লাইফস্টাইল ডেস্ক:
দেশি সবজি নিয়ে অনেকেরই অনীহা। ব্রকলি, অ্যাসপারাগাসের মতো বিদেশি সবজির কদরই বেশি। অথচ চড়া দামে কেনা এসব সবজির চেয়েও বেশি পুষ্টি লুকিয়ে আছে আমাদের অবহেলিত দেশি সবজিতেই। তারই একটি হলো কচুর লতি।
ইউরোপ-আমেরিকায় ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত অ্যাসপারাগাস বিক্রি হয় ৮০০-১০০০ টাকা কেজি দরে। দেখতে অনেকটা একই রকম কচুর লতি গ্রাম-বাংলার মাঠেঘাটে অযত্নে জন্মায় আর দাম মাত্র ৮০-১০০ টাকা! অথচ পুষ্টিবিদরা বলছেন, অ্যাসপারাগাসে ক্যালরি কিছুটা বেশি হলেও ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি — সবই বেশি কচুর লতিতে।
শুধু সস্তা বলেই নয়, কচুর লতি খাবেন যে ৬টি কারণে:
১. হজমশক্তির ম্যাজিক কচুর লতি ডায়েটারি ফাইবারে ভরপুর। এটি গাট হেলথ ভালো রাখে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
২. রক্তাল্পতা দূর করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন? কচুর লতিতে রয়েছে অ্যাসপারাগাস ও ব্রকলির চেয়েও অনেক বেশি আয়রন। এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. হাড় মজবুত করে কচুর লতি যেন ক্যালসিয়ামের জীবন্ত খনি! নিয়মিত খেলে হাড় ও দাঁত মজবুত থাকে।
৪. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। এটি শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায় এবং ত্বকের সতেজতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।
৬. ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এতে ক্যালরি খুবই কম। আবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
গলা চুলকায়?
সমাধান আছে অনেকেই বলেন, কচুর লতি খেলে গলা চুলকায়। এর জন্য দায়ী এতে থাকা ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’। সমাধান খুব সহজ — রান্নার সময় সামান্য লেবুর রস, আমড়া বা তেঁতুল যোগ করুন। এতেই চুলকানি দূর হবে।
সহজলভ্য, সস্তা এবং পুষ্টিতে ভরপুর কচুর লতি — তাই বাজারের ব্যাগে আজই একটু জায়গা রাখুন। বাঁচবে খরচ, বাড়বে সুস্থতা।
