ইতিহাসের পাতায় ১৭ আগস্ট

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২২৯তম (অধিবর্ষে ২৩০তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৮৩৬ : ব্রিটেনে জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধীকরণ শুরু হয়।
১৯০১ : বেঙ্গল থিয়েটার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুনরায় এটি অরোরা থিয়েটার নামে চালু হয়।
১৯৪৫ : ইন্দোনেশিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৬০ : আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গ্যাবন স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৮২ : জার্মানিতে প্রথম কমপ্যাক্ট ডিস্ক উন্মোচিত হয়।

জন্ম
১৭৬১ : উইলিয়াম কেরি, ব্রিটিশ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক, বাংলায় গদ্য পাঠ্যপুস্তকের প্রবর্তক।
১৮০১ : ফ্রেডরিকা ব্রেমার, সুইডিশ লেখক ও নারীবাদী সংস্কারক।
১৯৩২ : বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল, ভারতীয়-নেপালি বংশোদ্ভূত ত্রিনিদাদীয় সাহিত্যিক।
১৯৩২ : মুর্তজা বশীর, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী।
১৯৪০ : শবনম, বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৭২ : হাবিবুল বাশার, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।

মৃত্যু
১৯৪৯ : ঢাকা অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা পুলিনবিহারী দাস।
১৯৬৯ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী অটো স্টের্ন।
১৯৮৪ : বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী আচার্য চিন্ময় লাহিড়ী।
২০০৪ : বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য নিমাইসাধন বসু।
২০০৬ : প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি শামসুর রাহমান।
২০২০ : ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত যশরাজ।

কবি শামসুর রাহমান
শামসুর রাহমান ছিলেন বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও সাংবাদিক। দীর্ঘ ছয় দশক অত্যন্ত সাবলীল ধারায় লেখালেখি করে বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখেন। লেখালেখিতে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান ও পুরস্কার।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলির ৪৬ নম্বর বাড়িতে। বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী। মায়ের নাম আমেনা খাতুন। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। শামসুর রাহমানের ডাক নাম বাচ্চু। তের জন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৪র্থ। বিয়ে করেন ১৯৫৫ সালে। স্ত্রীর নাম জোহরা বেগম। কবির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে।

পুরান ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং তিন বছর নিয়মিত ক্লাস করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর মূল পরীক্ষা দেননি। ১৯৫৩ সালে পাস কোর্সে বিএ পাস করে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এমএ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ পর্বের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।

পেশাজীবনে ১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজে সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। রেডিও পাকিস্তান, দৈনিক পাকিস্তান ও দৈনিক বাংলা, সাপ্তাহিক বিচিত্রায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তার প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোর গুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। দীর্ঘ (পঞ্চাশোর্ধ্ব) কবিজীবনে শামসুর রাহমান কবিতার বিষয় ও ভাষায় নিরন্তর পরীক্ষাপ্রবণ ছিলেন। ব্যক্তি জীবনের উত্থান-পতনের মধ্যে কবিতা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী- এ সত্যটি বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর আত্মজীবনী গ্রন্থে।

শামসুর রাহমান কবিতায় তাঁর মৌলিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন, বাংলা কবিতার আধুনিকতার ধারায় যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে তাঁর গভীর অনুভূতিজাত মূল্যবোধ, সকল সঙ্কীর্ণতামুক্ত উদার মানবিক মূল্যবোধ, তাঁর কবিতার চারিত্রের সঙ্গে সন্ধি করেছে। ছড়াকার হিসেবে শামসুর রহমান নিঃসন্দেহে প্রথম সারির একজন।

শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। ১৯৭২ সালে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা প্রাধান্য পেয়েছে। এ কাব্যের মাধ্যমে তিনি কবি খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন। এ বইয়ের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ সময়ে রচিত। এটি ১৯৭১ সালের শহিদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়। এ গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

শামসুর রাহমান আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, মিতসুবিসি পুরস্কার (সাংবাদিতার জন্য), স্বাধীনতা পদক, আনন্দ পুরস্কারসহ পেয়েছেন বহু সম্মাননা। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।

কবি শামসুর রাহমান ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শেষ ইচ্ছানুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *