স্টাফ রিপোর্টার
“একটি সালাম দিন, শান্তির ঢেউ ছড়িয়ে দিন” বুলিং ও বিতর্ক থেকে বাঁচার ইসলামি সমাধান: সালাম
সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠায় “সালাম” বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, কুশল বিনিময় শুধু সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাই বাড়ায় না, এটি মানুষের শারীরিক, আত্মিক ও সামাজিক নিরাপত্তার পরিমাণও বৃদ্ধি করে। নবীজী (স.) ১৪শ বছর আগে যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, আজকের সমাজবিজ্ঞানীরাও সেই একই কথা বলছেন।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কেউ আপনাকে উত্ত্যক্ত করলে বা বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাইলে এর সর্বোত্তম সমাধান রয়েছে পবিত্র কোরআনে।
কোরআনের শিক্ষা: “তোমাদের প্রতি সালাম” বক্তারা সূরা ফোরকানের ৬৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “দয়াময়ের দাস তারাই যারা জমিনের ওপর নম্রভাবে চলাফেরা করে। মূর্খরা তাদেরকে কথা বলে উত্ত্যক্ত করতে চাইলে বা বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাইলে তারা বলে, তোমাদের প্রতি ‘সালাম’।”
অর্থাৎ কেউ বুলিং করতে আসলে, ঘরে-বাইরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা কর্মস্থলে কেউ উত্ত্যক্ত করতে চাইলে রাগ না করে হেসে বলুন “আসসালামু আলাইকুম”। এর মাধ্যমে বিতর্ক এড়ানো যায় এবং নিজেও শান্তিতে থাকা যায়।
সালামের জবাব স্পষ্টভাবে দিন বক্তারা সালামের জবাব দেওয়ার আদবও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সালামের জবাব শুধু হুঁ হাঁ করবেন না। একদম পরিষ্কারভাবে বলবেন, ওয়ালাইকুমুস সালাম।” সালাম ও সালামের জবাব সবসময় স্পষ্টভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সব ধর্মের মূল বাণীই শান্তি আলোচনায় বলা হয়, সালাম শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য। সব ধর্মের নির্যাসই শান্তি। সনাতন ধর্মের “ওম শান্তি” মন্ত্রের মর্মার্থ হলো “হে ঈশ্বর, জীবনের সকল বাধা-বিঘ্ন দূর করে শান্তি দান করুন”। আর মহামতি বুদ্ধের বাণী “সর্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু” অর্থ “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক”। সব বার্তার মূল কথা একই – শান্তি।
নবীজীর (স.) সুন্নত বক্তারা বলেন, নবীজী (স.) যখন কোনো সমাবেশের পাশ দিয়ে যেতেন তখন সবাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিতেন। আমরাও যেখানে যাই, বাজারে, দোকানে, কর্মস্থলে, শিক্ষাঙ্গনে সবার আগে সালাম দেব। দোকানে ঢুকেই প্রথমে দোকানদারকে “আসসালামু আলাইকুম” বলব।
“আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন, সুযোগ পেলেই আগে সালাম দেবেন। একটি সালাম দিন, শান্তির ঢেউ ছড়িয়ে দিন। এই সালাম আমাদের সমাজে ভেতর থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেবে।”
“ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন এবং সবসময় সবাইকে আগে সালাম দিন। আসসালামু আলাইকুম।”
Compose
Write to Kabir Ahamed Linzu
