হিজাব পরা একজন মুসলিম বোনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করল, বোরকা পরা একজন মাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো, শুধু পোশাকের কারণে চাকরি হারাল এক মুসলিম বোন, —এগুলোই আজকের যুগের বাস্তবতা। আমরা এই সংবাদগুলো পড়ে অত্যন্ত মর্মাহত হই, শেয়ার করি, কান্না জমে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? আমরা জানি, সব মহান আল্লাহ জগতের প্রতিটি বিন্দুকে বিজ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সব কিছুর মূলে বিজ্ঞান রয়েছে, সেটা হোক বস্তু, অবস্তু, আবেগ, অনুভব, আচরণ কিংবা মোটিভেশন – সব কিছুই বিজ্ঞান দিয়ে গড়েছেন মহান আল্লাহ্ – এর মানে – everything belongs to the rule of cause and effect.
আজ যারা ইসলামের শত্রু, তারা এমন সব বিজ্ঞান চর্চা করছে যা সত্যিই কল্পনাতীত। আপনি যদি একটি জাতিকে ১০ বছরের মধ্যে ধ্বংস করতে চান – তবে ১০ বছর সেই জাতির প্রত্যকে নাগরিককে অনেক অনেক টাকা দান করতে থাকুন। অতিরিক্ত পানি যেমন গাছকে মেরে ফেলে তেমনি ‘ইজি মানি’ তাদেরকে সহজেই ধ্বংস করবে। আপনি যদি একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চান তবে তাদের শিশুদের হাতে খেলনা হিসেবে মোবাইল ফোন আর অস্ত্র তুলে দিন; বড় হয়ে তারা কেবল এই দুটির প্রতিই এডিক্টেড থাকবে।
তো, সেই তারা জানে – জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি লাভ করতে হলে মানুষের জৈব আচরণকে ব্যবহার করতে হবে। আর যদি সারা বিশ্বব্যাপী মেয়েরা তাদের নিজেদের সম্মান একবার বুঝে যায়, তবে তারা অবশ্যই নিজেদের পোশাকে আবরণ দিয়ে চলাফেরা করবে। একজনের বোরকা দেখে আরেকজন অনুপ্রাণিত হবে; তখন তারা আর সৌন্দর্য দেখানোর প্রতিযোগিতায় নামবে না। আর এমন হলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি তো শেষ হয়ে যাবে! ভাবতে পারেন কত বিলিয়ন ডলারের সেই ইন্ডাস্ট্রি?
বিশ্বব্যাপী পোশাক আর সাজগোজের বাজার মাত্র ১৪৫০ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট। কিন্তু আসলে এই তথ্যটি ভুল, একটু চিন্তা করে দেখুন, মেয়েদের সৌন্দর্য দেখানোর সাথে যুক্ত শুধু পোশাক আর কস্মেটিক্স নয় বরং যুক্ত জগতের প্রায় সকল ব্যবসা। সেটা আপাত হালাল ব্যবসা কিংবা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ব্যবসা, প্রায় সব কিছুর সাথেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ব্যবসা যুক্ত হয়ে আছে ।
তাই, মেয়েদের সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা থেমে গেলে পুরুষদেরও নৈতিকতাহীন জীবনে আটকে রাখার কৌশল কাজ করবে না। এমন হলে ব্যবসা মারা যাবে, ক্ষমতা আর ধরে রাখা যাবে না; বিশ্ব শাসনের স্বপ্ন ধ্বংস হবে।
এবার চলুন দেখি মুসলিম জীবনের প্যারাডক্স –
আমরা প্রতিদিন পড়ছি—”আলহামদুলিল্লাহি রব্বুল আলামিন”—সকল ধরনের প্রশংসা, মর্যাদা, সম্মান, মহিমা কেবল আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এর মানে এখানে সম্মান আর মর্যাদা জগতের কোন মানুষের জন্য নয়, তাই সুমা আর মর্যাদা অর্জনের পেছনে সময় ও শ্রম ব্যয় করা সত্যিই অর্থহীন। ইসলাম আমাদের এই শিক্ষা টি দিয়েছে এবং আমরা প্রতিদিন বহুবার নিজেকে এই সত্যটি মনে করিয়ে দিচ্ছি।
কিন্তু আজকের মুসলিমগণের প্রতিদিনের প্রতি মুহূর্তের আচরণ কী প্রমাণ করে? আমরা সব সময় বিলাস, প্রাচুর্য, ক্ষমতা, সুন্দর বাড়ি, দামি পোশাক, ব্রান্ডের সেলফোনের মধ্যে ডুবে আছি। আমরা এগুলির পেছনেই দিনরাত ছুটছি কারণ আমরা বিশ্বাস করি ক্ষমতা, ব্রান্ড, পোশাক, সম্পদই আমার মর্যাদা। আমরা মর্যাদা আর সম্মান পাওয়ার জন্য কী না করছি! কেউ রাজা হতে চাইছি, কেউ মন্ত্রী হতে চাইছি, কেউ মসজিদ কমিটির সভাপতি হতে চাইছি।
এর পেছনেও সেই একই ব্যাপার – আচরণ বিজ্ঞানের কৌশলে ওরাই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। সব একই সুতায় বাঁধা।
