আমাকে করাচ্ছ এটা শেষ না দেখা পর্যন্ত আমাকে সরাতে পারবে না।

অর্থাৎ খুব বিনয়ের সাথে অবস্থা বুঝে সুযোগ বুঝে। মা-বাবাকে কখন কোন কথা বলতে হবে এটা সবসময় কী করতে হবে সুযোগ বুঝে বলতে হবে। কিছু সময় আসে যখন মা-বাবা আপনি বলার আগেই দেখা যাবে যে ইয়েস করে ফেলেছে। আবার কিছু সময় আছে যখন আপনি চিৎকার করে গলা ফাটালেও শুনবে না।

তো অতএব আপনাকে বুঝতে হবে। কারণ আপনি হচ্ছেন লেটেস্ট মা-বাবা গ্রেটেস্ট ঠিক আছে। বাট ইউ আর দি লেটেস্ট।

গ্রেটেস্ট সবসময় হারে লেটেস্টের কাছে!

লেটেস্ট এবং গ্রেটেস্টের গল্প জানেন তো?

মোহাম্মদ আলী ছিলেন গত শতাব্দীর সবচেয়ে বক্সার বা ইতিহাসের সবচেয়ে মানে স্টার বক্সার। উনি বক্সিংকে একটা শিল্পে রূপান্তরিত করেছিলেন একটা আর্টে রূপান্তরিত করেছিলেন তার কলাকৌশল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে।

তিনি যখন রিঙে নামতেন। নেমেই বলতেন আলী আলী। তারপরে বলতেন আইএম দি গ্রেটেস্ট। যে আমি হচ্ছি গ্রেটেস্ট। এন্ড হি ওয়াজ দি গ্রেটেস্ট। কিন্তু তিনি হেরে গেলেন লেটেস্টের কাছে। তার বয়স যখন ৪০ তিনি নেমেছেন আলী আলী আইএম দি গ্রেটেস্ট।

তো ১৯ বছরের স্পিংস। সে লাফ দিয়ে নেমে বলল ইয়েস বাট আইএম দি লেটেস্ট এবং স্পিংসের কাছে তিনি হেরে গেলেন। তো গ্রেটেস্ট সবসময় হারে কার কাছে? লেটেস্টের কাছে। এবং লেটেস্টের কাছে হারাটাও হচ্ছে আনন্দের।

স্কুলিয়ের মতো লক্ষ্য ঠিক করুন, লেগে থাকুন

এই যে সাঁতারে মাইকেল ফেলপস কার সাথে হারলেন? স্কুলিং। স্কুলিংয়ের কিন্তু আইকন ছিলেন ফেলপস। তিনি ফেলপসের সাথে ছবি তোলেন এই ছবি হচ্ছে তার গুরু। আমরা ইনস্ট্যান্ট কী চাই? সাকসেস চাই ইনস্ট্যান্ট ফেম চাই। স্কুলিংও ইনস্ট্যান্ট ফেম হয়ে গেল তার।

কিন্তু ফেমের জন্যে তাকে কাজ করতে হলো বহু বছর এবং কীরকম? আট বছরের কিশোর। বেড়াতে গিয়েছে বাবার সাথে আরেক দেশে হোটেলে ভোর ৪টার সময় উঠে বাবাকে বলছে যে বাবা আমাকে সুইমিং পুলে নিয়ে চলো। বলে যে মানে এই বেড়াতে আসছ তুমি এখানে সুইমিং পুল!?

বলে যে, না। আমি বেড়াই আর যাই করি আমাকে সাঁতার কাটতে হবে। তুমি আমাকে সুইমিং পুলে নিয়ে চলো। বাবা সেই রাত ৪টার সময় তাকে সুইমিং পুলে নিয়ে গেলেন হোটেলের সে সাঁতার কাটল প্র্যাকটিস। সেই স্কুলিং এক সেকেন্ড মেটার অব ওয়ান সেকেন্ড। এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ফেলপসকে হারালেন।

তো সব সাংবাদিকরা ফেলপসের কাছে গিয়েছে। বলে যে আপনার অনুভূতি!! তো ফেলপস হেসে বললেন যে, আমার অনুভূতি তো না আপনি ওর অনুভূতি না শুনবেন। ওতো প্রথম হয়েছে ওর অনুভূতি শোনেন। অর্থাৎ সবসময় গ্রেটেস্ট হেরে যায় কার কাছে? লেটেস্টের কাছে।

কিন্তু হারাতে হলে কী করতে হবে? পরিশ্রম করতে হবে মেহনত করতে হবে। আপনি যা বলবেন তাই শুনবে মা-বাবা। কখন শুনবে? যখন আপনি স্কুলিংয়ের মতো হবেন। অর্থাৎ ইউ হ্যাভ এইম ইউ হ্যাভ এ গোল এবং সেই গোলের জন্যে আপনি যখন পরিশ্রম করবেন।

মানে স্কুলিংয়ের কী ছিল? গোল ছিল লক্ষ্য ছিল। কেন সে বাঁচবে সে জানত যে যে না আমাকে সাঁতারে গোল্ড পেতে হবে অলিম্পিকে। আমার বাঁচা মরা এটাই আমার দেশের জন্যে প্রথম গোল্ড আমি জয় করব। এবং সিঙ্গাপুরের প্রথম গোল্ড পেলেন এই স্কুলিং। অতএব সবসময় এই লেগে থাকাটা হচ্ছে খুব ইম্পর্টেন্ট।

[অজেয় তারণ্য, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩]