[কবির আহমেদ]
আমরা আধুনিকতার ভিড়ে সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোকে ভুলে যাচ্ছি। পাশের ফ্ল্যাটে কে থাকে নামটাও জানি না। অথচ রাসূল (সা.) বলেছেন, “সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।”
১. নাম জানুন, সালাম দিন পাশের ফ্ল্যাট বা পাশের ঘরের মানুষটির নাম জানুন। শুধু “আঙ্কেল” বা “ভাবি” নয় – পুরো নামটা। এ সপ্তাহেই অন্তত দুজন প্রতিবেশীর নাম জেনে নিন। ছুটির দিনে অলস সময় না কাটিয়ে তাদের বাসায় কড়া নাড়ুন। আর সবাইকে ছোট-বড় নির্বিশেষে সিঁড়িতে, লিফটে, গলিতে যার সাথেই দেখা হোক – আগে সালাম দিন। নবীজীর (সা.) জীবনে উচ্চারিত সবচেয়ে বেশি বার যে শব্দ তা হলো – সালাম। সালাম দূরত্ব দূর করে। নৈকট্য আনে।
২. মেডিটেশন করুন আসলে মানুষের প্রতি সমমর্মিতা জন্ম নেয় একটি প্রশান্ত মন থেকে। যার মন অস্থির, তিনি অন্যের কষ্ট দেখার অবকাশই পান না। এজন্যে নিয়মিত মেডিটেশন করুন। প্রতিবেশীকেও মেডিটেশনে উৎসাহিত করুন। যত নিয়মিত মেডিটেশন করবেন তত মমতার শক্তি জাগ্রত হবে। অন্যের পাশে দাঁড়ানোর যে অপার্থিব আনন্দ তা খুঁজে পাবেন।
৩. ছোট প্রয়োজনে এগিয়ে আসুন কেউ বাজারে যেতে পারছেন না – তাকে বাজার করতে সাহায্য করুন। একই পথে যাচ্ছেন, গাড়িতে লিফট দিন। এই ছোট প্রয়োজনগুলোতেই এগিয়ে আসুন। প্রতিবেশী কোনো উৎসবে যদি দাওয়াত করে সেখানে অংশ নিন। আবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে বা ঘরে অসুস্থ থাকলে অন্তত একবার দেখে আসুন। আপনার উপস্থিতিটাই তাকে অনেক স্বস্তি দেবে। আপনি যেন কখনো প্রতিবেশীর কষ্টের কারণ না হন এ বিষয়ে সচেতন থাকুন। কোয়ান্টামের শুদ্ধাচার বইটি পড়ুন।
৪. প্রতিবেশীকে ভালো কাজে নিয়ে আসুন সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে যে শুধু আমরাই একাকী হয়ে পড়ছি তা নয়, প্রতিবেশীও এতে আক্রান্ত। এই জড়তা ভাঙতে তাকে ভালো কাজের দাওয়াত দিন, নিয়ে আসুন। কোয়ান্টামে আমরা ২০১২ সাল থেকে বলে এসেছি চারপাশের ৪০ ঘরের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করুন। এখন যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ – ভূমিকম্প, হাম, ডেঙ্গু – এগুলো থেকে রক্ষায় প্রতিবেশীর বাসায় দোয়ার আয়োজন করুন। সবাই সবার জন্যে প্রার্থনা করুন।
উপসংহার আসলে যখন প্রতিবেশীর দরজায় কড়া নাড়ছি, আমি শুধু তাকে সাহায্য করছি না। বিজ্ঞান বলছে, নিজের আয়ু বাড়াচ্ছি, নিজের মনকে প্রশান্ত করছি। তাই সপ্তাহের ছুটির দিনে অলস সময় না কাটিয়ে পরিকল্পনা করুন এ সপ্তাহে কার কার সাথে আমি দেখা করতে চাই। আজ ঘরে ফিরে প্রথম কাজটি করি – পাশের দরজায় একবার কড়া নাড়ি।
শুধু বলি, “আসালামু আলাইকুম। ভালো আছেন? যে-কোনো প্রয়োজনে নিঃসংকোচে জানাবেন, আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব।” দেখবেন, দরজার ওপাশের মানুষটির মুখে যে হাসিটা ফুটবে, সেটা অমূল্য। ধন্যবাদ সবাইকে। আসালামু আলাইকুম। আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
Compose
Write to Kabir Ahamed Linzu
