ইতিহাসের পাতায় ২৭ আগস্ট

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৩৯তম (অধিবর্ষে ২৪০তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৮৭০ : শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম শ্রমজীবী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯২৮ : প্যারিসে ১৭টি দেশের যুদ্ধ পরিত্যাগ করার ঘোষণা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
১৯৩২ : আমস্টারডামে যুদ্ধবিরোধী শান্তি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

জন্ম
১৯০৮ : স্যার ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান, ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট তারকা।
১৯০৮ : লিন্ডন বি. জনসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬তম রাষ্ট্রপতি।
১৯১০ : মাদার তেরেসা, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী ও ধর্মপ্রচারক দা মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৩১ : শ্রী চিন্ময়, বাঙালি মহাত্মা ও হিন্দুধর্মের সংস্কারক, লেখক, শিল্পী, কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ।

মৃত্যু
১৯৭৬ : ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতশিল্পী মুকেশ চন্দ মাথুর।
১৯৮২ : ভারতের বাঙালি হিন্দু আধ্যাত্মিক সাধিকা শ্রী আনন্দময়ী মা।
১৯৯০ : বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক তপোবিজয় ঘোষ।
২০০৬ : হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি পরিচালক হৃষিকেশ মুখার্জী।

তপোবিজয় ঘোষ
তপোবিজয় ঘোষ ছিলেন বিংশ শতকের শেষার্ধের বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক। মানুষের ঘুমন্ত মন জাগ্রত করা ও জাগ্রত মনকে সক্রিয় করার কাজটা বেশ পটুতার সাথে করেছেন এই সাহিত্যিক। প্রত্যেক সাহিত্যিক যেমন সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হন এবং সমাজও তার দ্বারা প্রভাবিত হয়, তপোবিজয় ঘোষও এর ব্যতিক্রম নন।

জন্মগ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। বাবা ধনঞ্জয় ঘোষ। দেশবিভাগের পর সপরিবারে তারা ভারতে চলে যান। রামপুরহাটের বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, সিউড়ি কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ সম্পন্ন করেন। পরে সাহিত্যে গবেষণা করে ডক্টরেট হন। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।

বর্ধমানের কাটোয়া কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের শুরু। এরপর যোগ দেন নিজের সিউড়ি কলেজে, পরে শিবপুরের দীনবন্ধু কলেজে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শেষে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও অস্থায়ীভাবে অধাপনা করেছেন।

অধ্যাপনার সাথে সাহিত্যচর্চা চলতে থাকলেও ছোটগল্প দিয়ে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন পাঁচের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তাঁর সে সময়ের অজস্র লেখা গল্প ‘স্বাধীনতা’, ‘পরিচয়’, ‘নন্দন’, ‘চতুষ্কোন’ ‘সত্যযুগ’ মাসিক বাংলাদেশ’ প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দেশের তথা রাজ্যের সমসাময়িক পরিস্থিতির উপর ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কলম ধরেছেন। তাঁর লেখা ‘এখন প্রেম’, ‘সামনে লড়াই’ ইত্যাদি উপন্যাস নকশাল আন্দোলনের পটভূমিতেই রচিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতেও কলম ধরেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন তিনি।

‘রাতজাগার পালা’, ‘সামনে লড়াই’, ‘দহন দাহন’, ‘ইতিহাসের মানুষ’, ‘কালচেতনার গল্প’, ‘নীল আন্দোলন ও হরিশ্চন্দ্র’, ‘নীল আন্দোলন ও বাংলার বুদ্ধিজীবী’ ইত্যাদি তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

তপোবিজয় ঘোষ তাঁর ‘কালচেতনার গল্প’ বইটির জন্যে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্কিম পুরস্কার লাভ করেন। একই বছর ২৭ আগস্ট ৫৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *