সুন্দরবন বাঁচাতে পাটের ‘বায়ো-শিল্ড’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কার জিতলো বিএমইউর ‘গোল্ডেনরুটস’, গর্বিত সদস্য আলফাডাঙ্গার রাজিন।
আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি | RMG BD NEWS http://24.COM
বিশ্বের ৯১টি দেশের ৪৮৭টি উদ্ভাবনী প্রকল্পকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) প্রকল্প ‘গোল্ডেনরুটস’। এই প্রকল্পের অন্যতম সদস্য ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কৃতি সন্তান ফাহিম শাহরিয়ার রাজিন। তার এই সাফল্যে আলফাডাঙ্গা তথা পুরো ফরিদপুর জেলায় আনন্দের বন্যা বইছে।
গত ১১ অক্টোবর ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরের বিখ্যাত গবেষণা কেন্দ্র AltaSea at the Port of Los Angeles-এ এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ অক্টোবর ওশানলাভের অফিসিয়াল লিংকডইন থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
কী এই ‘গোল্ডেনরুটস’ প্রকল্প? প্রকল্পের পূর্ণ নাম — ‘GoldenRoots: Jute-Weave Bio-Shields for Sundarbans Restoration’।
মূল ধারণা খুবই সহজ কিন্তু যুগান্তকারী — পাটের বোনা, সম্পূর্ণ জীবাণুবিয়োজ্য (Biodegradable) বায়ো-শিল্ড তৈরি করা, যা সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভের চারা রোপণের সময় পলি ধরে রাখবে এবং চারাকে স্রোত ও ঢেউ থেকে রক্ষা করবে। প্লাস্টিকের নেটের বদলে পাট ব্যবহার করায় সুন্দরবনের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং পাট পচে গিয়ে মাটিতে সার হিসেবে মিশে যাবে।
কারা এই বিজয়ী দল? দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএমইউর ওশানোগ্রাফি এন্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক মো. আশিফ ইমাম খান। তার তত্ত্বাবধানে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের গর্ব:
– ফাহিম শাহরিয়ার রাজিন (আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর) – উত্তর ফুলবাড়িয়া শেখ শহাদত হোসেনের ছেলে ।
– সৈয়দা মেহেজাবিন সারা
– মো. মাহবুবুর রহমান
– এম এম মোহতাসিম
– মো. ফেরদৌস রানা
কিভাবে বিজয়ী হলো? ওশানলাভ জানিয়েছে, এবার ৩য় আসরে ৯১টি দেশ থেকে ৪৮৭টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে সেরা ৩০টি প্রকল্পকে ‘টপ ৩০ বুটক্যাম্প’-এ নেওয়া হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কোচিং ও বিচার শেষে চূড়ান্ত বিজয়ী বাছাই করা হয়। গোল্ডেনরুটস ‘দ্য লিভিং সি’ (The Living Sea) বিভাগে বিজয়ী হয় — যে বিভাগে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের উদ্ভাবনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি AltaSea-তে অনুষ্ঠিত হয় ১১ অক্টোবর ২০২৬।
পুরস্কার কী পেলো?
১. ১০,০০০ মার্কিন ডলার প্রাথমিক তহবিল (Seed Funding)
২. এক বছরের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
৩. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ
আমাদের গর্ব রাজিন: আলফাডাঙ্গার ছেলে রাজিন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্য প্রমাণ করে, বাংলাদেশের তরুণরা চাইলে পাটের মতো দেশীয় সম্পদ দিয়ে বিশ্বের পরিবেশ সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
এই জয় শুধু বিএমইউর নয়, এটি সুন্দরবন, পাট শিল্প এবং বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
