২০০৮ মেঠো পথে গরুর গাড়ি, কাঁধে গামছা টানা,
খড়ের বোঝা বয়ে নিয়ে যায়সুজন নামের সোনা।
লুঙ্গি পরে, খালি পায়ে, ঘামে ভেজা গা,
স্বপ্ন দেখে — একদিন আমি গড়বো খামার-বসতি এ ঘা।
কে জানত সেই তরুণেরই বুকের ভিতর আগুন,
ইতালির পথ পেরিয়ে একদিন জ্বালবে সেথা আগুন!
বিদেশের মাটি চেনে না তো দেশের মায়ার টান,
সুজন শেখের হৃদয়ে ছিল — গ্রামই তার প্রাণ।
প্রবাসের রাত ইতালির নীল আকাশে চাঁদ উঠে আলো ঢালে,
সুজন ভাবে — মায়ের মুখ, চান্দড়া পাড়ার চালে।
কত রাত যে জেগে থেকেছে, কত স্বপ্ন এঁকেছে,
“ফিরে যাবো দেশে আমার, খামার গড়বো” — এ কথা রেখেছে।
২০ বছরের অভিজ্ঞতা বুকে ধারণ করে,
গাভী পালনের জ্ঞান নিয়ে এলো আপন ঘরে।
চান্দড়া দক্ষিণ পাড়ায় আজ সাইনবোর্ড উঁচু হয়ে,
লেখা আছে — “খাঁটি দুধ খান, সুস্থ থাকুন সবে”।
২০২৬ গরুর গাড়ির চাকা আজ হয়েছে সফলতার চাকা,
ইতালি ডেইরি ফার্ম আজ আলফাডাঙ্গার একেকা!
সারি সারি গাভী, পরিষ্কার টিনশেডের ঘর,
আধুনিক পদ্ধতিতে দুধ আসে ঝরঝর।
অনুষ্ঠানে দুধ সরবরাহ, হোম ডেলিভারি আনে,
খাঁটি দুধের মালাই চমচম — মুখে জল আনে!
বিশাল গামলায় চমচম ভাসে, এলাকায় সাড়া,
সুজন শেখের সাফল্যগাথা ছড়িয়ে যায় পাড়া-পাড়া।
অনুপ্রেরণা
যুবকেরা আজ বলে — “দেখো সুজন ভাইকে,
বিদেশ থেকে ফিরে এসে গড়লো খামার টিকিয়ে।”
বেকারত্বের অন্ধকারে জ্বলে আশার বাতি,
সুজন শেখের পথ ধরে হাঁটুক সারাদেশের ভাই-বোন জাতি।
স্বপ্ন যদি থাকে বুকে, পরিশ্রম যদি থাকে,
গরুর গাড়িও একদিন সোনার গাড়ি হবে ডাকে।
আলফাডাঙ্গার মাটি আজ গর্বিত হয়ে বলে —
“ইতালি ডেইরি ফার্ম আমাদের, সফলতার ছোঁয়ায় দোলে।”
শুভকামনা শুভ কামনা রইলো এই খামারের প্রতি,
সুজন শেখের স্বপ্ন হোক আরো উচ্চগতি।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে ছড়িয়ে পড়ুক আলো,
কৃষকের সন্তান আজ উদ্যোক্তার জয়গান গাহে ভালো।
২০০৮ সালের একটি ছবি। কাঁধে গামছা, পরনে লুঙ্গি, দুটি গরুর গাড়িতে খড় নিয়ে যাচ্ছেন এক তরুণ। সময় ২০২৬। সেই তরুণই এখন আধুনিক ডেইরি ফার্মের মালিক। তার নাম মোঃ সুজন শেখ। ইতালি থেকে ফিরে এসে নিজ গ্রাম ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চান্দড়া দক্ষিণ পাড়ায় গড়ে তুলেছেন “ইতালি ডেইরি ফার্ম”।