গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৮০ তম (অধিবর্ষে ২৮১ তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।
ঘটনাবলি
১৯৫০ : কলকাতায় মাদার তেরেসার মিশনারিজ অফ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
জন্ম
১৭৭৫ : জয়গোপাল তর্কালঙ্কার, বাঙালি লেখক ও সংস্কৃত পণ্ডিত।
১৮৮৫ : নিলস বোর, ডেনীয় পদার্থবিদ ও পরমাণু গঠনের আধুনিক তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা।
১৯১২ : অশোক কুমার সরকার, খ্যাতনামা বাঙালি সাংবাদিক ও প্রাক্তন সম্পাদক, আনন্দবাজার পত্রিকা।
১৯১৪ : বেগম আখতার, স্বনামধন্য ভারতীয় হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গজল, দাদরা ও ঠুমরি গায়িকা।
১৯২৯ : চণ্ডীদাস মাল, বাংলা পুরাতনী, আগামী, টপ্পা গানের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৩৯ : হ্যারল্ড ওয়াল্টার ক্রোটো, নোবেলজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।
১৯৪৮ : হেলাল হাফিজ, বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি।
১৯৫২ : হাসান ফকরী, বাংলাদেশি কবি, গীতিকার, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
মৃত্যু
১৮৪৯ : মার্কিন কবি, ছোট গল্পকার, সম্পাদক ও সমালোচক এডগার অ্যালান পো।
১৯৭৮ : বাঙালি নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক এবং জীবনীকার আকবর উদ্দীন।
১৯৯৪ : নোবেলবিজয়ী ডেনিশ বংশোদ্ভূত ইংরেজ চিকিৎসক ও ইমিউনোলজিস্ট নিলস্ কাজ জেরনে।
হেলাল হাফিজ
হেলাল হাফিজ বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি। একাধারে তিনি কবি ও সাংবাদিক। স্বল্পপ্রজ হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কবিতা সংকলন ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর ৩৩টিরও বেশি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। যা বিশ্বসাহিত্যের এক বিরল কীর্তি। ২৬ বছর পর ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। তার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’র দুটি জনপ্রিয় পঙ্ক্তি-
‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়,
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’
জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনার বড়তলী গ্রামে। বাবা কবি খোরশেদ আলী তালুকদার এবং মা কোকিলা খাতুন। ১৯৬৫ সালে তিনি নেত্রকোনা দত্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতায় যোগদান করেন এবং ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন এবং সর্বশেষ দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ বৈশাখী মেলা উদ্যাপন কমিটির কবি সংবর্ধনা (১৯৮৫), যশোহর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭), নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজ, কবি খালেদদাদ চৌধুরী সাহিত্য পদক সম্মাননা, বাসাসপ কাব্যরত্ন- ২০১৯ ইত্যাদি ছাড়াও ২০১৩ সালে কবিতায় তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ, প্রেম, দ্রোহ, দেশপ্রেমসহ নানা অনুষঙ্গ তাঁর কবিতায় পেয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। তিনি বিভিন্ন উপমায় বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- ‘যে জলে আগুন জ্বলে, ‘কবিতা একাত্তর’ এবং ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’।
সূত্র: সংগৃহীত
