জীবনের মহৎ লক্ষ্য বা মনছবি পরিষ্কার হচ্ছে না। আমি অনন্য মানুষ হতে চাই মানুষের কল্যাণ করতে চাই ধীরে ধীরে। এই চাওয়ার আকাঙ্খা তীব্র হচ্ছে কিন্তু কীভাবে সেটা অর্জিত হবে সেই কর্মপন্থা পরিষ্কার হচ্ছে না। বর্তমানে আমি আত্মউন্নয়নের দিকে ফুল ফোকাস দিচ্ছি। পরের পথটা কেমন হতে পারে এবং আমি আর কী করতে পারি?
গোল সেট করুন
আসলে ইটস এ ওয়ান্ডারফুল থিং যে, পথ চলার জন্যে পথে নামাটাই যথেষ্ট। পথে যখন নামবেন, পথ পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। যখন আপনি বিশ্বাস করবেন গোলটাকে ঠিক করবেন যে না আমি চাই! আমি অনন্য মানুষ হতে চাই আমি ভালো মানুষ হতে চাই, আমার যে মেধা আছে গুণ আছে এটাকে বিকশিত করতে চাই, মেধাটাকে গুণটাকে আমি সেবায় রূপান্তরিত করতে চাই- এই চাওয়াটা যখন বিশ্বাসে রূপান্তরিত হবে। কী হলো? আপনি হার্টটা থ্রো করে দিলেন লক্ষ্যে। সারা পৃথিবী তখন আপনাকে হেল্প করবে এটার জন্যে।
এবং হেল্প কীভাবে আসবে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না। শুধু গোলটা সেট করতে হবে এবং গোলটাতে হার্টটা দিয়ে দিতে হবে হৃদয়টাকে দিয়ে দিতে হবে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রাখলে হবে না। হবে কি হবে না, না হবে নাকি হবে। কারণ আমরা যে ¯স্রষ্টায় বিশ্বাস করি তিনি সবকিছু পারেন, বলেন? আল্লাহ পারেন কি পারেন না?
বিশ্বাস প্রবল করুন
অতএব বিশ্বাসটাকে প্রবল করবেন। যে কোনো আসক্তি এখান থেকে আপনি বেরিয়ে আসতে পারেন শুধু দরকার যে না আমি বেরিয়ে আসব। এবং জীবনের এই যে লক্ষ্য অনন্য মানুষ হওয়া এর চেয়ে বড় লক্ষ্য তো আর কিছু হতে পারে না এবং সেটার জন্যে প্রয়োজন হচ্ছে? আপনার নিজের মেধাটাকে বিকশিত করা মেধাটাকে সেবায় রূপান্তরিত করা।
মেধাকে সেবায় রূপান্তরিত করুন
এবং আপনি যখন চাইবেন যে আপনার মেধাটা সেবায় রূপান্তরিত হোক কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না আপনি অটোমেটিকেলি একটার পর একটা পথ আপনার সামনে পরিষ্কার হতে থাকবে। একটার পর একটা দরজা খুলে যাবে। পথটাই এরকম।
আমরা কোয়ান্টাম যখন শুরু করেছিলাম ৩০ বছর আগে আমাদের বলে আমরা দশ জাতির একজাতি হবো মাথা খারাপ হয়ে গেছে পুরো। এখন তো অনেকগুলো ক্ষেত্রে দশের মধ্যে আছি।
কেন? আমরা বিশ্বাস করেছি এবং বিশ্বাসের মধ্যে কোনো ফাঁক ছিল না। কেন? আমাদের বিশ্বাসটা ছিল কল্যাণের জন্যে দেশের মঙ্গল মানুষের মঙ্গলের জন্যে। কারো কোনো ক্ষতি করার কোনো চিন্তা আমরা কখনো করি নাই। এমনকি শত্রুরও ক্ষতি করি নাই আমরা।
কেন? কারণ ঘৃণা দিয়ে হেট্রেড দিয়ে কখনো বড় কাজ করা যায় না। আপনার মনের মধ্যে যদি ঘৃণা থাকে হেট্রেড থাকে ঈর্ষা থাকে বিদ্বেষ থাকে আপনি কখনো বড় কাজ করতে পারবেন না।
অতএব সবসময় নিজের প্রতি ফোকাস দেবেন নিজের মেধার প্রতি ফোকাস দেবেন।
আরও কী করতে পারেন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন
এই মেধাটাকে আপনি কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন এই ফোকাসটা দেবেন। যে আপনি আর কী করতে পারেন? একটা জিনিস করলে আচ্ছা আপনি আর কী করতে পারেন নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন যে আমি আর কী করতে পারি। আপনি দেখবেন ভেতর থেকে চলে আসছে।
তো এই জিনিসটা হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট। যে আপনি কেন কাজটা করবেন? কেন আপনি অনন্য মানুষ হতে চান ভালো মানুষ হতে চান? যে আপনি আপনার মেধাটাকে সেবায় রূপান্তরিত করতে চান আপনি নিজের কল্যাণ চান চারপাশের মানুষের কল্যাণ চান। যখনি আপনি এই লক্ষ্য ঠিক করবেন দেখবেন আপনি অনেক ফিট হয়ে গেছেন।
কিন্তু ভেতরে যদি ঈর্ষা থাকে ভেতরে যদি ঘৃণা থাকে ভেতরে যদি ক্ষোভ থাকে ভেতরে যদি মানে পেলাম না পেলাম না ভাব থাকে আপনি এগোতে পারবেন না আপনি বড় কিছু করতে পারবেন না। অতএব সবসময় কী করবেন? ক্ষমা। যে না যেটা আমার কল্যাণ করবে না বা অন্যের কল্যাণ করবে না সেটা আমার মনে রাখার দরকারটা কী?
