শিখেছি কীভাবে মানুষের সাথে মিশতে হয়
ক্য সাইন উ মার্মা
অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি এন্ড লিডারশিপ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার কোনো লক্ষ্য ছিল না। ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন স্যার সবাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তুমি কী হতে চাও? উত্তর আমি ভাবতেও পারছিলাম না। কিছুক্ষণ ভাবার পর আমিও অন্যদের মতো বলে উঠলাম আমি ব্যাংকার হবো।
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় আরেকজন স্যার একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন বলেছিলাম শিক্ষক হয়ে দুর্গম অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো ছড়াব।
যখন আমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলো, তখন আমিও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মতোই ভুগেছিলাম। কারণ আমার মা-বাবার পক্ষে আমার লেখাপড়া করিয়ে এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার সামর্থ্য ছিল না।
২০১৯ সালে আমি কোয়ান্টাম কসমো কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হই। তখন আমাদের একাডেমিক ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সাত দিনের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হয়েছিল। সেখানে আমি কোয়ান্টাম কসমো স্কুল সম্পর্কের্ বিস্তারিত জানতে পারি।
সাত দিনের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস করে যখন আমরা একাডেমিক পড়াশোনা করার জন্যে ক্যাম্পাসে যাই, তখন ওখানকার স্যার ও দায়িত্বশীলদের স্নেহ-ভালবাসা এবং অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি। এই ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম রুটিনমাফিক পরিচালিত হয়—এটা শুরু থেকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
ক্লাসে যখন আমরা স্যারদের সান্নিধ্যে যাই, তখন বুঝতে পারি স্যারেরা বেশ দক্ষতার সাথে আমাদের পড়াচ্ছেন। সেই স্যারদের অবদানে আমি আজ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছি।
আমি আমার শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের গুরুজী দাদুর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাদেরকে স্নেহ, মমতা, ভালবাসা দিয়ে আগলে রেখেছেন।
কোয়ান্টাম আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে মানুষের সাথে মিশতে হয়, কীভাবে মানুষ হয়ে বাঁচতে হয়। মানুষের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয়। কারণ আমি মনে করি একজন মানুষ তখনই বড় হতে পারে যখন সে শুধু নিজের চিন্তা না করে আশেপাশের সবার সাথে মিলেমিশে থাকে। আর সমাজের বঞ্চিতদের জন্যে কাজ করে। আমিও আগামীতে এই বড় কাজটি করতে চাই।
[ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘সব সম্ভব’ বই থেকে ]
