দুর্ঘটনা “চোখের চারদিকে ফুটবল মাঠ, হাতে ফোন, মনে গেমস—কীভাবে বিভ্রান্তি কাড়ছে তরুণ প্রাণ?

২০২৩ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান (NHTSA) · প্রাণহানি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভ্রান্তি-জনিত দুর্ঘটনায় ৩,২৭৫ জন মারা গেছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৮% । আহত: প্রায় ৩.২৫ লাখ মানুষ আহত হয়েছেন । · দৈনিক গড়: প্রতিদিন গড়ে ৯ জন মারা যান এবং ৮৯০ জন আহত হন ।

কিশোর-কিশোরীরা: ২০২৩ সালের হিসাবে, ১৫-২০ বছর বয়সী ড্রাইভাররা মোট ড্রাইভারের ৯% হলেও, তারা মোট বিভ্রান্ত ড্রাইভারের ১১% এবং সেলফোনে বিভ্রান্ত ড্রাইভারের ১৫% । · চমকপ্রদ তথ্য: একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৫% তরুণ ড্রাইভার গত ৩০ দিনে গাড়ি চালানোর সময় তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করেছেন। অর্ধেকের বেশি (৫০%) সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন টেক্সট করেন, এবং ২৮% তো প্রতিদিনই গাড়ি চালানোর সময় টেক্সট করেন । · আত্মবিশ্বাসের ফাঁক: প্রায় ৬৮% ড্রাইভার গাড়ি চালানোর সময় মাল্টিটাস্ক করতে আত্মবিশ্বাসী। অথচ সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত ড্রাইভারদের মধ্যে ৬৯% মনে করেন তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সতর্ক ! এটি একটি বিপজ্জনক ভ্রম ধারণা।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৩১টি অঙ্গরাজ্যে গাড়ি চালানোর সময় হ্যান্ডস-ফ্রি ডিভাইস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । · সফলতা: আইন কার্যকর হওয়ার পর মিশিগানে বিভ্রান্তি-জনিত দুর্ঘটনা ১৮.৭% এবং ও হাইওতে ১৫,৪০০টি কম দুর্ঘটনা ঘটেছে । পাশাপাশি, বিভ্রান্তি কেবল টেক্সটিং নয়, জিপিএস দেখা, গান বদলানো, খাওয়া-দাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত ।

ফেসবুক ও গেমসের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে

২০২৪ সালের সামগ্রিক পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA)-এর তথ্য অনুযায়ী:

প্রাণহানি: বিভ্রান্তি-জনিত দুর্ঘটনায় মোট ৩,২০৮ জন মারা গেছেন। · আহত: প্রায় ৩,১৫,১৬৭ জন মানুষ আহত হয়েছেন। · পথচারী প্রাণহানি: এদের মধ্যে ৬৩৯ জন ছিলেন পথচারী বা সাইকেলচালী। · সেলফোন-জনিত মৃত্যু: যেসব দুর্ঘটনায় সেলফোন ব্যবহারকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে মোট ৪৩৭ জন মারা গেছেন।

কিশোর-তরুণদের নিয়ে ভয়াবহ চিত্র আপনার প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্যবস্তু এই বয়সীদের জন্য আলাদা কিছু তথ্য রয়েছে, যা ফেসবুক ও গেমসের মতো বিষয়ের দিকেও ইঙ্গিত দেয়:

ঝুঁকির হার: ১৫-২০ বছর বয়সী ড্রাইভাররা মোট ড্রাইভারের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত হয়ে গাড়ি চালান। · ফোন ব্যবহারের হার: সম্প্রতি ‘JAMA Network Open’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর ড্রাইভারদের মোট ভ্রমণের ৩৪.১%-এ তারা হাতে ফোন ধরে ব্যবহার করেছেন। · সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার: একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে গত মাসে ৫.৯% গাড়ি চালানোর সময় ৬ দিনের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেছেন। এখানে উল্লেখ্য, সামগ্রিকভাবে ফেসবুক বা গেমস ব্যবহারের উপর সরাসরি কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবে “সোশ্যাল মিডিয়া” ও “হাতে ফোন ধরে ব্যবহার”-এর এই পরিসংখ্যানটি আপনার প্রতিবেদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে, কেবল টেক্সট নয়, স্ক্রল করা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখা—এসবই দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।

বিভ্রান্তি: মাত্র তিন প্রকার একজন চালক কীভাবে বিভ্রান্ত হন, তা বুঝতে গেলে এই তিনটি বিষয় জানা জরুরি। স্মার্টফোন ব্যবহার করলে সাধারণত তিনটেই একসাথে ঘটে, যা একে এত মারাত্মক করে তোলে: 1. ভিজ্যুয়াল (চোখের) বিভ্রান্তি: রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে ফেলা। যেমন- ফোনের স্ক্রিনে তাকানো, জিপিএস দেখা।

ম্যানুয়াল (হাতের) বিভ্রান্তি:

স্টিয়ারিং হুইল থেকে হাত সরিয়ে ফেলা। যেমন- ফোন ধরা, খাওয়া-দাওয়া করা। কগনিটিভ (মস্তিষ্কের) বিভ্রান্তি: মনোযোগ রাস্তা থেকে সরে যাওয়া। যেমন- ফোনে কথা বলা, আবেগপ্রবণ মেসেজ পড়া। উদাহরণ: ৫৫ মাইল/ঘণ্টা গতিতে মাত্র ৫ সেকেন্ড চোখ রাস্তা থেকে সরালে তা একটি ফুটবল মাঠের সমান দূরত্ব চোখ বন্ধ করে গাড়ি চালানোর সমান। গেম খেলা বা ফেসবুক স্ক্রল করলে তো সময় আরও বেশি লাগেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের উদাহরণ দিন, যেখানে ২০২৭ সাল থেকে ড্রাইভিং-এর সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা ভিডিও রেকর্ড করলে জরিমানা ও এমনকি লাইসেন্স বাতিলের বিধান আনা হচ্ছে। দেখান কীভাবে আইন কঠোর হচ্ছে।