মেধা বিকশিত হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
অতএব এই যে মহৎ লক্ষ্য মনছবি যে নিজের মেধার বিকাশ নিজের কল্যাণ অন্যের কল্যাণ এবং মেধাটা বিকশিত হয়েছে কিনা এটা বোঝার মানদণ্ড কী? মানদণ্ড একটাই যে আপনি যে কাজটাই করতে যাচ্ছেন এটা সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারছেন কিনা। সেটা যদি আপনি সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারেন ব্যস আপনার মেধা বিকশিত হয়েছে। আপনার কল্যাণ হবে অন্যের কল্যাণ হবে।
আসলে আমরা যাদেরকে গ্রেট ম্যান বলি সেলিব্রেটি বলি তারা কিন্তু অসাধারণ কোনো কাজ করেন না তারা সাধারণ কাজটাই সবচেয়ে ভালোভাবে করেন। একজন অভিনেত্রী তিনি কি অসাধারণ কোনো কাজ করছেন? অসাধারণ না তিনি কাঁদছেন সবচেয়ে ভালোভাবে কাঁদছেন। তিনি যখন নাচছেন সবচেয়ে ভালোভাবে নাচছেন। তিনি যখন কথা বলছেন ঐ কথাটা যত ভালোভাবে বলা যায় মানে ঐ কথার যেভাবে বলা উচিৎ সেভাবে বলছেন। এবং মনে হচ্ছে ন্যাচারাল।
আসলে কিছু মুহূর্ত ঐ কথার সাথে মিশে না গেলে ন্যাচারাল থ্রোয়িংটা হয় না। ঐ কিছু মুহূর্ত তিনি কিন্তু ওটাই হয়ে যান। যে কারণে বিশেষ কোনো চরিত্রে যদি কেউ অভিনয় করেন ওটা থেকে বেরোতে তার সময় লাগে যদি ঐ চরিত্রের সাথে তিনি মিশে যান।
সে সময়টুকু যদি একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী ঐ চরিত্রের সাথে মিশে যেতে না পারেন তাহলে এটা আপনার মধ্যে কোনো অ্যাপিল সৃষ্টি করবে না। কারণ যেহেতু উনি অভিনয় করছেন উনি আসল না। আর অ্যাপিল সৃষ্টি করবে কী? যখন একটা জিনিস আপনার হৃদয় থেকে আসবে।
কাজের আউটপুট নিয়ে কখনো চিন্তা করবেন না
আপনি যখন একজনকে একটা কথা হৃদয় থেকে বলবেন, ভালবাসা থেকে বলবেন, মমতা থেকে বলবেন তখন এটার প্রভাব পড়বে। এবং এই কথাটাকে সে ভুলতে পারবে না এই কথাটা তার অন্তরে দাগ কাটবে।
এজন্যে হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট যে আপনি আসলেই আপনার মেধাটাকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে পারছেন কিনা এটার প্রমাণ- যে কাজ করেন সেটা সবচেয়ে ভালোভাবে করা। আপনি কিন্তু চেষ্টা করবেন, ইনপুট আউটপুট আপনার হাতে না। তবে আপনি যখন ইনপুটটা ঠিকমতো দেবেন আউটপুট খুব সুন্দরভাবে বের হবে।
আউটপুট নিয়ে চিন্তা করবেন না কখনো। আপনি চিন্তা করবেন যে আমি কাজটা সবচেয়ে সুন্দরভাবে করব। এটা সুন্দরভাবে করব আচ্ছা এটা এত খ্যাতি হবে এই হবে এই হবে সেই হবে নো। আমি আমার কাজটা সবচেয়ে সুন্দরভাবে করব। খ্যাতি সুনাম অর্থ এটা আসবে বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে।
আমি আমার রোগীকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখব। রোগী যেন আমাকে ভুলতে না পারে রোগী যেন মনে রাখে। আপনার ফিস থেকে শুরু করে সবকিছু অটোমেটিক আসবে। রোগীর জন্যে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না এই রোগী আরো রোগী নিয়ে আসবে।
কাজটা সাধারণ কিন্তু ফলাফলটা কখন অসাধারণ হয়?
অর্থাৎ একজন অসাধারণ সফল মানুষ অসাধারণ কোনো কাজ করেন না তিনি সাধারণ কাজটাই করেন সবচেয়ে সুন্দরভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে।
অতএব আপনি যখন একটা সাধারণ কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারবেন তখন বুঝবেন যে না আপনি আপনার মেধাটাকে রিয়ালি কাজে লাগাচ্ছেন আপনি ফোকাসড হয়েছেন। এবং এই ফোকাসড হওয়াটা খুব ইম্পর্টেন্ট। অর্থাৎ সে মুহূর্তে ঐ কাজের মধ্যেই আপনি ডুবে গিয়েছিলেন। ঐ কাজের বাইরে আপনার কোনো জগৎ ছিল না আপনার কোনো পৃথিবী ছিল না।
আসলে যখন যে কাজ করবেন আপনার কোনো আলাদা পৃথিবী থাকার দরকার নাই তখন ঐ কাজটাই আপনার পৃথিবী ঐ কাজটাই আপনার জগৎ ঐ কাজটাই আপনার সবকিছু। তাহলে আপনি অসাধারণ হয়ে যাবেন আপনার কাজটাই তখন অসাধারণ হয়ে যাবে। কাজটা সাধারণ কিন্তু ফলাফলটা অসাধারণ। এবং এই ফলাফল অসাধারণ তখন হবে যখন সাধারণ কাজটাকে আপনি সবচেয়ে ভালোভাবে করবেন।
[প্রজ্ঞা জালালি, ০৪ জানুয়ারি ২০২৩]
