ইতিহাসের পাতায় ১৫ ডিসেম্বর

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩৪৯তম (অধিবর্ষে ৩৫০তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৯০৬ : লন্ডনের পাতাল রেলপথ চালু।
১৯২৯ : কলকাতায় কবি নজরুলকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়।
১৯৭০ : সোভিয়েত মহাকাশযান ভিনিরা-৭ সফলভাবে ভেনাসে ল্যান্ড করে।

জন্ম
১৮৫২ : অঁরি বেকেরেল, নোবেলজয়ী ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী।
১৯০৬ : বন্দে আলী মিয়া, বাঙালি কবি।
১৯১৬ : মরিস উইলকিন্স, নোবেলবিজয়ী ইংরেজ জীবপদার্থবিজ্ঞানী।
১৯৩৩ : এমাজউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
১৯৩৫ : একেএম আবদুর রউফ, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের হস্তলেখক।

মৃত্যু
১৯৪০ : বাংলাভাষার লেখক এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী।
১৯৫০ : উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও জাতীয়তাবাদী নেতা বল্লভভাই প্যাটেল।
১৯৬৬ : মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক, নির্দেশক, কাহিনীকার, নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী ও অ্যানিমেটর ওয়াল্টার এলিয়াস ডিজনি।
২০২০ : বাঙালি অধ্যাপক, লেখক, সঙ্গীত-গবেষক এবং লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ সুধীর চক্রবর্তী।

বন্দে আলী মিয়া
বন্দে আলী মিয়া ছিলেন বাংলাদেশি সাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক ও চিত্রকর। বাংলা সাহিত্যে বিরল প্রতিভা ও সব পল্লীকবির মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি তাঁর কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় প্রদান করেছেন। প্রকৃতির রূপ বর্ণনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ আজও অমর হয়ে আছে। বন্দে আলী মিয়ার মূল্যবান সাহিত্য নির্মাণ বাংলা সাহিত্যভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে। বাবা মুনশি উমেদ আলী মিয়া ও মা নেকজান নেসা ছিলেন শিক্ষানুরাগী। সাহিত্যকীর্তি সফলতার পেছেন তিনি মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন। মায়ের মুখের অফুরন্ত গল্প ও রূপকথা শুনে শুনেই তিনি বড় হন।

পাবনার রাধানগর মজুমদার একাডেমি থেকে ১৯২৩ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরে কলকাতা আর্ট একাডেমি থেকে তিনি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৫ সালে ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন। স্কুলে শিক্ষকতা করেন কয়েক বছর। কলকাতায় থাকাকালীন তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্য লাভ করেন।

দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন। বিভিন্ন গ্রামোফোন কোম্পানিতেও তিনি কাজ করেন। তাঁর রচিত পালাগান ও নাটিকা রেকর্ড আকারে কলকাতার বাজারে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বেতারে ছোটদের জন্যে ‘সবুজ মেলা’ নামে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। এছাড়াও ‘ছেলে ঘুমাল’ নামে একটি শিশুতোষ অনুষ্ঠানে নিয়মিত গল্প লিখতেন।

বন্দে আলী মিয়ার রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ময়নামতির চর, অনুরাগ, পদ্মানদীর চর, মধুমতীর চর, ধরিত্রী, তাসের ঘর, বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, অরণ্য গোধূলি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শিশু সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে চোর জামাই, মেঘকুমারী, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, বোকা জামাই, রূপকথা, শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, সাত রাজ্যের গল্প ইত্যাদি।

সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্যে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, রাজশাহীর উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। এছাড়াও পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার এবং বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

বন্দে আলী মিয়া ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *