1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি লাভকারি হামীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টস কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে থমকে আছে সারাদেশ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা ভক্তদের কাঁদিয়ে ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছেন দি মারিয়া কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ পুলিশও মামলা করলো কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বৈঠক সংসদে আইন পাস না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে রাষ্ট্রপতির জেলায় এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মো. আ. আহাদ

ঋণের ঐতিহাসিক বিবর্তন নিয়ে চমৎকার একটি বই Debt : The First 5000 Years ডেভিড গ্রেবার

  • সময় রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৫২ বার দেখা হয়েছে

একজন মার্কিন নৃবিজ্ঞানী; পুরো নাম ডেভিড রলফ গ্রেবার। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কে। মৃত্যু ২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, গোল্ডস্মিথ, ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন, লন্ডন স্কুল অফ ইকনোমিকসের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষকতা করেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ফ্র্যাগমেন্টস অফ অ্যান এনার্কিস্ট অ্যানথ্রপলজি, দ্য ইউটোপিয়া অফ রুলস, বুলশিট জবসের মতো বিখ্যাত বইয়ের লেখক তিনি। তবে যে বইটির জন্যে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন তা হলো ‘ডেট : দ্য ফার্স্ট ফাইভ থাউজেন্ড ইয়ার্স’।

ঋণ যে আমাদের সমাজ ও সভ্যতার জন্যে কত বড় অভিশাপ তা ২০১১ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহাসিক বিবর্তন দিয়ে লেখক আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। বইটির কিছু উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট নিয়ে এই আর্টিকেল।

ঋণের দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তন
ঋণের ইতিহাস নিয়ে বিস্তর গবেষণার আলোকে ডেভিড গ্রেবার সভ্যতা থেকে সভ্যতায় ঋণের রূপবদলকে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন। বইটির দ্য এক্সাইল এইজ, দ্য মিডিল এইজ, এইজ অফ দ্য গ্রেট ক্যাপিটালিস্ট এম্পায়ারস, বিগিনিং অফ সামথিং টু বি ডিটারমাইন্ড অধ্যায়গুলোতে সুমেরিয় সভ্যতা থেকে শুরু করে চীনা সভ্যতা, হিন্দু সভ্যতা, মুসলিম সভ্যতায় ঋণের বিবর্তনের বিবরণ রয়েছে।

ঋণের যথার্থ ব্যাখ্যা এবং ঋণ যে আমাদের সমাজ ও সভ্যতার জন্যে কত বড় অভিশাপ এটি এই পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসের বিবর্তন দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন।

ঋণ আপনাকে হয় দাস বানাবে, না হয় দুর্বৃত্ত কিংবা প্রতারক!
If you owe a bank a hundred dollars, the bank owns you; if you owe a bank a hundred million dollars, you own the bank! অর্থাৎ, তুমি যদি ব্যাংকের কাছ থেকে একশ’ ডলার ঋণ নাও তাহলে তোমার মালিক হয়ে যাবে ব্যাংক। আর যদি তুমি ব্যাংক থেকে একশ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে পারো, তাহলে তুমিই ব্যাংকের মালিক হয়ে যাবে!

এটা একটি জনপ্রিয় আমেরিকান প্রবাদ। ডেভিড গ্রেবার তার বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘অন দ্য এক্সপেরিয়েন্স অফ মোরাল কনফিউশন’-এ এই প্রবাদের আলোকে বলেছেন, ‘ঋণ আপনাকে হয় দাস বানাবে, না হয় দুর্বৃত্ত কিংবা প্রতারক।‘

দুর্বল দাস হবে, শক্তিমান হবে দুর্বৃত্ত। এর মাঝামাঝি কোনো পথ নেই!

আধুনিক মহাজন
অতীতের মহাজনী ব্যবসা এবং এখনকার সময়ের ঋণের মধ্যে কোনো তফাত নেই। আগের যে মহাজনী ব্যবসা কালক্রমে সেটাই এখন সুদী ঋণ ব্যবস্থা।

সম্প্রতি ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে ঋণদাতার চাপে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করেছে নাটোরের এক মোবাইল ব্যবসায়ী। এভাবে ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে আত্মহত্যা করা মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়!

ঋণ মানুষকে কীভাবে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করছে এবং আইএমএফসহ সকল ঋণদাতার উদ্দেশ্য কী তা ডেভিড গ্রেবার চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করেছেন তার এই বইটিতে।

ঋণগ্রস্ত কঙ্কালসার দরিদ্র্য দেশগুলো ধনী দেশগুলোকে খাওয়াচ্ছে চামচ দিয়ে!

কেবল ব্যক্তিই নয়, ঋণের শিকার জাতিরাষ্ট্রগুলোও। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো ঋণের চাপে ডুবতে থাকা শ্রীলংকা।

ধনী দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোকে কীভাবে ঋণের জালে ফেলে শোষণ করছে তা এই বইতে একটি ছবির মাধ্যমে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ঋণগ্রস্ত বৃদ্ধ কঙ্কালসার আফ্রিকা ধনী হৃষ্টপুষ্ট ফ্রান্সকে চামচ দিয়ে তুলে খাওয়াচ্ছে।

যেভাবে ঋণ চাপানো হলো বাংলার ওপর
ইংরেজরা যুদ্ধ করে জায়গা দখল করেছে, কিন্তু ঋণটা চাপিয়েছে এই বাংলার ওপরে। ১৭৫৭ সালের পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যে ঋণ ছিল তার দায়ভার বর্তেছে এই বাংলায়।

ইংরেজরা পলাশি যুদ্ধ করেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে। যুদ্ধের পরে কয়েক বছরের মধ্যেই কোম্পানি দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার দেওয়ানি লাভ করে।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মহিশুরের সাথে যুদ্ধর মধ্যে দিয়ে বাংলা দখল করলো এবং লুটপাট শুর করলো। তারপরে যুদ্ধের যে খরচ তা চাপিয়ে দিল বাংলার সরকারের ওপর।

কলোনিয়াল সরকারের ঋণচক্র
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর যখন ব্রিটেনের রাণী ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঋণ চলে গেল রানির কাছে। সেই ১৭৫৭ সালে করা ঋণ ভারত-পাকিস্তান এখনো শোধ করে যাচ্ছে!

আফ্রিকান দেশগুলোরও একই অবস্থা। তারা স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু সেই কলোনিয়াল সরকার যে ঋণ করেছে সেই ঋণ থেকে তারা এখনো বেরুতে পারেনি। এ সংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণ উল্লেখিত হয়েছে বইটিতে।

পবিত্র ধর্মবাণীতে ঋণ
ডেভিড গ্রেবার তাই বইতে আবু সায়ীদ নিসাই থেকে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েছেনঃ

“I heard the Messenger of Allah [SAW] say: ‘A’udhu billahi minal-kufri wad-dain. (I seek refuge with Allah from Kufr and debt.)’ A man said: ‘O Messenger of Allah, are you equating debt with Kufr?’ The Messenger of Allah [SAW] said: ‘Yes.'”

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, কুফর এবং ঋণ থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তখন একজন সাহাবী বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি কি ঋণ এবং কুফরকে এক করছেন? রাসূল (স) উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ!’

এছাড়া বইটিতে পবিত্র বেদ এবং বাইবেল থেকেও ঋণ সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।

লেখক একটি প্রশ্ন দিয়ে বইটির উপসংহার টেনেছেন
‘হোয়াট ইস ডেবট এনিওয়ে? এ ডেবট ইস জাস্ট এ পারভারসন অফ এ প্রমিস’।

অর্থাৎ, ঋণ মানে একটি বিকৃত প্রতিশ্রুতি।

ঋণ নিয়ে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসের বিবর্তন সংক্রান্ত কোন বইয়ের কথা স্মরণ করলেই উঠে আসবে ডেভিড গ্রেবারের নাম।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »