চাকরির অনিশ্চয়তা ও বকেয়া বেতন: অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানায় বিক্ষোভ বরিশাল,

কারখানা বিক্রির গুজব নয়, বরং মালিকপক্ষের মৌখিক নিশ্চিতকরণের পরেই চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট এন্ড ফাইবার্স লিমিটেডের শ্রমিকরা। চাকরির নিরাপত্তা ও দুমাসের বকেয়া বেতন-ওভারটাইমসহ সব পাওনা পরিশোধের দাবিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশালের দপদপিয়া উপজেলার রূপাতলী এলাকায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিক সিমেন্ট এন্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজি নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি সেলিম সর্দার। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সদস্য শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটন ও হান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাওলাদার প্রমুখ।

বক্তারা জানান, বিভিন্ন পত্রিকায় কারখানা বিক্রির খবর প্রকাশিত হলে ইউনিয়ন নেতারা মালিকপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চান। মালিক মৌখিকভাবে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কারখানা হস্তান্তরে বর্তমান শ্রমিকদের চাকরি বহাল থাকবে কি না, কিংবা দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা কিভাবে ও কবে পরিশোধ করা হবে—তা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেননি।

এতে শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা ও প্রাপ্য পাওনা না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রম দিয়ে কারখানা সচল রাখা শ্রমিকরা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সমাবেশ থেকে নিম্নলিখিত দাবি জানানো হয়: · কারখানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সব শ্রমিকের চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান; · দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ; · শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় মালিকপক্ষের সুস্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা। শ্রমিকরা স্লোগান দেন—

“চাকরি রক্ষা করতে হবে”

“সকল বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে”

“শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে কারখানা হস্তান্তর করা চলবে না” বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “দুনিয়ার মজদুর এক হও। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলবেই।” ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।