১. মক্কায় কী ঘটেছে?
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) জানিয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। অভিযোগ, তারা মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক ও অশালীন কাজে’ লিপ্ত ছিলেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আদালতে পাঠায়। শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ (বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি) বিধানে অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের কারণ বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালত রায় বহাল রাখে এবং রাজকীয় ডিক্রিতে দণ্ড কার্যকর হয়।
২. কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। গণমাধ্যমে খবর আসার পর তারা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আটকের পর খুব দ্রুত দণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা নয়।
৩. অন্য পাশের চিত্র – নারী শ্রমিকদের নির্যাতন এই ঘটনার পরেই প্রশ্ন উঠেছে দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে। সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আপনার উল্লেখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী: – ২০১৮-১৯ সালে সৌদি থেকে ফেরত আসা ২,৩১৫ জন নারীর বেশিরভাগই নির্যাতনের অভিযোগ করেন। – ২০১৯ সালের আগস্টে ফেরত ১১০ জনের ৩৫% শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার। – ২০১৬-২০২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৪৭৩ জন নারীর মরদেহ দেশে আসে, যার মধ্যে ১৭৫টি সৌদি থেকে। – আল জাজিরার ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫-১৮ সালে সৌদিতে অন্তত ৬৬ জন বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু, যার মধ্যে ৫২টি আত্মহত্যা হিসাবে দেখানো হয়েছে। আপনি আমেনা বেগম ও সালমা বেগমের যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন, তা বিবিসি বাংলার অনুসন্ধানেও এসেছে। একইভাবে নিউইয়র্ক টাইমস কেনিয়ার ২৭৪ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কথা বলেছে।
৪. আইনি বাস্তবতা সৌদি আইনে ‘তাআজির’ অর্থে বিচারক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারেন, বিশেষত মসজিদুল হারামের মতো পবিত্র স্থানে। অন্যদিকে সৌদিতে ‘ব্লাড মানি’ বা কিসাসের বিধান থাকলেও বিদেশি গৃহকর্মীরা প্রায়ই নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন না ভাষাগত বাধা, কফিল সিস্টেম এবং আইনি সহায়তার অভাবে।
উপসংহার: একটি ঘটনায় পবিত্রতা রক্ষায় সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হলো, অন্য শত শত ঘটনায় নির্যাতনের বিচারই হয়নি
– এই বৈপরীত্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য প্রয়োজন:
১. দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টা লিগ্যাল এইড সেল
২. সৌদির সাথে শ্রম চুক্তিতে বিচারিক স্বচ্ছতা ও দূতাবাসকে আগাম জানানোর বাধ্যবাধকতা
৩. দেশে ফেরত নারীদের অভিযোগের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ ও ফলোআপ
তথ্যসূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি, গালফ নিউজ, বিবিসি বাংলা, আল জাজিরা।
