যখন তরুণ ছিলাম আমার খুব প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার লেখা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত বা উদ্বুদ্ধ করেছিল। জীবনকে অনুসন্ধান করার জন্যে তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ফ্রেডরিখ নীটশে।
জার্মান দার্শনিক নীটশে জীবন সম্পর্কে যে সাহসিক কথা তিনি বলেছেন অসাধারণ।
আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন আমাদের সময় ইন্টারনেট ছিল না আমাদের সময় বই ছিল। তাও দুর্লভ সব বই। বই কেনার সামর্থ্যও আমাদের খুব ছিল না। একটা বই কিনলে সেটা আবার মানে ভাগে পড়া হতো। অনেক সময় কয়েকজনে মিলে একটা বই কেনা হতো। এখন সবকিছুই সহজলভ্য, যেহেতু সহজলভ্য এইজন্যে আমরা সেটার কদর করি না।
অনন্য মানুষ : যে নিজের এবং অন্যের কল্যাণ করে
নীটশের দাজ স্পোক জরথুস্ত্র। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় বইয়ের মধ্যে একটি জরথুস্ত্রের মুখ দিয়ে তিনি তার কথাগুলো বলেছেন। জরথুস্ত্র ছিলেন পারসিক ধর্মের প্রবক্তা এবং পারস্যের অধিবাসী।
তার বইয়ের একটি বাক্য যেটা খুব অনুপ্রাণিত করেছিল- সুপারম্যান। এই সুপারম্যান শব্দটার আমরা ব্যাখ্যা করেছি কোয়ান্টাম মেথড যখন আমরা করলাম তখন অনন্য মানুষ হিসেবে, যে অনন্য মানুষ।
সুপারম্যান কী? নীটশে দেখলেন যে মানুষের আসলে যে অনেক শক্তি রয়েছে কিন্তু তার সীমাবদ্ধতাগুলোকে সে অতিক্রম করতে ভয় পায়। নীটশে বলেন যে, না তোমার অস্তিত্বের যে সীমাবদ্ধতা এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে হবে তাহলেই তুমি মানুষ থেকে সুপারম্যান, অনন্য মানুষ, ইউনিক ম্যানে রূপান্তরিত হতে পারো। যে নিজের কল্যাণ এবং মানুষের কল্যাণ করতে পারে। কারণ একজন যখন তার শক্তিকে ব্যবহার করে, শক্তিকে উন্মোচন করে তখন সে নিজের কল্যাণ এবং অন্যের কল্যাণ করতে পারে।
তারুণ্যে আমাদের একটাই স্বপ্ন ছিল যে আসলে অসহায় মানুষের মঙ্গল এবং কল্যাণ কীভাবে করা যায়।
কার্ল মাকর্স তিনি যখন তরুণ ছিলেন, তিনি তার রচনায় লিখেছিলেন যে, একজন মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কী? তিনি বলেছিলেন যে, অন্যের মঙ্গল এবং অন্যের কল্যাণ করাটাই হচ্ছে একজন মানুষের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য।
এই যে অন্যের মঙ্গল এবং অন্যের কল্যাণ করতে পারা। এবং আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য ছিল। এখন ধনী দরিদ্রের এই বৈষম্য কমে নি, বেড়েছে অনেক।
এখন বৈষম্যটা যে কত দূর গিয়েছে, এই যে বৈষম্য, আসলে পৃথিবীতে সম্পদের কোনো অভাব নাই, অভাব হচ্ছে বণ্টন ব্যবস্থার, বণ্টন ব্যবস্থাপনার।
নীটশের এই সুপারম্যানের আইডিয়াটা তখন খুব ভালো লেগেছিল যে, মানুষ তার জৈবিক সীমাবদ্ধতাকে যদি অতিক্রম করতে পারে তাহলে সে সুপারম্যানে রূপান্তরিত হবে। এবং আমাদের ধারণা হয়েছে যে একজন মানুষ যদি সুপারম্যান হতে পারে তাহলে সে মানুষের দুঃখকে আনন্দে, অভাবকে প্রাচুর্যে, রোগকে সুস্থতায় রূপান্তরিত করতে পারবে।
[প্রজ্ঞা জালালি, ০৫ অক্টোবর ২০২৪]
