শেষ স্বাক্ষর, মাঠের সুর, এবং এক বিরহের গল্প
কামার গ্রাম কাঞ্চন একাডেমীর ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন স্যারের বিদায়ে)
“শেষ স্বাক্ষর” –
খাতার পাতায় নাম জ্বলে শেষবার,
একটি যুগের অবসান, এক বিরহের পার।
মাঠের প্রান্তে দাঁড়ায় শূন্যতা গভীর,
বিদায়ের বাতাসে কাঁপে কাঞ্চনার তীর।
১৯৯৩, জুলাইয়ের পনেরো তারিখ-
সূর্য তখনো তরুণ, আলোর ধারাবাহিক।
শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা এই মাঠে,
শরীরচর্চার গুরু, প্রাণের অভিষেকে।
“মাঠের রাজা”, “বাঁশির সম্রাট” –
ডাক নাম তাঁর, প্রজন্মের অবিস্মৃত।
“তাড়াতাড়ি লাইন দাও!” – সেই ভরাট নির্দেশ,
শৃঙ্খলার গান, আজও কানে মিষ্টি এস।
সহকর্মীর ডাক? – প্রেরণার আহ্বান,
মাঠের প্রয়োজনে তিনি সবার প্রধান।
আজ তাঁর স্থান? শূন্যতার ভার,
কিন্তু হৃদয়ে অমলিন, চিরন্তন তাঁর ছবি আঁকার।
বিদায় নিলেন স্যার, কিন্তু রেখে গেলেন স্মৃতি,
এক অনির্বাণ দীপ, জীবনের গীতি।
আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা আমাদের গান—
দীর্ঘ জীবন, সুস্থতা দাও, শান্তির পরিমান।
হে সহকর্মী, তুমি গর্বিত, জানো নিশ্চয়—
তাঁর শেষ স্বাক্ষর শুধু খাতায় নয়।
লেগে আছে হৃদয়ের পাতায় পাতায়,
কাঞ্চনার মাঠে, আকাশে, বাতাসে, সবখানে ছায়ায়।
ভালো থেকো স্যার, দূর যেখানেই যাও,
তোমার ছাত্র, সহকর্মী, মাঠের ধুলো কাঁদে আজ তাও।
“শেষ স্বাক্ষর” হোক শুধু কর্মজীবনের ইতি,
প্রেমের অধ্যায় রবে চিরজীবী, চির অমলিন গতি।
বিদায় স্যার মাঠের গল্প শেষ স্বাক্ষরের ছায়া কাঞ্চন অনুরণন ।
এই ছন্দকথনটি আইয়ুব হোসেন স্যারের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাঁর কর্ম ও স্নেহ কাঞ্চন একাডেমীর প্রাঙ্গনে চিরকাল অনুরণিত থাকুক।
কবির আহমেদ ।
